বিশ্বকাপ ফাইনাল নিয়ে ষড়যন্ত্রের গুঞ্জন উড়িয়ে দিল আর্জেন্টিনা
- আপডেট সময় : ০২:৫৭:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬ ১১ বার পড়া হয়েছে

গত মাসে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ফাইনালের পর আর্জেন্টিনা দলকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ধরনের ষড়যন্ত্র-তত্ত্ব চাউর হয়েছিল। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ও খেলোয়াড়দের খেলার ধরন নিয়ে নানা সন্দেহসূচক মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছিল, যেখানে বারবার ‘কিছু একটা ঘটেছিল’ বলে গুঞ্জন তোলা হয়।
ফাইনালের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওর নেপথ্য ধারাভাষ্যে বলা হয়, ‘এক মাস আগে কিছু একটা ঘটেছিল। অনেকেই চায়নি সেটা ঘটুক, কিন্তু সেটাই ঘটল। আর্জেন্টিনা আরেকটি ফাইনালে খেলল। যদিও অনেকে এটা এড়িয়ে যেতে চান। আমরা প্রতিটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছি। ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে বিদায় করে ইতিহাস গড়েছি।’
এএফএ তাদের অফিশিয়াল বিবৃতিতে জানায়, ‘সব ধরনের আর্জেন্টিনাবিরোধী প্রচারণা সত্ত্বেও আমরা ঠিকই ফাইনালে পৌঁছেছিলাম। তাই কেউ যখন বলবে, কিছু একটা ঘটেছিল, শুধু বলবেন, হ্যাঁ। আসলে যা ঘটেছিল তা হলো, একটি দল জেতার জন্য সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। তারা শেষ পর্যন্ত লড়েছে, কখনো হাল ছাড়েনি। সবকিছু জেতার পরও এই দফায় তাদের হেরে যেতে হয়েছে।’ ভিডিওর শেষ অংশে রানার্সআপ পদক নেওয়ার পর অধিনায়ক লিওনেল মেসির কান্নার দৃশ্য দেখিয়ে ধারাভাষ্যকার বলেন, ‘আমাদের অধিনায়কের কান্না আমাদের আরেকবার শিখিয়ে দিয়েছে যে আপনি হারতে বা জিততে পারেন; কিন্তু যা-ই ঘটুক না কেন, কখনোই হাল ছাড়া যাবে না।’
এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি ফাইনাল পরবর্তী এসব ষড়যন্ত্র-তত্ত্বকে ‘নিকৃষ্ট প্রচারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাপিয়ার দাবি, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের পর একটি জঘন্য অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল এবং এমন ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল যেন আর্জেন্টিনা দল ম্যাচটি ছেড়ে দিয়েছে।
এক মাস পার হয়ে গেলেও কেউ ক্ষমা চায়নি বা নিজেদের ভুল স্বীকার করেনি বলে অভিযোগ করেন তাপিয়া। তিনি বলেন, ‘মজার ব্যাপার হলো, এক মাস পার হয়ে গেলেও কেউ ক্ষমা চায়নি। তাদের কেউ সামনে এসে বলেনি, “আমরা ভুল ছিলাম।” কারও মধ্যে সততা, মর্যাদা বা দায় নেওয়ার মতো সাহসটুকুও ছিল না।’ তাপিয়া আরও বলেন, ‘আমাদের খেলোয়াড়েরা যখন মাঠে নিজেদের উজাড় করে দিচ্ছিলেন, তখন বাইরের কিছু মানুষ ঠিক উল্টো কাজটাই করছিল। তারা ঘৃণা ছড়াচ্ছিল, বিভাজন তৈরি করছিল, কালিমা লেপন করছিল।’
এএফএ সভাপতি সতর্ক করে দেন যে এসব অভিযোগের অবশ্যই পরিণতি রয়েছে। তিনি বলেন, ‘জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের দেশদ্রোহী বলার পর আর পেছনে ফেরার উপায় থাকে না।’ কোনো প্রমাণ ছাড়া যারা স্কোয়াডের দিকে আঙুল তুলেছিল, তাদের কাছে কৈফিয়তও দাবি করেন তাপিয়া। বার্তার শেষ অংশে তিনি কোচিং স্টাফ, সহায়ক কর্মী ও খেলোয়াড়দের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বলেন, ‘যাঁরা নিজেদের সবকিছু উজাড় করে দিয়েছেন, তাঁদের কাউকে কোনো ব্যাখ্যা দিতে হবে না। ব্যাখ্যা দিতে হবে তাঁদের, যাঁরা মিথ্যা বলেছেন।’





























