নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১২ জনের প্রাণহানি, আহত ৩২
- আপডেট সময় : ০৩:৪৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১৬ বার পড়া হয়েছে

মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার বনপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের সামনে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৩২ জন। বিপরীত দিক থেকে আসা বালুবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে আরপি স্পেশাল পরিবহনের একটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। বাসটি বরগুনা থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল।
নিহতদের মধ্যে রয়েছেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালি গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম (৪০) ও তাঁর আট বছর বয়সী মেয়ে তাছফিয়া খাতুন। তারা পূজার ছুটি কাটাতে রাজশাহী যাচ্ছিলেন। শহিদুল ইসলাম ব্র্যাক ব্যাংকের মাগুরা শাখার ক্রেডিট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ দুর্ঘটনায় শহিদুলের স্ত্রী রুবিনা আক্তার (৩৬) ও ছেলে লাবিব হোসেন (১০) গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। রুবিনা নিজে পূবালী ব্যাংকের সুবিদখালি শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। রুবিনার ভগ্নিপতি শহিদুর রহমান জানান, তারা রাজশাহীতে স্বজনদের বাসায় যাচ্ছিলেন, কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সব পরিকল্পনা শেষ হয়ে গেল। রুবিনা বর্তমানে বনপাড়া পাটোয়ারী ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন থাকলেও তিনি এখনো তাঁর স্বামী ও সন্তানের মৃত্যুর খবর জানেন না।
দুর্ঘটনায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পাঁচ ব্যবসায়ীও প্রাণ হারিয়েছেন। তারা হলেন জুয়েল মাদবর (৪০), সালাল মোল্যা (৪৫), সোহাগ শিকদার (৩০), আবদুস সামাদ ফকির (৭০) ও শাহিন ব্যাপারী (২৫)। তারা কৃষিপণ্যের বীজ ও মালামাল কেনার জন্য রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার তাহেরপুরে যাচ্ছিলেন। জাজিরার কাজীরহাট বাজার থেকে যাত্রা শুরু করা এই ব্যবসায়ী দলের সাতজনের মধ্যে পাঁচজনই ঘটনাস্থলে বা হাসপাতালে মারা গেছেন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও তিনজনের মৃত্যু ঘটে। নিহত ব্যবসায়ীদের মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার বিষয়ে কাজীরহাট বণিক সমিতির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে স্থানীয়ভাবে তাদের শ্রদ্ধা জানিয়ে দাফনের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন বড়কান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর খলিফা।




























