ঢাকা ০২:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সাবেক এসবি প্রধান মনিরুল ও পরিবারের ৮৩ ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের ২০২৭ সালের সভাপতি হচ্ছে পাকিস্তান অস্তিত্বের সংকটে সিরাজগঞ্জের ঐতিহাসিক বারুহাস ইমামবাড়ি ও তিন গম্বুজ মসজিদ গুলশানে অবৈধ মদের কারবার, ২৪৪ লিটার মদ ও বিয়ারসহ আটক ১ কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী যৌথ অভিযানে আটক ৫১৯ মাদারীপুরের শিবচরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় বিএনপি নেতা নিহত রাজধানীর ছয় রুটে একক কোম্পানির বাস চালুর সিদ্ধান্ত নেত্রকোনায় দুর্বৃত্তের গুলিতে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান নিহত রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দরে হুতিদের ২০ হামলায় নিহত ১৭ যুক্তরাষ্ট্রে স্কুলে বন্দুকধারীর হামলা, নিহত ৩ শিশু ও শিক্ষক

রংপুরে আগেভাগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ১১:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ৯৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর।

দুই দশক আগেও ৩৬ গন্ডায় অর্থাৎ ৩৬ হালিতে ১০০ (৪টায় ১ হালি) আম বিক্রি হতো রংপুর অঞ্চলে। বর্তমানে হালি কিংবা গন্ডার কথা মানুষ ভুলে গেছে। এ প্রজন্মের অনেকেই জানেন না গন্ডা হিসেবে আম বিক্রি একসময় ছিল এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। একসময় গন্ডা ছাড়া আম কেনাবেচার কথা ভাবাই যেত না।

বিগত বছরগুলোতে রংপুরের সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হতো ২০ জুন।

এবার দাবদাহের কারণে পাঁচ দিন এগিয়ে এনে (১৫ জুন) সোমবার করা হয়। সে অনুযায়ী গতকাল হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাত শুরু হয়েছে। মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জে এর উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আধুনিকতার ছোঁয়া এবং উৎপাদিত আমের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গন্ডার হিসাব মানুষ ভুলে গেছে। এখন শুরু হয়েছে কেজির হিসাব। প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েক বছর থেকে অনলাইনেও আমের ব্যবসা চলছে।

জানা গেছে, হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এবার বিদেশে বাণিজ্যিকভাবে এ আম রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করলেও সুমিষ্ট এ আম পাকলে তিন-চার দিনের মধ্যে খেতে হয়। তা না হলে নষ্ট হয়ে যায়। প্রবীণ আলী হোসেন মোল্লা বলেন, একসময় বৈশাখ, জৈষ্ঠ এবং আষাঢ় মাসে হরেকরকম আমে বাজার ভরপুর থাকত। শহরে যারা আম বিক্রি করতে আসত তারা পদাগঞ্জসহ অন্যান্য হাটে ৩৬ গন্ডায় ১০০ আম কিনে এনে শহরে ওই আম ৩২ গন্ডায় ১০০ বিক্রি করত। এখন হালি কিংবা গন্ডার প্রচলন উঠে গিয়ে কেজিতে আম বিক্রি হচ্ছে। ১৫-২০ বছর আগেও ৩৬ গন্ডায় ১০০ আম প্রকারভেদে ২৫-৫০ টাকায় বিক্রি হতো।

ফজলি, কেরোয়া, এছাহাক তেলি, ছাইবুদ্দিন, আশ্বিনী, সাদা ল্যাংড়া, কালা ন্যাংড়া, কলিকাতা ল্যাংড়া, মিশ্রিভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালি, সাদা রচি, চৌসা, আঁটিসহ হরেক প্রজাতির আম গন্ডা হিসেবে বিক্রি হতো। এসব আমের সংখ্যা এখন কমে গেছে।

বর্তমানে হাঁড়িভাঙা প্রজাতির আমই বাজার দখল করেছে এবং এ আমের চাহিদাই বেশি। একটি হাঁড়িভাঙা আমের ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় হাঁড়িভাঙার চাহিদা দেশব্যাপী।

তার পরেও তিনি অতীতের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু কিছু আম গন্ডা অথবা হালিতে বিক্রি হওয়া উচিত বলে মনে করেন।

