সৌদিতে প্রবাসী সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর, টাঙ্গাইলে স্বজনদের বিলাপ
- আপডেট সময় : ০৪:০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

সৌদি আরবে এক বাংলাদেশি নারী পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। নিহত সুইটি আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মো. ফজল মিয়া ও জহুরা বেগম দম্পতির মেয়ে। বিচার বা মৃত্যুদণ্ডের কোনো তথ্য পরিবারের কাছে প্রকাশ না করলেও গত ১৩ই অক্টোবর সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে শেষবারের মতো ফোনে কথা বলেন সুইটি। সেই ফোনালাপের মাত্র দুই দিন পরই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর পৌঁছায় টাঙ্গাইলের গ্রামের বাড়িতে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বোনের মধ্যে সুইটি ছিলেন সবার ছোট। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় প্রথম বিয়ের পিঁড়িতে বসলেও সেই সংসার বেশিদিন টেকেনি। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতেই আশ্রয় নেন তিনি। পরবর্তী সময়ে পরিবারের চাপে দ্বিতীয়বার তার বিয়ে হয়। তবে জামাতাকে বিদেশ পাঠাতে পরিবার ধারদেনা করলেও সৌদি আরবে গিয়ে সুইটির দ্বিতীয় স্বামী সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। একপর্যায়ে ৯ বছর বয়সী শিশুকন্যাকে এক বোনের জিম্মায় রেখে বাবার সংসারের অভাব দূর করতে প্রবাসে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুইটি। তার মেয়েটি স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।
২০২৩ সালের মার্চ মাসে একটি এজেন্সির মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজ নিয়ে সৌদি আরবে যান সুইটি আক্তার। তবে সেখানে যাওয়ার মাত্র ছয় মাসের মাথায় তাকে গ্রেপ্তার করে দেশটির পুলিশ। সে সময় সুইটি স্বজনদের জানিয়েছিলেন, তার সঙ্গে কাজ করা অন্য নারীরা অবৈধভাবে একটি গাড়ি কেনায় তাদের পাশাপাশি তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কারাবন্দি থাকা অবস্থায় শুরু থেকেই মা-বাবার সঙ্গে সুইটির নিয়মিত যোগাযোগ হতো। তবে একপর্যায়ে টানা এক বছর তাদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ ছিল না।
দীর্ঘ বিরতির পর সুইটি পুনরায় ফোনে যোগাযোগ শুরু করেন এবং জেলেই অবস্থান করছেন বলে জানান। ফোন করতে দেরি হলেও স্বজনদের অহেতুক দুশ্চিন্তা না করার পরামর্শ দেন তিনি। এভাবে আরও চার মাস অতিবাহিত হওয়ার পর ১৩ই অক্টোবর মঙ্গলবার মাগরিবের নামাজের পর বাবার সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। কিন্তু সে দিনও নিজের ওপর চলা কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া বা চূড়ান্ত সাজা নিয়ে পরিবারকে কিছুই জানাননি তিনি। দুই দিন পর সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংবাদ আসে বাড়িতে।
মঙ্গলবার সুইটির গ্রামের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড়। ঘরের বারান্দায় বসে অঝোরে কাঁদছিলেন তার মা-বাবা। কান্নায় ভেঙে পড়ে সুইটির মা জহুরা বেগম বলেন, ‘আমি কেমনে বাঁচুম রে, আমার সুইটিরে আইনা দ্যাও রে। মা তুই কতো দুঃখ পাইয়া গেছস, কেউর কাছে কইলি না। আমার কাছেও কইলি না…আমার মাইয়ার লাশ আইনা দাও। আমি ওরে দেহুম।’ সুইটির বাবা ফজল মিয়া ও বড় চাচাতো বোন সালমা আক্তার স্পষ্ট জানান, সুইটি সৌদিতে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পরিবার কোনোভাবেই বিশ্বাস করে না। অন্তত মেয়ের মরদেহটি শেষবারের মতো দেখার জন্য দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।



























