ঢাকা ১০:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিশ্ববাজারে স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় পতন এআই-এর যুগেও নিজের অবস্থানে অনড় ‘লিপস্টিক কিং’ লি জিয়াকি টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের শুনানি আজ যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা, আলোচনায় বাণিজ্যসহ নানা ইস্যু টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের আবরার, পেছনে ফেললেন রশিদকে টানা সাত দিন কমল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম মহানবী (সা.)-এর ইনসাফ: মানবজাতির জন্য অনুপম আদর্শ মুকসুদপুরে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ফখরুলের আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে জল্পনা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব নেওয়ার পর শূন্য হওয়া এই আসনে এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ইতিমধ্যেই তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে নির্বাচনী মাঠে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে।

গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরের দিন ২১ আগস্ট তিনি শপথ নেন এবং এর পরদিনই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে এই আসনে ভোট সম্পন্ন করতে হবে, যদিও এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি।

আসনটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই নতুন জনপ্রতিনিধি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন এবং বড় মেয়ে মির্জা শামারুহর নাম বেশ আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত রবিবার সকালে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। স্থানীয় ভোটারদের একাংশের মতে, গত নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে জয় সহজ হলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। দল যদি যোগ্য প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আসনটি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে。

এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে রয়েছে নানা প্রত্যাশা। শহরের কলেজপাড়া এলাকার ভোটার নিবিড় সরকার বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন। একই এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল হক জানান, তারা কোনো দল বোঝেন না; এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের সুখে-দুঃখে যাকে সহজে পাশে পাওয়া যাবে, তাকেই ভোট দেবেন।

প্রার্থিতার বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘আমি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত এবং জেলা বিএনপির দায়িত্বে আছি, তাই মানুষ আমার বা অন্য কারও নাম আলোচনা করতেই পারে। তবে এই শূন্য আসনে দলের পক্ষে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেই সিদ্ধান্ত দলের হাইকমান্ড ও নীতি-নির্ধারকরাই নেবেন।’ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী জানান, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলে কোনো কোন্দল বা বিভাজন নেই। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষেই কাজ করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুলের বিশাল ভোটব্যাংক অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি বিএনপির নতুন প্রার্থীকে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। অন্যদিকে, গত নির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনের পাওয়া বড় অঙ্কের ভোটই এবার তার মূল শক্তি হিসেবে কাজ করবে, যা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘ভোট যদি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয় এবং মানুষ যদি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তবে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এবং নবগঠিত রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১১ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৳৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৪ জন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ফখরুলের আসনে বিএনপির প্রার্থী নিয়ে জল্পনা

আপডেট সময় : ১১:৪৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দায়িত্ব নেওয়ার পর শূন্য হওয়া এই আসনে এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত করতে পারেনি বিএনপি। তবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোট ইতিমধ্যেই তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে নির্বাচনী মাঠে এক ধাপ এগিয়ে রয়েছে।

গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরের দিন ২১ আগস্ট তিনি শপথ নেন এবং এর পরদিনই আসনটি শূন্য ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী শূন্য ঘোষণার ৯০ দিনের মধ্যে এই আসনে ভোট সম্পন্ন করতে হবে, যদিও এখনও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়নি।

আসনটি শূন্য হওয়ার পর থেকেই নতুন জনপ্রতিনিধি কে হচ্ছেন, তা নিয়ে সাধারণ ভোটার ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা হিসাব-নিকাশ চলছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন এবং বড় মেয়ে মির্জা শামারুহর নাম বেশ আলোচনায় রয়েছে। অন্যদিকে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে সাবেক ছাত্রশিবির সভাপতি ও জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি দেলাওয়ার হোসেনকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। গত রবিবার সকালে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছিলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। স্থানীয় ভোটারদের একাংশের মতে, গত নির্বাচনে মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার কারণে জয় সহজ হলেও এবার পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। দল যদি যোগ্য প্রার্থী দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আসনটি ধরে রাখা কঠিন হতে পারে。

এলাকার উন্নয়ন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে রয়েছে নানা প্রত্যাশা। শহরের কলেজপাড়া এলাকার ভোটার নিবিড় সরকার বলেন, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে ভোটাররা যোগ্য প্রার্থীকেই বেছে নেবেন। একই এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল হক জানান, তারা কোনো দল বোঝেন না; এলাকার উন্নয়ন এবং মানুষের সুখে-দুঃখে যাকে সহজে পাশে পাওয়া যাবে, তাকেই ভোট দেবেন।

প্রার্থিতার বিষয়ে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমীন বলেন, ‘আমি সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত এবং জেলা বিএনপির দায়িত্বে আছি, তাই মানুষ আমার বা অন্য কারও নাম আলোচনা করতেই পারে। তবে এই শূন্য আসনে দলের পক্ষে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, সেই সিদ্ধান্ত দলের হাইকমান্ড ও নীতি-নির্ধারকরাই নেবেন।’ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী জানান, প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দলে কোনো কোন্দল বা বিভাজন নেই। কেন্দ্র থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষেই কাজ করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মির্জা ফখরুলের বিশাল ভোটব্যাংক অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি বিএনপির নতুন প্রার্থীকে নিজের গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। অন্যদিকে, গত নির্বাচনে দেলাওয়ার হোসেনের পাওয়া বড় অঙ্কের ভোটই এবার তার মূল শক্তি হিসেবে কাজ করবে, যা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। বিজয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন বলেন, ‘ভোট যদি নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হয় এবং মানুষ যদি নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তবে আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।’

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এবং নবগঠিত রুহিয়া ও ভুল্লী উপজেলা নিয়ে গঠিত ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ১১ হাজার ৬২৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৳৫৬ হাজার ৫৭২ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৪ জন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin