মেটার স্মার্ট চশমা নিয়ে কেন বাড়ছে গোপনীয়তার বিতর্ক?
- আপডেট সময় : ০২:০৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

স্মার্ট চশমার ব্যবহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। মুঠোফোন ছাড়াই কথা বলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নানা সুবিধা নেওয়া এবং চশমায় থাকা ক্যামেরা দিয়ে ছবি বা ভিডিও ধারণ করার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। তবে এই জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে তৈরি হয়েছে তীব্র বিতর্ক ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের উদ্বেগ। বিশেষ করে, মানুষের অজান্তে প্রকাশ্যে ভিডিও ধারণের সুযোগ থাকায় এই প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
বর্তমানে স্মার্ট চশমার বাজারে সবচেয়ে জনপ্রিয় মেটা ও রে-ব্যানের যৌথ উদ্যোগে তৈরি চশমাটি। মেটার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭০ লাখের বেশি জোড়া এই চশমা বিক্রি হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নারীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্যের প্রায় ৮০০টি পানশালা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েদারস্পুনস’ তাদের আউটলেটগুলোতে স্মার্ট চশমা দিয়ে ভিডিও ধারণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে।
বেলফাস্টের ৩১ বছর বয়সী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও নির্মাতা পিয়ার্স ভ্যালেলি মেটার রে-ব্যান স্মার্ট চশমা ব্যবহার করে রাস্তায় হাঁটার সময় পথচারীদের সঙ্গে কথোপকথন রেকর্ড করেন। বেলফাস্ট শহরের এমন একটি ভিডিও টিকটকে ৬ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়েছে। ভ্যালেলি অবশ্য দাবি করেছেন, তিনি প্রযুক্তিটি ইতিবাচক উদ্দেশ্যেই ব্যবহার করেন এবং কারও আপত্তি থাকলে সেই ভিডিও প্রকাশ করেন না। কাউকে উপহাস করার কোনো উদ্দেশ্য তার নেই বলেও তিনি জানান।
এই চশমার ক্যামেরাটি স্পর্শের মাধ্যমে চালু করা যায় এবং রেকর্ডিংয়ের সময় একটি সাদা আলো জ্বলে ওঠে, যা চারপাশের মানুষকে সতর্ক করার জন্য রাখা হয়েছে। মেটা সম্প্রতি চশমাটিতে একটি পরিবর্তন এনেছে; এখন থেকে ক্যামেরা চালু থাকার সংকেত দেওয়া আলোটিতে কোনো ধরনের কারসাজি বা ঢেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে ক্যামেরা আর কাজ করবে না। তবে সাধারণ মানুষ সবসময় ওই ছোট আলো দেখে ভিডিও ধারণের বিষয়টি বুঝতে পারেন কি না, তা নিয়ে বড় প্রশ্ন রয়ে গেছে। ভ্যালেলি জানান, অনেক সময় মানুষ আলো দেখে বুঝতে পারেন এবং সুযোগ পেলে তিনি নিজেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভিডিও করার বিষয়টি জানান।
বিতর্কের পাশাপাশি স্মার্ট চশমার ইতিবাচক ব্যবহারের দিকও রয়েছে। বেলফাস্টের চক্ষু বিশেষজ্ঞ জিওফ ম্যাককনভিলের মতে, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী প্রবীণদের জন্য এই প্রযুক্তি অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে। চশমার এআই সুবিধা ব্যবহার করে সংবাদপত্র বা রাস্তার সাইনবোর্ডের লেখা পড়ে শোনানো সম্ভব। মেটা জানিয়েছে, দৃষ্টি ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীদের জন্য এই প্রযুক্তি নতুন সুযোগ তৈরি করছে। তবে যেসব সংবেদনশীল স্থানে ভিডিও করা অনুচিত, সেখানে নিষেধাজ্ঞা থাকাকে স্বাভাবিক মনে করে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি স্পষ্ট করেছেন যে, কেউ যদি অন্যকে হয়রানি বা ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ভিডিও প্রকাশ করে, তবে সেই ভিডিও প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে।





























