তিন বিল পাসের প্রতিবাদে সংসদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট
- আপডেট সময় : ০৩:২৮:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদে রোববার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হয়েছে। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ এবং ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ পাসের জন্য উত্থাপন করেন। এছাড়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ পাসের জন্য উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস হওয়ার সময় বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন।
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’-এ গুমকে জামিন অযোগ্য, আমলযোগ্য এবং আপসযোগ্য নয় এমন ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। বিল অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারী বা শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় কাউকে আটক বা অপহরণের পর তা অস্বীকার করলে বা তথ্য গোপন করলে তা গুম হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ভুক্তভোগী ব্যক্তি মারা গেলে বা পাঁচ বছরের বেশি নিখোঁজ থাকলে অপরাধীর মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া অপরাধীকে সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।
‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ অনুযায়ী, ২০০৯ সালের আইন রহিত করে নতুন কাঠামো গঠন করা হয়েছে। এতে একজন চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার থাকবেন, যার মধ্যে অন্তত একজন নারী ও একজন সংখ্যালঘু বা সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সদস্য থাকবেন। কমিশনকে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেয়ার ক্ষমতা এবং অভিযোগ জানানোর প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে।
‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ সংশোধন করে আজীবন ভোগস্বত্বের আইনি স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এর ফলে দাতা রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তি বা স্বামী-স্ত্রীর কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও জীবদ্দশায় তা ভোগ করার অধিকার পাবেন। সরকার জানিয়েছে, এটি মুসলিম আইনের হেবা বা অন্যান্য স্বীকৃত পদ্ধতির সাথে সাংঘর্ষিক হবে না।
বিলগুলোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা আপত্তি তুলেছেন। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বলেন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ বিল নিয়ে পরবর্তী আলোচনা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় বিরোধী দলের সদস্যরা অংশ নেননি। তিনি অভিযোগ করেন, ভুক্তভোগী, সংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিল করা হয়েছে। নাজিবুর রহমান বলেন, অধ্যাদেশ বাতিলের পর সরকার শক্তিশালী আইন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও প্রস্তাবিত বিলটি তুলনামূলকভাবে দুর্বল ও সংকীর্ণ হয়েছে। এতে প্যারিস নীতিমালা, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স অব ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস ইনস্টিটিউশনের মানদণ্ড এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দলিল যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি। এছাড়া বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’-এর বিরোধিতা করে বলেন, এই আইনটি কোরআন-সুন্নাহবিরোধী। সরকার ও বিএনপি’র পক্ষ থেকে কোরআন-সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন না করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে এই বিল পাস করা হচ্ছে। দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরামও বলেছেন, আজীবন ভোগদখলের অধিকার রেখে দানের এই বিধান ইসলামী আইনের পরিপন্থি। এতে আল্লাহর দেয়া মিরাসি বিধানকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হবে। সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য ইসলামী পারিবারিক আইনকে পাশ কাটানোর যুক্তি নেই। বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষায় ২০১৩ সালের আইন রয়েছে। এই বিলের মাধ্যমে উত্তরাধিকার ও হেবার বিধানকে পাশ কাটানোর সুযোগ তৈরি হলে এর পক্ষে ভোটদানকারীদের দায়ভার নিতে হবে। তবে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা বিলটির প্রশংসা করলেও কিছু সংশোধনের প্রস্তাব দিয়েছেন।
সম্পত্তিতে আজীবন ভোগস্বত্ব: সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬-এর মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২ সংশোধন করে আজীবন ভোগস্বত্বের আইনি স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে।এর ফলে বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং অন্যান্য যোগ্য দাতা নির্দিষ্ট রক্তসম্পর্কীয় ব্যক্তি বা স্বামী-স্ত্রীর কাছে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও জীবদ্দশায় ওই সম্পত্ত
ভিন্নমত রুমিন ফারহানার: ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ এর বিষয়ে আইনমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। পাশাপাশি সম্পত্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে কিছু সংশোধনের কথা বলেন তিনি।




























