হবিগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দিল পুলিশ, রাস্তায় নেতাদের অবস্থান

- আপডেট সময় : ০৬:৩৩:০৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি থাকার প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতাদের বহনকারী গাড়িবহরকে জেলার প্রবেশমুখে আটকে দিয়েছে পুলিশ। বুধবার বিকালে বাহুবল উপজেলার মুছাই নামক এলাকায় তাদের গতিরোধ করা হয়। পুলিশের বাধার মুখে এনসিপি নেতারা গাড়ি থেকে নেমে রাস্তায় অবস্থান নেন। বৃষ্টির মধ্যে তারা প্রায় এক ঘণ্টা ধরে রাস্তায় বসে প্রতিবাদ জানান।
হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ জানান, হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি থাকায় নিরাপত্তার স্বার্থেই এনসিপি নেতাদের জেলায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপির আহ্বায়ক সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের প্রথমবার আটকে দিলেও তারা ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যান।
মঙ্গলবার হবিগঞ্জ শহরে এনসিপির জুলাই পদযাত্রার সভা শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের হামলায় সারজিস আলমসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। ওই ঘটনায় এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়ি ভাঙচুর করা হয় এবং তারা সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। পরে পুলিশ রাত ৮টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। এই ঘটনার জেরে সৃষ্ট উত্তেজনার কারণে বুধবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। জেলা সদরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাহিদ উদ্দিন তারেক জানান, তাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছিল। তবে প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করায় তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে কর্মসূচি থেকে সরে এসেছেন। তিনি আরও বলেন, তারা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরবেন। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনীতির সমালোচনার শিষ্টাচার থাকা দরকার, কিন্তু অপরপক্ষ অশালীন বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। সদর মডেল থানার ওসি মো. জাহিদুল হক জানান, মঙ্গলবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি এবং বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
পরে এনসিপি নেতারা রাস্তায় বসে পড়েন। তারা ১ ঘণ্টা যাবত বৃষ্টির মধ্যে রাস্তায় বসে আছেন।
পরে পুলিশ গিয়ে রাত ৮টার দিকে তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। রাত ১১টায় সারজিস আলম মৌলভীবাজারের উদ্দেশে রওনা হন।



























