ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ, কোথাও সরকারি কর্মকর্তা কোথাও বিএনপি নেতা
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

দেশে বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদের মোট সংখ্যা ৪,৫৮৮টি। এর মধ্যে নির্বাচনযোগ্য ইউনিয়নের সংখ্যা ৩১১টি। মেয়াদ শেষ না হওয়ায় ৪,২৩৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন করা সম্ভব নয় এবং ৪০টি ইউনিয়নে আইনি মামলা চলমান রয়েছে। সরকার চলতি বছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে এবং নির্বাচন কমিশনও সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে। সেপ্টেম্বর মাসেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে নির্বাচনের প্রস্তুতির মধ্যেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় গত দুই মাসে অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি পুরোনো ইউনিয়ন এবং ৭টি নবগঠিত ইউনিয়ন রয়েছে।
নিয়োগকৃত প্রশাসকদের তালিকায় সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদে বিএনপি নেতাদেরও প্রশাসক ও সদস্য হিসেবে বসানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দাবি, নাগরিক সেবা সচল রাখার স্বার্থেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং প্রশাসক নিয়োগে কোনো আইনগত বাধা নেই। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গত ১৭ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকারের পাঁচটি স্তরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসক নিয়োগের সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই বলে তিনি দাবি করেন। দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তালিকায় নাম থাকার কারণে তারা ব্যক্তি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত কি না, তা জানার সুযোগ মন্ত্রণালয়ের থাকে না।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পালিয়ে যাওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছিল, কিন্তু তখন দলীয় কাউকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। বর্তমানে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিভিন্ন ইউনিয়নে দলীয় লোকদের প্রশাসক হিসেবে বসানোর চেষ্টা করছেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এর আগে জুলাই মাসে সরকার ১১টি সিটি করপোরেশন, ৬৩ জেলা পরিষদ এবং ৮টি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষেও বিএনপি নেতাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল।
নিয়োগের উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হোসেন খোকনকে এবং মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার বাউশিয়া ইউনিয়নে যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য এবাদুল হককে প্রশাসক করা হয়েছে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ইউনিয়নে বিএনপি নেতা মো. নূরনবী ভুঁইয়া এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার বরিশল ইউনিয়নে জেলা বিএনপির সদস্য ফজলুর রহমান ভূঁইয়াকে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গত দুই মাসে নিয়োগ পাওয়া ৩৮ জন প্রশাসকের মধ্যে ১৯ জনই বরিশাল জেলার। বরিশালের বাকেরগঞ্জ, মুলাদি ও উজিরপুর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বিএনপির নেতাদের প্রশাসক বসানো নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও সমঝোতা না হওয়ায় অনেক ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল-৬ বাকেরগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য আবুল হোসেন খান।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইনে প্রশাসক এক মেয়াদে ১২০ দিনের জন্য নিয়োগের বিধান থাকলেও সরকার তা বাড়াতে পারে। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, নির্বাচন যেহেতু শিগগিরই হওয়ার কথা, তাই অল্প সময়ের জন্য প্রশাসক বসানোর প্রয়োজন নেই। তিনি সরকারি পদে দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ বন্ধ করে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক দিয়ে পরিষদ চালানোর প্রক্রিয়া সাধারণ মানুষের মনে নির্বাচন না হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।
তাই কে সরকারি কর্মকর্তা কে রাজনৈতিক দলের নেতা, সেটা জানার সুযোগ থাকে না।.জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পালিয়ে যান।





























