সম্পত্তি হস্তান্তর আইন প্রত্যাহারের দাবিতে জামায়াতের হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় : ০৮:২৮:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইন ২০২৬-কে ‘কোরআন-সুন্নাহবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে এটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, সরকার এই আইন প্রত্যাহার না করলে তারা আন্দোলন আরও জোরদার করবে। তিনি সরকারের প্রতি দেশের আলেম-ওলামা ও ইসলামপন্থী মানুষের মতামত নিয়ে আইনটি পুনরায় পর্যালোচনার আহ্বান জানান।
সোমবার বিকেলে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ঢাকা মহানগরী শাখা আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল শেষে তিনি এ কথা বলেন। মিছিলটি কাকরাইল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সম্পত্তি দানের পর দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন—এমন বিধান রেখে ১৮৮২ সালের দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে পাস হয়। সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, এই আইন সামাজিক সমস্যা সমাধানের নামে ইসলামি বিধানকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি করেছে, যা হকদারের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সংসদে পাস হওয়া এই বিলে বিধান রাখা হয়েছে যে, পিতা-মাতা বা দাদা-দাদি তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দান করার পরও জীবিত থাকা পর্যন্ত তা ভোগ করতে পারবেন। দাতার জীবদ্দশায় গ্রহীতার মৃত্যু হলে সেই সম্পত্তি গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তরিত হবে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে বলেছিলেন, এই নতুন বিধান হেবা বা মুসলিম আইনের অন্যান্য পদ্ধতির ওপর প্রভাব ফেলবে না। তবে বিরোধী দলের আপত্তির মুখেও কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার সরকারের যুক্তি খণ্ডন করে বলেন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে ২০১৩ সালেই আইন রয়েছে, যা কঠোরভাবে প্রয়োগ করলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব। তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ফতোয়া বোর্ডসহ দেশি-বিদেশি ইসলামি বিশেষজ্ঞদের দিয়ে আইনটি যাচাইয়ের দাবি জানান। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে বিএনপি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন না করার প্রতিশ্রুতি দিলেও বর্তমান সরকার তার বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।
সমাবেশে জামায়াতের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুলসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। তারা মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত নতুন আইনকেও ‘কালো আইন’ আখ্যা দিয়ে তা বাতিলের দাবি জানান।




























