ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তিন মাস কাদায় বাঁধা ছিল মহিষ, উদ্ধার করলেন ইউএনও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ ক্রাউন প্রিন্সের ১৮০ দিনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঝুঁকি নিয়ে চলছে কালীগঞ্জের শতবর্ষী বিদ্যালয়ের পাঠদান জাতীয় মৎস্য পদক পেলেন নোয়াখালীর মৎস্যচাষি আলা উদ্দিন খাদ্যপণ্যে ট্রান্স ফ্যাটের সর্বোচ্চ মাত্রা ২ শতাংশ নির্ধারণ করল বিএসটিআই আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়ে জনগণই বলবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ডারউইনের মিচেল স্ট্রিটে অলস দুপুরে বাংলাদেশ দলের আড্ডা বিশ্বজুড়ে ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের মাইলফলক স্পর্শ করল স্পাইডার-ম্যান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

সুনামগঞ্জে ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনায় ভোগান্তি বেড়েছে পৌরবাসীর

ফখরুল আলম সাজু
  • আপডেট সময় : ০১:০৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফখরুল আলম সাজু

সুনামগঞ্জ জেলা ছাতক পৌরসভার নাগরিকরা বেশ কয়েক বছর ধরে নানা দুর্ভোগে ভুগছেন ।

পৌরসভাটিতে এখনও সার্বিক নাগরিক সেবা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।

পৌর এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা পৌর এলাকার সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের কারণ, এ ছাড়া বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেও ভোগান্তি বাড়াচ্ছে, দুর্বল ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়েন পৌরসভার বাসিন্দারা।

ড্রেনের ময়লা কালো পানির দুর্গন্ধে বাসা-বাড়ির লোকজনের নাভিশ্বাস উঠেছে, পৌরসভার ড্রেন গুলোর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হওয়ায় ময়লা-আবর্জনায় দ্রুত ড্রেন গুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে, যে কারণে বর্ষা মৌসুমের ভারী বর্ষণে পানিবন্দি হয়ে পড়েন বেশ কিছু এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এসব ভোগান্তি লাগবে কিছু উদ্যোগ নিলেও কমছে না দুর্ভোগ, পানিতে ভেসে ময়লা-আবর্জনায় ছড়িয়ে পড়ছে রোগ-জীবাণু।

শিল্পনগরী হিসিবে পরিচিত সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভা ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস, ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন ২৮ জন, আবর্জনা অপসারণে কাজ করছেন মাত্র ১৪ জন, অল্প লোকবলের কারণে এই সমস্যা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

সরেজমিন পৌরসভার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে ১ নম্বর সেতু পর্যন্ত যে মাস্টার ড্রেন রয়েছে, সেই ড্রেন ময়লা জমে অনেক যায়গায় ব্লক হয়ে আছে, ২ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়ারাই এলাকার ড্রেন ময়লা জমে ব্লক হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, এখানে ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকায় রাস্তার পাশের অনেক ডাস্টবিন উপচে পড়ছে বর্জ্য, একই অবস্থা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুজন মিয়া রোর্ডের শাহজালাল আবাসিক এলাকায়।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সর্দার ইয়ামিন আহমদ বলেন, তারা প্রতিটি ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না, ড্রেন পরিষ্কার করতে গিয়ে উঠে আসছে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ, অনেক ড্রেনের মধ্যে গ্যাস লাইনের পাইপ থাকায় পরিষ্কার করতে কষ্ট হচ্ছে।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ মিয়া বলেন, বাসার সামনে ড্রেনের ময়লা উপচে পড়ছে, মাঝে মধ্যে ড্রেন পরিষ্কার করলেও এক সপ্তাহের মধ্যেই ড্রেন ভরে ময়লা পানি রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে।

পৌরসভায় কর্মরত পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সঞ্চালক সুব্রত হালদার বলেন, ড্রেন গুলোতে পর্যান্ত পরিমাণের স্লাব না থাকায় দ্রুতই ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন ভরে যাচ্ছে, এ ছাড়াও অনেকেই ড্রেনে বিভিন্ন ময়লার পাশাপাশি পলিথিন ফেলার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে ড্রেন ময়লা আটকে যায়।

পৌরসভার প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক ড্রেনেজ সমস্যার বিষয়ে বলেন, প্রতি মাসেই শহর পরিষ্কার রাখার বিষয়ে বৈঠক হয়, সেখানে এসব সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করা হয়, স্বল্প জনবল দিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে শহর পরিষ্কার রাখার।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

