ঢাকা ০৪:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২১ ঘণ্টা আটকের পর মুচলেকায় মুক্তি পেলেন মাহদিসহ ৩ জন বাথরুমে হঠাৎ অসুস্থ হওয়ার কারণ ও সুরক্ষার উপায় শতবর্ষী দিদির জন্য ‘গাড়ি’ চাইল ৯ বছরের তুলি, উপহার দিলেন ইউএনও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ জনের মৃত্যু স্থানীয় সরকার নির্বাচন: আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে সমন্বয় সেল গঠন সৌদির আরামকো তেল শোধনাগারে ইয়েমেনি বাহিনীর ড্রোন হামলা মহাসড়কে থ্রি হুইলার চলাচলে কঠোর নিষেধাজ্ঞা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে ২৪ ঘণ্টায় ১৩৩টি সামরিক অভিযান রাঙ্গামাটিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসেবী ও ওয়ারেন্টভুক্ত ২৬ জন গ্রেফতার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট

ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের ছক ২০২৩ সালেই হাসিনাকে জানান মনিরুল

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৩০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

২০২৩ সালেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হয়েছিল যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বিগত সরকারের শেষ সময়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

মনিরুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে সরাসরি একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছিলেন। প্রায় সাত-আট পৃষ্ঠার ওই গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে একটি নতুন সরকার গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে যাদের নাম উল্লেখ ছিল, তাদের অনেকেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা, বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান বা সদস্য হয়েছেন। এমনকি প্রতিবেদনে কিছু সংবাদপত্রের সম্পাদকের নামও ছিল, যারা পরবর্তীতে হামলার শিকার হন।

সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবেদনে তিনি বয়সজনিত কারণে ড. ইউনূস সরাসরি দায়িত্বে না থেকে তার মনোনীত দুই-তিনজন প্রতিনিধির মাধ্যমে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করতে পারেন বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবেদনটি পড়ার পর শেখ হাসিনা তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘তুমি চেনো না ওনারে, ওনার মতো লোভী লোক, উনি মরার আগের দিন পর্যন্ত ক্ষমতার লোভ ছাড়বেন না। উনি নিজেই হয়ে থাকবেন, উনি নিজেই হতে চাইবেন।’ শেখ হাসিনা ড. ইউনূসকে ‘প্যাথোলজিক্যাল লায়ার’ হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন বলে মনিরুল উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে মনিরুল আরও জানান, ২০২৩ সালের মে মাসের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতি ঘোষণা করার দু-একদিন আগেই তিনি আরেকটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন যে, বড় ধরনের কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে নিজের একটি ডিভাইস থেকে উদ্ধার করা ড্রাফট কপির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে তিনি জানতে পারেন যে, তার ওই পূর্বাভাসের প্রায় ৯০ শতাংশই মিলে গিয়েছিল। তৎকালীন সরকার এই প্রতিবেদনগুলো আমলে নিলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের গাছাড়া ভাব বা আত্মতুষ্টি চলে আসে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮শে অক্টোবর বিএনপি-জামায়াতের মহাসমাবেশ নিয়ন্ত্রণে আসার পর পূর্বের নীল নকশাটি সফল না হওয়ায় তারা ধরে নিয়েছিলেন যে সরকার দীর্ঘস্থায়ী হবে।

মনিরুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি মূলত ২০১৯ সাল থেকে শুরু হয়েছিল। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি এক পর্যায়ে মন্তব্য করেন যে, এই প্রসেসটা তো শুরু হয়েছে ২০২৬ (2026) থেকে। কথিত ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তি যখন বুঝতে পারে যে ২০১৮ সালের মতো নির্বাচনের মাধ্যমে বা প্রথাগত রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে হটানো সম্ভব নয়, তখন তারা ভিন্ন পথ খোঁজে। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, কোনো পরিবর্তন আনতে হলে ছাত্র ও তরুণদের সামনে রেখে এগোতে হবে।

৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সাবেক এসবি প্রধান বলেন, জুলাইয়ের ২৬ বা ২৭ তারিখের দিকে যখন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা করেন, তখন আন্দোলনটি আর সাধারণ ছাত্রদের হাতে ছিল না। ওই সময়ে সেনাবাহিনীও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। মনিরুল দাবি করেন, সেনাবাহিনীর ভেতরে একটি ‘মিনি ডিপ স্টেট’ সক্রিয় ছিল, যা অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত। ৫ই আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক রদবদল হলেও তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিজিবি মহাপরিচালক পদে বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর একটি অংশ সরকারের আন্দোলন দমনের মূল পরিকল্পনার পেছনে ‘ছুরিকাঘাত’ করেছিল, যার ফলে রাষ্ট্রযন্ত্র এত দ্রুত ভেঙে পড়ে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের ছক ২০২৩ সালেই হাসিনাকে জানান মনিরুল

