শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের আদালত
- আপডেট সময় : ১১:৩১:০৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। তবে ভারতের শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই প্রত্যর্পণের বিষয়ে কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দেশটির আদালত।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের কাছে এক শীর্ষ ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, শেষ পর্যন্ত প্রত্যর্পণের বিষয়টি আদালতের হাতেই থাকবে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এটি খতিয়ে দেখা হবে যে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে যেসব অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা ভারতীয় আইনেও অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত কি না।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্রসহ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রত্যর্পণের অনুরোধটি পাঠানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
২০১৩ সালের চুক্তি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি বিচারিকভাবে দণ্ডিত বা বিচারের মুখোমুখি হলে প্রত্যর্পণের বাধ্যবাধকতা তৈরি হতে পারে। যদিও রাজনৈতিক অপরাধ সাধারণত এর আওতার বাইরে থাকে, তবে হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো ১২টি অপরাধকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে গণ্য না করার বিধান রয়েছে। এছাড়া ভারতের প্রত্যর্পণ আইন-১৯৬২ অনুযায়ী, কোনো ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক ভিত্তি যাচাই করা হতে পারে।
এদিকে শেখ হাসিনা নিজেই চলতি বছরের ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। গত ৫ আগস্ট এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরেই তিনি দেশে ফিরতে চান। বর্তমানে শেখ হাসিনা বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত এবং তার দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর থেকে তার প্রত্যর্পণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।




























