সংসদের পাশাপাশি রাজপথে সক্রিয় এনসিপি, সামনে লংমার্চ ও মহাসমাবেশ
- আপডেট সময় : ০১:১৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদের পাশাপাশি রাজপথেও সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াতে সক্রিয় হচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের মতে, সংসদে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কার্যক্রমের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, জোটগতভাবে রাজপথে সরব থাকা এবং দলের নিজস্ব সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়ানো—এই তিন দিকেই এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন বিষয়ে জনমত গঠন করাই এসব তৎপরতার মূল উদ্দেশ্য।
সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে আগামী ৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১১-দলীয় ঐক্যের ধারাবাহিক লংমার্চ কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। প্রথম দিন ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ হবে। এরপর ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর, ১০ অক্টোবর খুলনা এবং ২৪ অক্টোবর সিলেট অভিমুখে লংমার্চ করবে ১১ দল। সবশেষে ১৪ নভেম্বর ঢাকায় একটি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এনসিপির একজন শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ঢাকার মহাসমাবেশের মাধ্যমে সরকারের কাছে একটি বড় রাজনৈতিক বার্তা দিতে চান তারা। পরবর্তী কর্মসূচি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে এবং প্রয়োজনে মহাসমাবেশ থেকেই নতুন ঘোষণা আসতে পারে।
১১-দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির পাশাপাশি এনসিপি নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী জেলা, উপজেলা ও মহানগর পর্যায়ে আলাদা কর্মসূচিও চালিয়ে যাবে। তবে দলটির নেতারা স্বীকার করছেন যে, বড় পরিসরে এককভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মতো সাংগঠনিক সক্ষমতা এনসিপির এখনো পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। সে কারণে আপাতত জোটের সঙ্গেই রাজপথে সক্রিয় থাকার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের বিভিন্ন পর্যায়ে কমিটি গঠন ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করার কাজ চলছে, যাতে ভবিষ্যতে একক রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করা যায়।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখেও প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিপি। সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্যসংখ্যক উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। ইতিমধ্যে ৫টি সিটি করপোরেশন এবং ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় দলীয় প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক এই কার্যক্রমের মাধ্যমে তৃণমূলে দলের উপস্থিতি বাড়াতে চায় তারা।
গত ১৭ আগস্ট সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন পূর্ণ হওয়ার দিনে এনসিপি সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছিল। সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি সরবরাহ, দ্রব্যমূল্য, অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে কথা বলেন দলের নেতারা। এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, বিরোধী দল হিসেবে এনসিপি এই সরকারকে জবাবদিহির মধ্যে রাখতে চায়। তাই সংসদে বক্তৃতার পাশাপাশি রাজপথের কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। এছাড়া লংমার্চে গাড়ির সংখ্যা ৫-৬ হাজারের বদলে ১ হাজারে নামিয়ে আনা হয়েছে এবং কোনো বাধা এলে জনগণই পদক্ষেপ নেবে বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।





























