নাগোয়ায় এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনের অপেক্ষায় সংকট ও স্বপ্নের সংমিশ্রণ
- আপডেট সময় : ০৮:২০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

জাপানের মাটিতে ৩২ বছর পর ফিরে আসা এশিয়ান গেমসের ২০তম আসর আজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। আইচি-নাগোয়া গত এক সপ্তাহে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে আয়োজনের ফাঁকফোকর আর অ্যাথলেটদের স্বপ্ন পূরণের লড়াই পাশাপাশি অবস্থান করেছে। যদিও অ্যাথলেটদের থাকার জায়গা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন কমিটির মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে, তবুও ক্রীড়ার চাকা থেমে থাকেনি।
এবারের আসরে অ্যাথলেটস ভিলেজের প্রচলিত কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী আয়োজনের যুক্তিতে প্রায় ২,০০০ অ্যাথলেটকে কনটেইনার কেবিনে এবং ৪,০০০ অ্যাথলেটকে ইতালিয়ান প্রমোদতরী কোস্টা সেরেনায় রাখা হয়েছে। কনটেইনারগুলোর আকার নিয়ে অ্যাথলেটদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে; বিশেষ করে দীর্ঘদেহী অ্যাথলেটদের জন্য এই ছোট কেবিনগুলো অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার এক বাস্কেটবল খেলোয়াড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কক্ষের ভেতর পানি পড়ার ভিডিও প্রকাশ করেছেন। যদিও আয়োজক কমিটির সভাপতি হিদেআকি ওমুরা দাবি করেছেন যে, সাবেক অলিম্পিয়ানদের পরামর্শেই এই আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে অ্যাথলেটদের দৈনন্দিন ভোগান্তি কমেনি।
পরিবহন সংকট বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অ্যাথলেটদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনুশীলনে যাওয়ার জন্য গাড়ি সময়মতো না পাওয়া, চালকের ডিউটি শেষ হয়ে যাওয়া কিংবা ভাষাগত জটিলতার কারণে বাংলাদেশ দল একাধিকবার সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে। শেফ দ্য মিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে অভিযোগ জানানো হলেও সমস্যার পূর্ণ সমাধান হয়নি। এছাড়া চীনের জিমন্যাস্টিকস দলের বিমানবন্দরে আটকে থাকা এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও কাতার ফুটবল দলকে ভুল স্টেডিয়ামে নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
প্রকৃতির বৈরিতা নিয়েও চিন্তিত আয়োজকরা। ভারী বৃষ্টির কারণে কিছু অ্যাথলেটকে সরিয়ে নিতে হয়েছে এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলে ঝড়ের আশঙ্কায় ক্রুজ শিপে থাকা অ্যাথলেটদের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবুও নাগোয়া শহর এখন উৎসবের আমেজে সেজেছে। ৪৫টি দেশ থেকে আসা অ্যাথলেটদের পদক জয়ের লড়াই শুরু হবে ৪৩টি খেলার ৪৬৯টি ইভেন্টে। এবারের আসরে ১৭ হাজারেরও বেশি অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন, যেখানে নতুন প্রজন্মের আকর্ষণের জন্য টেকবল, প্যাডেল, মিক্সড মার্শাল আর্ট, ভার্চুয়াল তায়কোয়ান্দো ও ই-স্পোর্টসের মতো ইভেন্ট যোগ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য ক্রিকেট দলের সেমিফাইনালে ওঠা আনন্দের খবর হলেও, ফুটবল ও হকি দলের শুরুটা ভালো হয়নি। তবে অ্যাথলেটদের কাছে পদকের চেয়েও বড় বিষয় দেশের পতাকা বুকে নিয়ে মাঠে নামা। উদ্বোধনের আলো একদিন নিভে যাবে, কনটেইনার বা ক্রুজ শিপের দিনগুলোও শেষ হবে, কিন্তু অ্যাথলেটদের জয়ের লড়াইয়ের গল্পটি কেবল শুরু হতে যাচ্ছে। নাগোয়ার এই আসর শেষ পর্যন্ত ঘাম ও পরিশ্রমের হিসাবটাই মনে রাখবে।





























