ঢাকা ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকার আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন তদারকির দায়িত্বে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জামায়াত ১৬ বছর আ.লীগের ভেতরে লুকিয়ে ছিল: রাশেদ খাঁন নেতানিয়াহুকে ‘জাহান্নামে’ পাঠানোর হুঁশিয়ারি ইরানি জেনারেলের মিয়ানমারের বিরল মৃত্তিকা: চীন-ভারতের নতুন ভূরাজনৈতিক রণক্ষেত্র সবজির দাম কমলেও নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত বড়লেখা সীমান্তে বিজিবির সঙ্গে গোলাগুলি, অস্ত্র ও ইয়াবাসহ ভারতীয় আটক প্রযুক্তির যুগে দাওয়াহর সম্ভাবনা ও দাঈদের নিয়ত রক্ষার চ্যালেঞ্জ নেপাল-তিব্বত সীমান্তে আকস্মিক ঢলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭২ নেপালে ভয়াবহ বিপর্যয়: চট্টগ্রামে চরম উৎকণ্ঠায় নেপালি শিক্ষার্থীরা নেপালের বন্যা ও ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় ৩ কোটি ডলারের আবেদন রেড ক্রসের

ঢাকা মেডিকেলের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিষ্ঠানটিকে এদেশের ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবময় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েই এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ সময় তিনি সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং প্রয়াত গুণীজনদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজকে রাজধানীর মানুষের ‘সার্বক্ষণিক নির্ভরতার জায়গা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, হাসপাতালের করিডোরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আনন্দ-বেদনার গল্প তৈরি হয়। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের বিপদের বন্ধু হিসেবে চিকিৎসকদের অবস্থান। তিনি পরামর্শ দেন যে, পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মানুষ হওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার রোগীর জন্য ওষুধের মতো কাজ করে।

হাসপাতালের নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং নার্স, টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য শূন্যপদ পূরণেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘Prevention is better than cure’ বা ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’ নীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো বিষয়গুলোতে আগেভাগে স্বাস্থ্যসম্মত পরামর্শ পেলে রোগের নিরাময় অনেক সহজ হয়। নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব। এর অংশ হিসেবে সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ব্যয় কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ভাল্ব, পেসমেকারসহ ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। এ কারণে বর্তমানে ৩১ থেকে ৫১ শয্যার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশাল ও রাজশাহীর ২০০ শয্যার হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের হাত ধরেই চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকা মেডিকেলের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেট সময় : ১২:১৯:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ঢামেক) ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রতিষ্ঠানটিকে এদেশের ইতিহাসের এক অনন্য ও গৌরবময় সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়েই এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ সময় তিনি সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী, শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে শুভেচ্ছা জানান এবং প্রয়াত গুণীজনদের অবদানের কথা স্মরণ করেন।

তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজকে রাজধানীর মানুষের ‘সার্বক্ষণিক নির্ভরতার জায়গা’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, হাসপাতালের করিডোরে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের আনন্দ-বেদনার গল্প তৈরি হয়। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, মানুষের বিপদের বন্ধু হিসেবে চিকিৎসকদের অবস্থান। তিনি পরামর্শ দেন যে, পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি মানবিক মানুষ হওয়া অত্যন্ত জরুরি, কারণ চিকিৎসকের আন্তরিক ব্যবহার রোগীর জন্য ওষুধের মতো কাজ করে।

হাসপাতালের নিরাপত্তা ও সেবার মান বাড়াতে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা জোরদারে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং নার্স, টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য শূন্যপদ পূরণেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

সরকার স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ‘Prevention is better than cure’ বা ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম’ নীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। পুষ্টি, টিকাদান, মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুর স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও ক্যানসারের মতো বিষয়গুলোতে আগেভাগে স্বাস্থ্যসম্মত পরামর্শ পেলে রোগের নিরাময় অনেক সহজ হয়। নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা ও জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মাধ্যমে অনেক রোগ শুরুতেই নিয়ন্ত্রণ বা নিরাময় সম্ভব। এর অংশ হিসেবে সারাদেশে এক লাখ হেলথ কেয়ারার নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী। তিনি আরও জানান, চলতি অর্থবছরে স্বাস্থ্যখাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ। আগামী পাঁচ বছরে এই বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ব্যয় কমানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের স্টেন্ট, ভাল্ব, পেসমেকারসহ ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের ওপর ভ্যাট ও কর কমানো হয়েছে বা সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া দেশের ৫০০ উপজেলার মধ্যে বর্তমানে মাত্র পাঁচটিতে ১০০ শয্যার হাসপাতাল রয়েছে। এ কারণে বর্তমানে ৩১ থেকে ৫১ শয্যার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতাল পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বরিশাল ও রাজশাহীর ২০০ শয্যার হাসপাতালসহ মোট পাঁচটি শিশু হাসপাতাল দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতি অনুসরণের আহ্বান জানান এবং আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন প্রজন্মের চিকিৎসকদের হাত ধরেই চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখিতা বন্ধ হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin