ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চীনে আঘাত হানলো শক্তিশালী টাইফুন বাভি, নিরাপদ আশ্রয়ে ২০ লাখ মানুষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি
print news

চীনে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন বাভি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি দেশটির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্বিতীয় টাইফুন। স্থানীয় সময় শনিবার ১১ জুলাই চীনের উপকূলীয় শহর তাইঝৌতে প্রথম আঘাত হানার পর মধ্যরাতের দিকে এটি ওয়েনঝৌ শহরের ওপর দিয়ে দ্বিতীয়বার মূল ভূখণ্ডে আছড়ে পড়ে। আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বা ৬২০ মাইল বিস্তৃত, যা আয়তনে ফ্রান্সের সমান।

ঝড়ের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ১৭ লাখের বেশি মানুষসহ উপকূলীয় এলাকা থেকে মোট ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বেইজিংয়ের কর্মকর্তারা ঝুঁকি এড়াতে আরও ১ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঝেজিয়াংয়ে সব ধরনের স্কুল, অফিস ও আউটডোর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ৪০০টি ফ্লাইট এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে।

বর্তমানে ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে তীব্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হলেও বিপদ কাটেনি। এর মেঘমালায় থাকা বিপুল জলীয় বাষ্পের কারণে পূর্ব ঝেজিয়াং এবং উত্তর-পূর্ব ফুজিয়ান প্রদেশে ব্যতিক্রমী ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

চীনে প্রবেশের আগে টাইফুন বাভি ফিলিপাইনে ব্যাপক ভূমিধস সৃষ্টি করে, যাতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর এটি জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে, যেখানে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার। সেখানে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত ঘেঁষে যাওয়ার সময় ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়েছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে আঘাত হানা টাইফুন মায়সাকের রেশ এখনো কাটেনি। মায়সাকের প্রভাবে দক্ষিণ চীনের একাংশ লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে এবং এতে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গবাদি পশু মারা যাওয়ায় কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হুবেই প্রদেশে দুটি বিরল টর্নেডোর সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ক্ষতের রেশ না কাটতেই টাইফুন বাভির এই জোড়া আঘাত চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

চীনে আঘাত হানলো শক্তিশালী টাইফুন বাভি, নিরাপদ আশ্রয়ে ২০ লাখ মানুষ

আপডেট সময় : ০২:১৯:১৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬
print news

চীনে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন বাভি। এক সপ্তাহের ব্যবধানে এটি দেশটির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দ্বিতীয় টাইফুন। স্থানীয় সময় শনিবার ১১ জুলাই চীনের উপকূলীয় শহর তাইঝৌতে প্রথম আঘাত হানার পর মধ্যরাতের দিকে এটি ওয়েনঝৌ শহরের ওপর দিয়ে দ্বিতীয়বার মূল ভূখণ্ডে আছড়ে পড়ে। আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টি প্রায় এক হাজার কিলোমিটার বা ৬২০ মাইল বিস্তৃত, যা আয়তনে ফ্রান্সের সমান।

ঝড়ের তাণ্ডব থেকে বাঁচতে চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশ থেকে ১৭ লাখের বেশি মানুষসহ উপকূলীয় এলাকা থেকে মোট ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বেইজিংয়ের কর্মকর্তারা ঝুঁকি এড়াতে আরও ১ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ঝেজিয়াংয়ে সব ধরনের স্কুল, অফিস ও আউটডোর কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া ৪০০টি ফ্লাইট এবং বেশ কয়েকটি ট্রেন পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে।

বর্তমানে ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে তীব্র গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে পরিণত হলেও বিপদ কাটেনি। এর মেঘমালায় থাকা বিপুল জলীয় বাষ্পের কারণে পূর্ব ঝেজিয়াং এবং উত্তর-পূর্ব ফুজিয়ান প্রদেশে ব্যতিক্রমী ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।

চীনে প্রবেশের আগে টাইফুন বাভি ফিলিপাইনে ব্যাপক ভূমিধস সৃষ্টি করে, যাতে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এরপর এটি জাপানের সাকিশিমা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে, যেখানে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১৪৪ কিলোমিটার। সেখানে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া তাইওয়ানের উত্তর প্রান্ত ঘেঁষে যাওয়ার সময় ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কায় হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়েছেন।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে আঘাত হানা টাইফুন মায়সাকের রেশ এখনো কাটেনি। মায়সাকের প্রভাবে দক্ষিণ চীনের একাংশ লণ্ডভণ্ড হয়ে আছে এবং এতে অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া গবাদি পশু মারা যাওয়ায় কৃষিখাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হুবেই প্রদেশে দুটি বিরল টর্নেডোর সৃষ্টি হয়েছিল। সেই ক্ষতের রেশ না কাটতেই টাইফুন বাভির এই জোড়া আঘাত চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।