ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে সরকার ৬৫.৪ মিলিয়ন পাউন্ডে বার্সেলোনায় যোগ দিচ্ছেন রদ্রি মিরপুরে লর্ডসের ব্যালকনির আদলে ‘টাইগার্স ডেন’ লাউঞ্জের উদ্বোধন তারেক রহমানের ছয় মাস: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির সমীকরণ ব্যবসায়ীর সঙ্গে বিয়ের গুঞ্জনে নীরব নায়িকা পূজা চেরী সড়ক ও বাঁধ রক্ষায় বিন্নি ঘাস ব্যবহারের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে কমিটি জ্বালানি সংকট নিরসনে ৯০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জামায়াতের শেয়ারবাজারে মার্জিন ঋণের নতুন নীতিমালা ও শর্তাবলী জারি দুই স্ত্রীর হাতাহাতির ঘটনায় জ্ঞান হারালেন মিশরের কোচ হোসাম হাসান মেলান্দহে ইয়াবাসহ কৃষকদল নেতা আটক, দল থেকে বহিষ্কারের পর কারাগারে

জ্বালানি সংকট নিরসনে ৯০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জামায়াতের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চলমান বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের কাছে ৯০ দিনের মধ্যে বিরোধী দলের দেওয়া কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের দেওয়া ১০ দফা সুপারিশ গত ২১ মে থেকেই সরকারের হাতে রয়েছে। তাই নতুন করে পরিকল্পনা তৈরির চেয়ে বিদ্যমান সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

রবিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ৯০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকট-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ জমা দেন। পরে ৭ জুন জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এসব সুপারিশ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সংকট সমাধানে সরকারের সামনে করণীয় সম্পর্কে কোনো ঘাটতি নেই।

জামায়াতের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে দ্রুত ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ, স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি। পাশাপাশি সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) দ্রুত কার্যকর, জ্বালানি সরবরাহে ডিজিটাল মনিটরিং এবং রুফটপ সোলার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে সমুদ্রে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কিংবা বড় পাইপলাইন নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপের ওয়ার্কওভার শুরু, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ, ভোলার গ্যাস অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় ব্যবহার, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, গ্যাস বণ্টনের সময়সূচি প্রকাশ এবং এসপিএম ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব। তিনি বলেন, শুধু নতুন এফএসআরইউ নির্মাণের মাধ্যমে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর সঙ্গে এলএনজি আমদানির সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং বিদ্যমান পাইপলাইন অবকাঠামোর সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সংকট মোকাবিলায় একটি ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠন, জরুরি ওয়ার্কওভারের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ও ট্যারিফ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ এবং জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের স্থায়ী ব্যবস্থা করারও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া মহেশখালী ও পায়রার টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতি এবং খুলনার খালিশপুরে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু না হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত।

দলটির পক্ষ থেকে সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ‘পরিকল্পনা দিন’ আহ্বানের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, পরিকল্পনা ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে আছে। তিনি বিরোধী দলের ১০ দফা ও সংসদীয় বিশেষ কমিটির ১২ দফাকে সামনে রেখে অবিলম্বে একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো গঠনের আহ্বান জানান। তার প্রস্তাব, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করে ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতির বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হোক।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din

নিউজটি শেয়ার করুন

জ্বালানি সংকট নিরসনে ৯০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জামায়াতের

আপডেট সময় : ০১:২৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

চলমান বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের কাছে ৯০ দিনের মধ্যে বিরোধী দলের দেওয়া কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির দাবি, সংকট মোকাবিলায় বিরোধী দলের দেওয়া ১০ দফা সুপারিশ গত ২১ মে থেকেই সরকারের হাতে রয়েছে। তাই নতুন করে পরিকল্পনা তৈরির চেয়ে বিদ্যমান সুপারিশগুলো দ্রুত বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।

রবিবার (১৬ আগস্ট) রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। তিনি লিখিত বক্তব্যে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ৯০ দিনের মধ্যে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরেন। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গত ২১ মে জাতীয় সংসদের জ্বালানি সংকট-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের সদস্যরা লিখিতভাবে ১০ দফা সুপারিশ জমা দেন। পরে ৭ জুন জ্বালানিমন্ত্রী সংসদে ওই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমেও এসব সুপারিশ প্রকাশিত হয়েছে। ফলে সংকট সমাধানে সরকারের সামনে করণীয় সম্পর্কে কোনো ঘাটতি নেই।

জামায়াতের প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়াতে দ্রুত ওয়ার্কওভার, ভোলা, জামালপুর ও জকিগঞ্জের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার উদ্যোগ, স্থল ও সমুদ্রভাগে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার এবং বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি। পাশাপাশি সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) দ্রুত কার্যকর, জ্বালানি সরবরাহে ডিজিটাল মনিটরিং এবং রুফটপ সোলার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ৯০ দিনের মধ্যে সমুদ্রে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কিংবা বড় পাইপলাইন নির্মাণ সম্ভব নয়। তবে দ্রুত ফলদায়ক গ্যাসকূপের ওয়ার্কওভার শুরু, বন্ধ ও কম উৎপাদনশীল কূপের তালিকা প্রকাশ, ভোলার গ্যাস অন্তর্বর্তী ব্যবস্থায় ব্যবহার, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, গ্যাস বণ্টনের সময়সূচি প্রকাশ এবং এসপিএম ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা কার্যকর করা সম্ভব। তিনি বলেন, শুধু নতুন এফএসআরইউ নির্মাণের মাধ্যমে গ্যাস সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর সঙ্গে এলএনজি আমদানির সক্ষমতা, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং বিদ্যমান পাইপলাইন অবকাঠামোর সক্ষমতাও বিবেচনায় নিতে হবে।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সংকট মোকাবিলায় একটি ‘ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি এনার্জি সেল’ গঠন, জরুরি ওয়ার্কওভারের অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ও ট্যারিফ-সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ এবং জরুরি দরপত্র মূল্যায়নের স্থায়ী ব্যবস্থা করারও প্রস্তাব দিয়েছে দলটি। এ ছাড়া মহেশখালী ও পায়রার টার্মিনাল প্রকল্পের অগ্রগতি এবং খুলনার খালিশপুরে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু না হওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন তুলেছে জামায়াত।

দলটির পক্ষ থেকে সরকার, বিরোধী দল, পেট্রোবাংলা, বাপেক্স, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), প্রকৌশলী, ব্যবসায়ী ও স্বাধীন জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ‘পরিকল্পনা দিন’ আহ্বানের জবাবে জামায়াতের সেক্রেটারি বলেন, পরিকল্পনা ২১ মে থেকেই সরকারের কাছে আছে। তিনি বিরোধী দলের ১০ দফা ও সংসদীয় বিশেষ কমিটির ১২ দফাকে সামনে রেখে অবিলম্বে একটি যৌথ বাস্তবায়ন কাঠামো গঠনের আহ্বান জানান। তার প্রস্তাব, সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে নিয়মিত পর্যালোচনার ব্যবস্থা করে ৯০ দিন পর জাতীয় সংসদে অগ্রগতির বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হোক।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Dainik Ei Din