ঢাকা ০৭:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণআকাঙ্ক্ষা পূরণে গণমাধ্যমের কাঠামোগত রূপান্তর জরুরি: তথ্যমন্ত্রী কাপ্তাই প্রেসক্লাবের নতুন কমিটি, সভাপতি কবির সম্পাদক ঝুলন সরকারি দপ্তরে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুৎ চালুর ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর সরকারি নথিতে প্রথমবারের মতো নবম পে স্কেলের বিস্তারিত তথ্য ভূমধ্যসাগরে নিখোঁজ সুনামগঞ্জের ৮ যুবক, পরিবারে চলছে শোকের মাতম উপসচিব পদে ২৭৭ কর্মকর্তার পদোন্নতি মধুখালীতে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৫ বছরের কারাদণ্ড ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে রাখাইনের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি মিয়ানমারের নতুন পরিচয়ে যাত্রা শুরু করলো এয়ারটেল, নাম পরিবর্তন ‘সার্কেল’ কাঠমান্ডুতে যান্ত্রিক ত্রুটিতে আটকা, বিকল্প বিমানে ফিরলেন ১২৭ যাত্রী

জনবল-সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে

স্টাফ রিপোর্টার রংপুর:
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬ ২১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর:

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন যেন নামেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় পরিত্যক্ত কোনো গোয়ালঘর। ঝুঁকিপূর্ণ আধা পাকা ভবন ও তীব্র জনবল-সংকটে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে এখানকার চিকিৎসাসেবা। কয়েক হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা এই কেন্দ্রটি বর্তমানে অবহেলা ও অনিয়মের চিত্র বহন করছে।

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আধা পাকা ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে, চারপাশও অপরিচ্ছন্ন। নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। কেন্দ্রের বারান্দা ও আশপাশে গরু-ছাগল বেঁধে রাখা এবং কাঠ সংরক্ষণের দৃশ্যও দেখা গেছে। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চৈত্রকোল গ্রামের বাসিন্দা সরিফুল ইসলাম জানান, অসুস্থ হলে এই কেন্দ্রেই আগে আসতাম। কিন্তু এখন এখানে চিকিৎসক নেই। অনেক সময় ওষুধও পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে দূরের হাসপাতালে যেতে হয়।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ফিলিপ লাকড়া জানান, মাতৃসেবা বা জরুরি চিকিৎসার জন্য এই কেন্দ্রটি খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু জনবল না থাকায় সঠিকভাবে সেবা পাওয়া যায় না। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।

নিয়ম অনুযায়ী এখানে ১ জন চিকিৎসা কর্মকর্তা, ১ জন উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা, ১ জন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন অফিস সহায়ক থাকার কথা। অথচ বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১ জন ফার্মাসিস্ট। জনবল-সংকটের কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধের মুখে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের একমাত্র ফার্মাসিস্ট সোহেল রানা জানান, জনবল-সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সমস্যা সম্পর্কে আমরা অবগত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

 

জনবল-সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে

আপডেট সময় : ১২:৫১:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার
রংপুর:

রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চৈত্রকোল ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন যেন নামেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় পরিত্যক্ত কোনো গোয়ালঘর। ঝুঁকিপূর্ণ আধা পাকা ভবন ও তীব্র জনবল-সংকটে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে এখানকার চিকিৎসাসেবা। কয়েক হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাসেবার একমাত্র ভরসা এই কেন্দ্রটি বর্তমানে অবহেলা ও অনিয়মের চিত্র বহন করছে।

দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় আধা পাকা ভবনটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা গেছে, চারপাশও অপরিচ্ছন্ন। নেই কোনো সীমানা প্রাচীর। কেন্দ্রের বারান্দা ও আশপাশে গরু-ছাগল বেঁধে রাখা এবং কাঠ সংরক্ষণের দৃশ্যও দেখা গেছে। ফলে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

চৈত্রকোল গ্রামের বাসিন্দা সরিফুল ইসলাম জানান, অসুস্থ হলে এই কেন্দ্রেই আগে আসতাম। কিন্তু এখন এখানে চিকিৎসক নেই। অনেক সময় ওষুধও পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে দূরের হাসপাতালে যেতে হয়।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা ফিলিপ লাকড়া জানান, মাতৃসেবা বা জরুরি চিকিৎসার জন্য এই কেন্দ্রটি খুবই প্রয়োজনীয়। কিন্তু জনবল না থাকায় সঠিকভাবে সেবা পাওয়া যায় না। এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন।

নিয়ম অনুযায়ী এখানে ১ জন চিকিৎসা কর্মকর্তা, ১ জন উপসহকারী চিকিৎসা কর্মকর্তা, ১ জন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও ১ জন অফিস সহায়ক থাকার কথা। অথচ বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন মাত্র ১ জন ফার্মাসিস্ট। জনবল-সংকটের কারণে নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম প্রায় বন্ধের মুখে। পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগী সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের একমাত্র ফার্মাসিস্ট সোহেল রানা জানান, জনবল-সংকট ও পরিবেশগত সমস্যার কারণে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সমস্যা সম্পর্কে আমরা অবগত। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।