স্থানীয় নির্বাচনে মুখোমুখি হচ্ছে জামায়াত ও এনসিপি
- আপডেট সময় : ০১:৩০:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় নির্বাচনের জোটবদ্ধ সমীকরণ পেরিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভিন্ন পথে হাঁটছে ১১ দলীয় জোটের অন্যতম প্রধান দুই শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে দল দুটি পৃথকভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যে ঢাকার দুই সিটিসহ দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশনে এককভাবে মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জামায়াত। একই ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপিসহ জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোও। জোটের প্রধান শরিকদের এমন মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইতিমধ্যে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত ও এনসিপি। গত ১৪ই সেপ্টেম্বর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে মহানগর উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং দক্ষিণে ডাকসুর সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েমকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে জামায়াত। অন্যদিকে, এনসিপিও ঢাকার দুই সিটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। দলটির পক্ষ থেকে ঢাকা উত্তরে মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং দক্ষিণে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের পর আসিফ মাহমুদ ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে লড়ার ঘোষণা দিলেও জামায়াত থেকে সবুজ সংকেত না পাওয়ায় নিজস্ব প্রস্তুতিতে এগোচ্ছে এনসিপি। এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদ উত্তর সিটিতে এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দক্ষিণ সিটিতে নিজেদের ভোটার এলাকা স্থানান্তর করেছেন।
জামায়াতের দলীয় সূত্র জানায়, ‘স্থানীয় নির্বাচন স্থানীয়ভাবেই হবে’—এই নীতিকে সামনে রেখে ১৩টি সিটি করপোরেশনেই এককভাবে লড়াইয়ের পরিকল্পনা নিয়েছে তারা। নিজস্ব সাংগঠনিক শক্তি ও ভোটব্যাংক যাচাইয়ের লক্ষ্যে স্থানীয় নেতাকর্মীদের সুপারিশের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে প্রায় সব সিটিতে প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর আগে গত ১১ই আগস্ট রাজশাহী সিটিতে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দলটি। তবে সব প্রার্থীর নাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে একসঙ্গে প্রকাশ করা হয়নি। এই একক সিদ্ধান্তের ফলে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নির্বাচনী ঐক্যের সঙ্গে স্থানীয় নির্বাচনের কৌশলগত দূরত্বের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই গত ২৫শে জুলাই ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে যায় খেলাফত মজলিস।
১৩টি সিটি করপোরেশনে জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন—ঢাকা উত্তরে মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণে সাদিক কায়েম, নারায়ণগঞ্জে মহানগর আমীর মোহাম্মদ আবদুল জব্বার, রাজশাহীতে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এবং গাজীপুরে ড. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান। চট্টগ্রামে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বরিশালে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলাল। খুলনায় মহানগর আমীর মাহফুজুর রহমানকে গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে, যদিও সেখানে দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নামও আলোচনায় ছিল। রংপুরে টিকিট পাচ্ছেন মহানগর আমীর এটিএম আজম khan। এছাড়া সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে আনুষ্ঠানিকভাবে নাম ঘোষণা না হলেও প্রার্থীরা প্রায় নিশ্চিত। কুমিল্লায় মহানগর আমীর মোসলেহ উদ্দিন, সিলেটে জেলা নায়েবে আমীর মাওলানা লোকমান আহমদ এবং ময়মনসিংহে মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারকে সংকেত দেওয়া হয়েছে। নবগঠিত বগুড়া সিটিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আ.খ.ম. আব্দুল মালেককে।
অন্যদিকে, এনসিপিও বেশ কয়েকটি সিটিতে তাদের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। এর মধ্যে কুমিল্লা সিটিতে জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক এডভোকেট তরিকুল ইসলাম, সিলেট সিটিতে মহানগরের আহ্বায়ক আব্দুর রহমান আফজাল এবং রাজশাহী সিটিতে মহানগর এনসিপি’র আহ্বায়ক মো. মোবাশ্বের আলীকে প্রার্থী করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক অনুষ্ঠানে জানান, ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং অনেক জায়গায় অভ্যন্তরীণভাবে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। ঢাকার দুই সিটিতে অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংগঠনিকভাবে প্রার্থী মনোনীত করা হলেও সময়মতো তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। স্থানীয় নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে এটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে, স্থানীয় নির্বাচনে প্রত্যেক দল নিজস্ব প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করবে। এখানে স্থানীয় নির্বাচনে জোটগত কোনো প্রার্থী হবে না।
এনসিপি’র নীতি নির্ধারণী ফোরামের সদস্য ও মিডিয়া উপ-কমিটির প্রধান সারোয়ার তুষার জানান, এককভাবে স্থানীয় নির্বাচন করার সিদ্ধান্তটি আগেরই নেওয়া। এর ফলে জোটে কোনো ধরনের টানাপড়েন বা খারাপ সম্পর্কের সৃষ্টি হবে না। বরং নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে এবং দল গোছানোর কাজ সহজ হবে।




























