যুদ্ধ ও প্রতিকূলতা জয় করে এশিয়ান গেমসে ইরানের ব্রোঞ্জ জয়
- আপডেট সময় : ১১:৩০:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩: ৩০। বাড়িতে দীর্ঘদিনের যুদ্ধাবস্থা, পরিবারের অনিশ্চয়তা এবং তীব্র মানসিক চাপের মধ্যেও এশিয়ান গেমসে পুরুষদের বাস্কেটবলে ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে ইরান। রোববার নাগোয়ায় অনুষ্ঠিত স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চীনকে ৭৯-৭০ পয়েন্টে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক জয় নিশ্চিত করে ইরানি দল।
ম্যাচের প্রথমার্ধে চীন ৩১-২৯ পয়েন্টে এগিয়ে থাকলেও, তৃতীয় কোয়ার্টার থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে তুলে নেয় ইরান। এই কোয়ার্টার শেষে ইরান ৫৫-৪৬ পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে যায়। শেষ কোয়ার্টারে চীনের তীব্র আক্রমণ ও পয়েন্ট পুনরুদ্ধারের চেষ্টা সত্ত্বেও নিজেদের লিড ধরে রেখে জয় নিশ্চিত করে ইরানি বাস্কেটবল দল। এই জয়ের পরপরই কোর্টে ইরানের খেলোয়াড় ও টিম অফিসিয়ালদের মধ্যে আবেগঘন উদযাপনের দৃশ্য দেখা যায়।
ইরানের ২০২ সেন্টিমিটার বা ৬ ফুট ৮ ইঞ্চি উচ্চতার পাওয়ার ফরোয়ার্ড এবং ২০১৩ সালে প্রথম ইরানি হিসেবে এনবিএ-তে ড্রাফট হওয়া আরসালান কাজেমি জয়ের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, সত্যিই আমি পুরোপুরি বাকরুদ্ধ। ছয় মাস ধরে আমরা যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছি, আমাদের পরিবার যে কষ্টের মধ্য দিয়ে দিন কাটিয়েছে—এই মানসিক চাপ বর্ণনাতীত। বিশ্বের খুব কম অ্যাথলেটকেই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। তিনি দেশের জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তারা অনেক ভালো কিছু পাওয়ার যোগ্য এবং মানুষকে আনন্দ দেওয়ার জন্যই তিনি ও তার সতীর্থরা মাঠে মনপ্রাণ দিয়ে খেলেছেন।
দলের অন্যতম ফরোয়ার্ড আরমান জাঙ্গেনে জানান, এই পদক জয় খেলোয়াড়দের জীবনের বড় একটি পরিবর্তন আনবে। তিনি বলেন, এশিয়ান গেমসে পদক জিতলে খেলোয়াড়দের আর বাধ্যতামূলক সামরিক বাহিনীতে সেবা দিতে হয় না, যা অনেকের জন্যই অনেক বড় বিষয়। টুর্নামেন্টের কঠিন দিনগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের গত দুটি মাস ভীষণ কঠিন কেটেছে। ফিলিপাইনে কোয়ালিফায়ার খেলে সঙ্গে সঙ্গেই এখানে আসতে হয়েছে। কনটেইনারে বসবাস করা, খাবার-দাবারের সমস্যা—সবকিছু মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। তবে সবশেষে পদক নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছি, এটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
যুদ্ধ ও চরম প্রতিকূল পরিবেশ কাটিয়ে ইরানের এই ব্রোঞ্জ জয় এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে অন্যতম অনুপ্রেরণাদায়ক এক অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।





