আপডেট সময় : ০৩:৩০:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

২০২৩ সালেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানানো হয়েছিল যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে একটি নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি বিগত সরকারের শেষ সময়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

মনিরুল ইসলাম জানান, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে সরাসরি একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন হস্তান্তর করেছিলেন। প্রায় সাত-আট পৃষ্ঠার ওই গবেষণাধর্মী প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে একটি নতুন সরকার গঠনের রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। সেখানে যাদের নাম উল্লেখ ছিল, তাদের অনেকেই বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা, বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান বা সদস্য হয়েছেন। এমনকি প্রতিবেদনে কিছু সংবাদপত্রের সম্পাদকের নামও ছিল, যারা পরবর্তীতে হামলার শিকার হন।

সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রতিবেদনে তিনি বয়সজনিত কারণে ড. ইউনূস সরাসরি দায়িত্বে না থেকে তার মনোনীত দুই-তিনজন প্রতিনিধির মাধ্যমে ‘জাতীয় সরকার’ গঠন করতে পারেন বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু প্রতিবেদনটি পড়ার পর শেখ হাসিনা তার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, ‘তুমি চেনো না ওনারে, ওনার মতো লোভী লোক, উনি মরার আগের দিন পর্যন্ত ক্ষমতার লোভ ছাড়বেন না। উনি নিজেই হয়ে থাকবেন, উনি নিজেই হতে চাইবেন।’ শেখ হাসিনা ড. ইউনূসকে ‘প্যাথোলজিক্যাল লায়ার’ হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন বলে মনিরুল উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকারে মনিরুল আরও জানান, ২০২৩ সালের মে মাসের শেষ দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিসা নীতি ঘোষণা করার দু-একদিন আগেই তিনি আরেকটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন যে, বড় ধরনের কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকে নিজের একটি ডিভাইস থেকে উদ্ধার করা ড্রাফট কপির সঙ্গে মিলিয়ে দেখে তিনি জানতে পারেন যে, তার ওই পূর্বাভাসের প্রায় ৯০ শতাংশই মিলে গিয়েছিল। তৎকালীন সরকার এই প্রতিবেদনগুলো আমলে নিলেও ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর গোয়েন্দা সংস্থা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনের গাছাড়া ভাব বা আত্মতুষ্টি চলে আসে। বিশেষ করে ২০২৩ সালের ২৮শে অক্টোবর বিএনপি-জামায়াতের মহাসমাবেশ নিয়ন্ত্রণে আসার পর পূর্বের নীল নকশাটি সফল না হওয়ায় তারা ধরে নিয়েছিলেন যে সরকার দীর্ঘস্থায়ী হবে।

মনিরুল ইসলামের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়াটি মূলত ২০১৯ সাল থেকে শুরু হয়েছিল। তবে সাক্ষাৎকারে তিনি এক পর্যায়ে মন্তব্য করেন যে, এই প্রসেসটা তো শুরু হয়েছে ২০২৬ (2026) থেকে। কথিত ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য শক্তি যখন বুঝতে পারে যে ২০১৮ সালের মতো নির্বাচনের মাধ্যমে বা প্রথাগত রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারকে হটানো সম্ভব নয়, তখন তারা ভিন্ন পথ খোঁজে। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেখান থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, কোনো পরিবর্তন আনতে হলে ছাত্র ও তরুণদের সামনে রেখে এগোতে হবে।

৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সাবেক এসবি প্রধান বলেন, জুলাইয়ের ২৬ বা ২৭ তারিখের দিকে যখন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা করেন, তখন আন্দোলনটি আর সাধারণ ছাত্রদের হাতে ছিল না। ওই সময়ে সেনাবাহিনীও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। মনিরুল দাবি করেন, সেনাবাহিনীর ভেতরে একটি ‘মিনি ডিপ স্টেট’ সক্রিয় ছিল, যা অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত। ৫ই আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন সেক্টরে ব্যাপক রদবদল হলেও তিন বাহিনীর প্রধান এবং বিজিবি মহাপরিচালক পদে বহাল থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর একটি অংশ সরকারের আন্দোলন দমনের মূল পরিকল্পনার পেছনে ‘ছুরিকাঘাত’ করেছিল, যার ফলে রাষ্ট্রযন্ত্র এত দ্রুত ভেঙে পড়ে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin