ইসির কাছে ৯ দফা দাবি জানাল জামায়াতে ইসলামী

- আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক বৈঠকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করেছে। বুধবার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের নেতৃত্বে দলটির একটি প্রতিনিধিদল কমিশনের সঙ্গে এই আলোচনায় অংশ নেয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য করার লক্ষ্যেই এই দাবিগুলো জানানো হয়েছে বলে মিয়া গোলাম পরওয়ার সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন। এর আগে ৩০ জুন জামায়াতের পক্ষ থেকে সাতটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যার সঙ্গে আজ আরও দুটি নতুন দাবি যুক্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়। গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, সামসুল আলম বিএনপির নির্বাচনী আসন পুননির্ধারণ কমিটির সদস্য ছিলেন এবং তাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, 'ইসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তির নিয়োগ নির্বাচনকে নিরপেক্ষ করার ক্ষেত্রে একটি বড় বাধা।' এ সময় ইসি কর্মকর্তাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, নিয়োগের বিষয়টি তারা জানতেন না—এমন কথা বলায় কমিশনের অসহায়ত্বই ফুটে উঠেছে।
দাবিগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণ অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব পুনর্বিবেচনা করা। জামায়াত নেতা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করা নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী ও বৈষম্যমূলক। এ ছাড়া নিষিদ্ধ ঘোষিত দলের পদধারী নেতাদের এবং বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবিও জানানো হয়েছে। জামায়াতের দাবি, প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া মানেই নির্বাচনকে প্রভাবিত করা।
নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকারি মন্ত্রীদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত। গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় মন্ত্রীরা একেক রকম তারিখ ঘোষণা করছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রাম-২ আসনের বিএনপির সারওয়ার আলমগীরের গেজেট প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক চাপে পড়ে কমিশন অস্বাভাবিক দ্রুততায় এই পদক্ষেপ নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইসি একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক সংস্থা হওয়া সত্ত্বেও তারা তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছে, যা আমরা বিনয়ের সাথে তাদের নজরে এনেছি।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সদস্যপদ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, বিষয়টি স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ারভুক্ত। আজকের বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ এবং ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। জামায়াত প্রতিনিধিদলে ছিলেন ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দীন সরকার এবং অ্যাডভোকেট শিশির মোহাম্মদ মনির।




























