‘লং মার্চের নামে লং ড্রাইভ করছে জামায়াত’, ঝিনাইদহে রাশেদ খাঁন
- আপডেট সময় : ০৪:১৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২ বার পড়া হয়েছে

গ্যাস ও বিদ্যুতের বর্তমান সংকটকে জাতীয় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, এই সংকট মোকাবিলায় সরকার ও বিরোধী দলের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা প্রয়োজন। কিন্তু জামায়াতে ইসলামী এই পরিস্থিতি সমাধানে সরকারকে সহযোগিতা করার পরিবর্তে লং মার্চের নামে লং ড্রাইভ করছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার তেতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাশেদ খাঁন।
জামায়াতের অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, এই জামায়াতই ১৯৯৬ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়ে আন্দোলন করেছিল। এখন তারা দেশের জ্বালানি সংকটকে পুঁজি করে আওয়ামী লীগকে বিক্ষোভ দেখানোর সাহস যোগাচ্ছে। জামায়াত আমীরকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, লং মার্চের নামে আপনাদের এই লং ড্রাইভ অবিলম্বে বন্ধ করুন।
আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ আর কখনো দেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবে না। শেখ হাসিনা মারা গেলে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো শেখ পরিবারের কোনো সদস্যও অবশিষ্ট নেই। আওয়ামী লীগের কোনো নেতা আর দেশে ফিরতে পারবেন না। দলটি এখন পঁচে গলে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং দেশের জনগণ তাদের আর কখনোই গ্রহণ করবে না।
জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করে রাশেদ খাঁন বলেন, তিনি তো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি তার বক্তৃতায় নিজেকে বড় হ্যাডমওয়ালা দাবি করে বলেছেন যে তার শক্তির কথা নাকি শেখ হাসিনাও জানতেন। আমার ইচ্ছা ছিল, আমি যদি শেখ হাসিনাকে পেতাম, তবে শফিকুল ইসলাম মাসুদের শক্তি বা হ্যাডম আসলে কতটুকু ছিল তা তার কাছে জানতে চাইতাম। তিনি অভিযোগ করেন, জামায়াত নেতারা তাদের ‘গুপ্ত বট বাহিনী’ দিয়ে বিপক্ষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের চরিত্র হনন করছে। তারা সেনাবাহিনী বা অন্য কোনো বাহিনী মানে না, কারণ তাদের কাছে তাদের নিজস্ব বট বাহিনীই সবকিছু।
দেশে চলমান সার পরিস্থিতি ও কৃষকদের ভোগান্তি নিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কোনো সার সংকট নেই। সারের ডিলাররা কৃত্রিমভাবে সার মজুত করে সংকট তৈরি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরের শাসনামলে সারের ডিলার হিসেবে কারা নিয়োগ পেয়েছিল তা সবার জানা। বর্তমান সরকার সেই সব ফ্যাসিস্ট সুবিধাভোগী ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে। একই সঙ্গে সার ব্যবসার পুরো সিস্টেমকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি কৃষকদের ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানান।
এর আগে সকাল ১০টায় তেতুলতলা মায়াধরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাশেদ খাঁন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিউদ্দীনসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।





























