ঈদের কেনাকাটার পর মোবাইলে পরিচয়ের ডাকে দেখা, সংঘবদ্ধ নির্যাতনের শিকার নারায়ণগঞ্জের চার সন্তানের জননী
- আপডেট সময় : ০২:১৭:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬ ৯৪ বার পড়া হয়েছে

মোঃ ইসমাইল হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার:
নরসিংদীর মাধবদীতে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে দেখা করতে গিয়ে ৪০ বছর বয়সী এক নারী সংঘবদ্ধ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ভুক্তভোগী ওই নারী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াই হাজারের বাসিন্দা এবং চার সন্তানের জননী। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রিদয় মিয়া (৩২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকার একটি মাছের খামারের পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সকালে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে বিকেলে অভিযুক্ত রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার থানার গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মেন্ডাতলা এলাকায় বসবাস করছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি তার মেয়েকে নিয়ে আড়াইহাজার পৌরসভা এলাকার একটি মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে যান। মেয়ের জন্য ঈদের জামা কিনে ইফতারের আগেই তাকে বাসায় পাঠিয়ে দেন।
গত তিন থেকে চার দিন আগে কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের রিদয় মিয়ার সঙ্গে ওই নারীর মোবাইলে পরিচয় হয়। ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার মার্কেটে এসেছেন জানতে পেরে রিদয় তার সঙ্গে দেখা করতে চান।
পরে ওই নারী একাই অটোযোগে রাতে মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় যান। সেখানে রাস্তায় কথা বলার একপর্যায়ে রিদয় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হলে তিনি তাকে জোর করে পুকুরপাড়ে নিয়ে যান।
সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি ওই নারীকে সংঘবদ্ধ ভাবে নির্যাতন করে। পরে তার মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এ সময় ভুক্তভোগী নারী দৌড়ে পাশের একটি পাওয়ারলুম কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং শ্রমিকদের কাছে ঘটনাটি জানান। পরে বিষয়টি মাধবদী থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। অভিযোগের ভিত্তিতে মোবাইল নম্বর ট্র্যাক করে প্রধান অভিযুক্ত রিদয় মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মাধবদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে। প্রথমে ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার থানায় যোগাযোগ করলে তারা ঘটনাস্থল নরসিংদীর মধ্যে হওয়ায় আমাদের অবহিত করে। পরে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া রিদয় মিয়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। অন্য অভিযুক্তদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে পাঠানো হবে।

