সুনামগঞ্জে ড্রেনেজ অব্যবস্থাপনায় ভোগান্তি বেড়েছে পৌরবাসীর

আপডেট সময় : ০১:০৬:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ এপ্রিল ২০২৬

ফখরুল আলম সাজু

সুনামগঞ্জ জেলা ছাতক পৌরসভার নাগরিকরা বেশ কয়েক বছর ধরে নানা দুর্ভোগে ভুগছেন ।

পৌরসভাটিতে এখনও সার্বিক নাগরিক সেবা এখনও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি, এমনটাই অভিযোগ স্থানীয়দের।

পৌর এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা পৌর এলাকার সবচেয়ে বড় দুর্ভোগের কারণ, এ ছাড়া বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণেও ভোগান্তি বাড়াচ্ছে, দুর্বল ও অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই পানিবন্দি হয়ে পড়েন পৌরসভার বাসিন্দারা।

ড্রেনের ময়লা কালো পানির দুর্গন্ধে বাসা-বাড়ির লোকজনের নাভিশ্বাস উঠেছে, পৌরসভার ড্রেন গুলোর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অপর্যাপ্ত হওয়ায় ময়লা-আবর্জনায় দ্রুত ড্রেন গুলো ভরাট হয়ে যাচ্ছে, যে কারণে বর্ষা মৌসুমের ভারী বর্ষণে পানিবন্দি হয়ে পড়েন বেশ কিছু এলাকার কয়েক হাজার মানুষ।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ এসব ভোগান্তি লাগবে কিছু উদ্যোগ নিলেও কমছে না দুর্ভোগ, পানিতে ভেসে ময়লা-আবর্জনায় ছড়িয়ে পড়ছে রোগ-জীবাণু।

শিল্পনগরী হিসিবে পরিচিত সুনামগঞ্জের ছাতক পৌরসভা ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়, প্রথম শ্রেণির এ পৌরসভায় বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাস, ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত পৌরসভা এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কর্মী রয়েছেন ২৮ জন, আবর্জনা অপসারণে কাজ করছেন মাত্র ১৪ জন, অল্প লোকবলের কারণে এই সমস্যা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

সরেজমিন পৌরসভার এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট থেকে ১ নম্বর সেতু পর্যন্ত যে মাস্টার ড্রেন রয়েছে, সেই ড্রেন ময়লা জমে অনেক যায়গায় ব্লক হয়ে আছে, ২ নম্বর ওয়ার্ডের নোয়ারাই এলাকার ড্রেন ময়লা জমে ব্লক হয়ে গেছে।

স্থানীয়রা জানান, এখানে ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকায় রাস্তার পাশের অনেক ডাস্টবিন উপচে পড়ছে বর্জ্য, একই অবস্থা ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুজন মিয়া রোর্ডের শাহজালাল আবাসিক এলাকায়।

পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সর্দার ইয়ামিন আহমদ বলেন, তারা প্রতিটি ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেন না, ড্রেন পরিষ্কার করতে গিয়ে উঠে আসছে পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের স্তূপ, অনেক ড্রেনের মধ্যে গ্যাস লাইনের পাইপ থাকায় পরিষ্কার করতে কষ্ট হচ্ছে।

৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ফয়েজ মিয়া বলেন, বাসার সামনে ড্রেনের ময়লা উপচে পড়ছে, মাঝে মধ্যে ড্রেন পরিষ্কার করলেও এক সপ্তাহের মধ্যেই ড্রেন ভরে ময়লা পানি রাস্তায় গড়িয়ে পড়ে।

পৌরসভায় কর্মরত পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সঞ্চালক সুব্রত হালদার বলেন, ড্রেন গুলোতে পর্যান্ত পরিমাণের স্লাব না থাকায় দ্রুতই ময়লা-আবর্জনায় ড্রেন ভরে যাচ্ছে, এ ছাড়াও অনেকেই ড্রেনে বিভিন্ন ময়লার পাশাপাশি পলিথিন ফেলার কারণে অল্প সময়ের মধ্যে ড্রেন ময়লা আটকে যায়।

পৌরসভার প্রকৌশলী মো. আব্দুল মালেক ড্রেনেজ সমস্যার বিষয়ে বলেন, প্রতি মাসেই শহর পরিষ্কার রাখার বিষয়ে বৈঠক হয়, সেখানে এসব সমস্যার বিষয়ে আলোচনা করা হয়, স্বল্প জনবল দিয়ে চেষ্টা করা হচ্ছে শহর পরিষ্কার রাখার।