আগামী এক দশকে মানবজাতিকে নিশ্চিহ্ন করতে পারে এআই, গবেষকের সতর্কতা
- আপডেট সময় : ০৭:৩৮:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুতগতির উন্নয়নের ফলে আগামী এক দশকের মধ্যে মানবজাতি পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা মার্কিন প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিকের একজন শীর্ষ গবেষক ইভান হুবিঙ্গার এই সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, এমন বিপর্যয় ঘটার আশঙ্কা ১০ শতাংশের বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে ইভান হুবিঙ্গার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে যেসব এআই মডেল রয়েছে, সেগুলোর কারণে ঝুঁকি কিছুটা কম। তবে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। খুব শিগগিরই এটি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছাবে, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজেই নিজের উন্নয়ন ঘটাতে সক্ষম হবে। আর তখনই মানবজাতির অস্তিত্বের ওপর বড় ধরনের হুমকি তৈরি হতে পারে। যদিও এই প্রযুক্তির কারণে ভবিষ্যতে ঠিক কীভাবে মানবজাতি ধ্বংস হতে পারে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা তিনি দেননি।
হুবিঙ্গারের এই মন্তব্যটি মূলত অ্যানথ্রপিকের সাবেক গবেষক জ্যাকব কক্সনের একটি এক্স পোস্টের জবাবে এসেছে। বিবিসি জানিয়েছে, কক্সন সম্প্রতি অ্যানথ্রপিক ছেড়েছেন এবং এর আগে তিনি ওপেনএআই-তেও কাজ করেছেন। কক্সন তাঁর পোস্টে অভিযোগ করেন, এআই নিয়ে কাজ করা কোনো প্রতিষ্ঠানই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। খুব দ্রুতই এগুলো এমন অতিমানবীয় সক্ষমতাসম্পন্ন সিস্টেমে পরিণত হতে যাচ্ছে, যা যেকোনো কিছু হ্যাক করতে পারবে। একই সঙ্গে যেকোনো ক্ষেত্রকে রাতারাতি আমূল বদলে দিয়ে বাস্তব ক্ষমতা ও সম্পদ অর্জন করে নিতে পারবে।
এআই গবেষকদের এমন আশঙ্কাজনক মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন জাতিসংঘকে এআই বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া কম্পিউটার বিজ্ঞানী ডেম ওয়েন্ডি হল। বিবিসি রেডিও ফোরের ‘ওয়ার্ল্ড অ্যাট ওয়ান’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, এই মন্তব্যগুলোর পেছনে হয়তো 'জনসংযোগ ও বিপণন কৌশল' লুকিয়ে থাকতে পারে। কারণ অ্যানথ্রপিক ও ওপেনএআই—উভয় প্রতিষ্ঠানই শেয়ারবাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
এদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ এআই ঝুঁকি মূল্যায়নকারী সংস্থা যুক্তরাজ্যের এআই সেফটি ইনস্টিটিউটের (এআইএসআই) কাছে নিজেদের সর্বশেষ এআই মডেলটি হস্তান্তর করেনি অ্যানথ্রপিক। তবে কর্মীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট কিংবা এআইএসআই সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।





























