আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচে রেফারিং বিতর্ক নিয়ে ফিফার ব্যাখ্যা
- আপডেট সময় : ০৬:৩৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা পিয়েরলুইজি কোলিনা ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে রেফারিং নিয়ে চলমান বিতর্ক, বিশেষ করে শেষ ষোলোর আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের ঘটনাগুলোর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। ফিফা ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ব্যাখ্যা প্রদান করেন।
কোলিনা বলেন, টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ৯৬টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং সামনে আরও আটটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ বাকি আছে। সামগ্রিকভাবে ফিফা রেফারিং নিয়ে সন্তুষ্ট, তবে অল্প সময়ে এত বেশি ম্যাচ আয়োজনের কারণে কিছু বিষয় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হওয়া স্বাভাবিক। এমন পরিস্থিতিতে রেফারিরা পরবর্তী ম্যাচের জন্য আরও কঠোর পরিশ্রমের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, ম্যাচ-সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা ফুটবলের অংশ হলেও ভিত্তিহীন অভিযোগের কোনো স্থান নেই। ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে তা তাদের ও তাদের পরিবারের জন্য হুমকির কারণ হতে পারে, যা ঠিক নয়।
কোলিনা আরও স্পষ্ট করেন যে, ফিফার রেফারিং কারো দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে না, এমনকি ফিফা সভাপতি দ্বারাও নয়। তিনি বলেন, ফিফা সভাপতি পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়ে তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন এবং সবসময় ফিফা টিম ওয়ানের প্রতি সমর্থন বজায় রেখেছেন। ম্যাচ কর্মকর্তারা সততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নেন এবং খেলোয়াড় ও কোচদের মতোই তারাও নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেন।
আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গোল হওয়ার পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) ‘অ্যাটাকিং পজিশন ফেজ’ (এপিপি) বা আক্রমণের শুরুর দিকটি পরীক্ষা করে দেখেন। গোলটি হওয়ার পেছনের প্রক্রিয়ায় বা বিল্ডআপে যদি কোনো ফাউল শনাক্ত হয় এবং সেটি গোলের ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে হয়, তবে ভিএআর মাঠের রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউ (ভিডিওতে পুনরায় দেখা) করার পরামর্শ দেন। ফাউলের ঘটনাটি গোলপোস্ট থেকে কত দূরত্বে ঘটেছে বা ঘটনার কতক্ষণ পর গোল হয়েছে, তার কোনো নির্দিষ্ট সময় বা দূরত্বের সীমা নেই।
মিসরের ১৯ নম্বর জার্সিধারী মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার ৬ নম্বর জার্সিধারী লিসান্দ্রো মার্তিনেজের পায়ে পাড়া দিয়েছিলেন, যা একটি স্পষ্ট ফাউল ছিল। কোলিনা বলেন, ‘ফাউল মানে ফাউল।’ মাঠের রেফারি সেটি দেখতে না পেলেও ভিএআর এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
অন্যদিকে, গোল হওয়ার আগের প্রক্রিয়ায় বা বিল্ডআপে যদি কোনো ফাউল না পাওয়া যায়, তবে ভিএআর রেফারিকে সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের পায়ে পাড়া দেওয়া নিশ্চিতভাবেই ফাউল। তবে, কোনো ডিফেন্ডার যদি আগে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন এবং এরপর প্রতিপক্ষের সঙ্গে স্বাভাবিক কোনো শারীরিক সংঘর্ষ হয়, তবে সেটিকে ফাউল ধরা হয় না। আর্জেন্টিনা-মিসর ম্যাচের শেষ দিকে মিসরের ১০ নম্বর জার্সিধারী মোহাম্মদ সালাহ এবং আর্জেন্টিনার ৯ নম্বর জার্সিধারী হুলিয়ান আলভারেজের মধ্যকার তেমনই একটি ঘটনাকে রেফারি ও ভিএআর ফুটবলে স্বাভাবিক শারীরিক সংঘর্ষ হিসেবেই গণ্য করেছেন।
কোলিনা স্বীকার করেন যে, কিছু সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি বা ব্যাখ্যার সুযোগ সব সময় থাকবে, তবে টুর্নামেন্টজুড়ে নিয়ম যেভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, তাতে ফিফা সন্তুষ্ট।
‘ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব ফুটবল হিস্ট্রি অ্যান্ড স্ট্যাটিসটিকস’–এর (আইএফএফএইচএস) বিবেচনায় টানা ছয়বার (১৯৯৮-২০০৩) ‘বিশ্বের সেরা রেফারি’ কোলিনা এখন সাবেক, তাই মাঠে আর তাঁকে বাঁশি বাজাতে দেখা যায় না।তবে ফিফার প্রধান রেফারিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ৬৬ বছর বয়সী কোলিনা।
সব মিলিয়ে আপনার মূল্যায়ন কী?কোলিনা: শুরুতেই বলা ভালো, ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের তুলনায় আমরা ইতোমধ্যে ৫০ শতাংশ ম্যাচ বেশি খেলেছি।

























