জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ
- আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

আবুধাবিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। বোলিং ও ব্যাটিং—দুই বিভাগেই ইতিবাচক সূচনার পর সেই ধারা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয় টাইগাররা। জিম্বাবুয়ের দেওয়া ২৭২ রানের জবাবে খেলতে নেমে মাত্র ১৭২ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। দলের কোনো ব্যাটারই অর্ধশতকের দেখা পাননি; সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। ব্যাটিং বিপর্যয়ে মাত্র ১২৫ রানের ব্যবধানে ১০টি উইকেটের পতন ঘটে বাংলাদেশের।
২৭২ রানের তাড়ায় নেমে ইনিংসের শুরুতেই তানজিদ হাসান তামিম দ্রুত গতিতে রান তোলা শুরু করলেও আরেক ওপেনার সৌম্য সরকার সুবিধা করতে পারেননি। ১৭ বল খেলে ৯ রান করে ব্লেসিং মুজারাবানির বলে ক্যাচ দিয়ে সৌম্য বিদায় নিলে ৪৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দশম ওভারের শেষ বলে কাট শট খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন তানজিদ, তিনি ৩৮ বলে ৪৬ রান করেন। তানজিদ ফেরার মাত্র ৩ বলের ব্যবধানে শান্তও (৪) ব্রাড ইভান্সের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন।
দলীয় ৬৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে ২৯ রানের জুটি গড়েন তাওহীদ হৃদয় ও সাইফ হাসান। তবে ২১ বলে ১৩ রান করা হৃদয়কে সিকান্দার রাজার আবেদনে আম্পায়ার আউট না দিলেও রিভিউ নিয়ে সফল হয় জিম্বাবুয়ে। ৯৭ রানে হৃদয়ের বিদায়ের পর চরম ব্যাটিং ধ্বসে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ৩২ রানের ব্যবধানে পরবর্তী ৪টি উইকেট হারায় দল। ওয়েলিংটন মাসাকাদজার বলে মোসাদ্দেক হোসেন (১১) লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে আম্পায়ারের এলবিডব্লিউর শিকার হন এবং রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। এরপর মাসাকাদজার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন সাইফ (২৬)। বড় শট খেলতে গিয়ে ইভান্সের বলে বাউন্ডারিতে ক্যাচ দেন নুরুল হাসান সোহান (৫)। শরীফুল ইসলামও ৪ বল খেলে শূন্য রানে আউট হন।
১২৯ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর নবম উইকেটে রিশাদ হোসেন ও তাসকিন আহমেদ ৩২ রানের জুটি গড়ে কেবল হারের ব্যবধানই কমান। রিশাদ ৩৩ বলে ২৩ রান করে আউট হন, আর তাসকিন ১৬ রানে অপরাজিত থাকেন। মুস্তাফিজুর রহমান করেন ৬ রান। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ব্রাড ইভান্স ৪৫ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট শিকার করেন। এছাড়া সিকান্দার রাজা ২৮ রানে ২টি এবং মাসাকাদজা ১৮ রানে ২টি উইকেট নেন।
এর আগে ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ শুরুতেই দুর্দান্ত ছিল। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে তাসকিন আহমেদের তোপের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ে। নতুন বলে একাই ধস নামান তাসকিন। প্রথম ওভারেই এক ইনসুইংয়ে ব্রায়ান বেনেটকে (০) এলবিডব্লিউ করে উইকেট-মেইডেন ওভার উপহার দেন তিনি। পঞ্চম ওভারে তার বলেই এলবিডব্লিউ হন ওপেনার বেন কারান (১১ বলে ৬)। এরপর তিন নম্বরে নামা তাফাদজওয়া সিগাকেও (১৫ বলে ১৬) নিজের শিকারে পরিণত করেন তাসকিন, যার ফলে দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে রোডেশিয়ানরা।
সেই প্রাথমিক চাপ সামলে চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের এক বিশাল জুটি গড়ে জিম্বাবুয়েকে ম্যাচে ফেরান দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেগ আরভিন। দুজনেই পান ফিফটির দেখা। বিপজ্জনক এই জুটি ভাঙেন সাইফ হাসান, ৮১ রান করা টেলরকে সাজঘরে ফিরিয়ে। সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়া আরভিনকে (৯৩) আউট করেন শরীফুল ইসলাম। সিকান্দার রাজা (৪), ওয়েসলি মাধেভেরে (১৭) ও ব্রাড ইভান্স (৫) দ্রুত বিদায় নিলেও শেষ দিকে ওয়েলিংটন মাসাকাদজা এবং নিউম্যান নিয়ামহুরি দুজনেই সমান ২১ রানে অপরাজিত থেকে দলকে আড়াইশ পার করিয়ে ২৭১ রানে (৮ উইকেটে) পৌঁছে দেন। বাংলাদেশের হয়ে তাসকিন ৪৪ রানে ৩টি, শরীফুল ৪৭ রানে ২টি এবং সাইফ ১৭ রানে ২টি উইকেট লাভ করেন।




