বদরগঞ্জের শ্যামপুরের আম চাষি সামছুজ্জামান বলেন, এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এবার হাঁড়িভাঙা আমের অন ইয়ার। প্রচুর ফলন হয়েছে। কৃষক ভালো দাম পাবেন।’

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

রংপুরে আগেভাগে বাজারে হাঁড়িভাঙা আম

আপডেট সময় : ১১:০৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর।

দুই দশক আগেও ৩৬ গন্ডায় অর্থাৎ ৩৬ হালিতে ১০০ (৪টায় ১ হালি) আম বিক্রি হতো রংপুর অঞ্চলে। বর্তমানে হালি কিংবা গন্ডার কথা মানুষ ভুলে গেছে। এ প্রজন্মের অনেকেই জানেন না গন্ডা হিসেবে আম বিক্রি একসময় ছিল এ অঞ্চলের ঐতিহ্য। একসময় গন্ডা ছাড়া আম কেনাবেচার কথা ভাবাই যেত না।

বিগত বছরগুলোতে রংপুরের সুস্বাদু হাঁড়িভাঙা আম আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হতো ২০ জুন।

এবার দাবদাহের কারণে পাঁচ দিন এগিয়ে এনে (১৫ জুন) সোমবার করা হয়। সে অনুযায়ী গতকাল হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাত শুরু হয়েছে। মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জে এর উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এ সময় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রবীণদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আধুনিকতার ছোঁয়া এবং উৎপাদিত আমের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় গন্ডার হিসাব মানুষ ভুলে গেছে। এখন শুরু হয়েছে কেজির হিসাব। প্রতি কেজি ৫০-৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কয়েক বছর থেকে অনলাইনেও আমের ব্যবসা চলছে।

জানা গেছে, হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এবার বিদেশে বাণিজ্যিকভাবে এ আম রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশেও সুনাম অর্জন করলেও সুমিষ্ট এ আম পাকলে তিন-চার দিনের মধ্যে খেতে হয়। তা না হলে নষ্ট হয়ে যায়। প্রবীণ আলী হোসেন মোল্লা বলেন, একসময় বৈশাখ, জৈষ্ঠ এবং আষাঢ় মাসে হরেকরকম আমে বাজার ভরপুর থাকত। শহরে যারা আম বিক্রি করতে আসত তারা পদাগঞ্জসহ অন্যান্য হাটে ৩৬ গন্ডায় ১০০ আম কিনে এনে শহরে ওই আম ৩২ গন্ডায় ১০০ বিক্রি করত। এখন হালি কিংবা গন্ডার প্রচলন উঠে গিয়ে কেজিতে আম বিক্রি হচ্ছে। ১৫-২০ বছর আগেও ৩৬ গন্ডায় ১০০ আম প্রকারভেদে ২৫-৫০ টাকায় বিক্রি হতো।

ফজলি, কেরোয়া, এছাহাক তেলি, ছাইবুদ্দিন, আশ্বিনী, সাদা ল্যাংড়া, কালা ন্যাংড়া, কলিকাতা ল্যাংড়া, মিশ্রিভোগ, গোপালভোগ, আম্রপালি, সাদা রচি, চৌসা, আঁটিসহ হরেক প্রজাতির আম গন্ডা হিসেবে বিক্রি হতো। এসব আমের সংখ্যা এখন কমে গেছে।

বর্তমানে হাঁড়িভাঙা প্রজাতির আমই বাজার দখল করেছে এবং এ আমের চাহিদাই বেশি। একটি হাঁড়িভাঙা আমের ওজন ৩০০ থেকে ৪০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে। মিষ্টি ও সুস্বাদু হওয়ায় হাঁড়িভাঙার চাহিদা দেশব্যাপী।

তার পরেও তিনি অতীতের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কিছু কিছু আম গন্ডা অথবা হালিতে বিক্রি হওয়া উচিত বলে মনে করেন।

বদরগঞ্জের শ্যামপুরের আম চাষি সামছুজ্জামান বলেন, এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে। রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এবার হাঁড়িভাঙা আমের অন ইয়ার। প্রচুর ফলন হয়েছে। কৃষক ভালো দাম পাবেন।’