রংপুরে বাইক চোর চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৬, ৮টি বাইক উদ্ধার
- আপডেট সময় : ১১:৪৯:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

রংপুর নগরীর তাজহাট থানা এলাকায় একটি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে একটি সংঘবদ্ধ বাইক চোর চক্রের সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। চক্রের মূল হোতা শাহিন মিয়াসহ মোট ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই অভিযানে তাদের কাছ থেকে আটটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত প্রত্যেক আসামির বিরুদ্ধে পূর্ব থেকেই থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত ৫ অক্টোবর বিকেলে। ওই দিন তাজহাট থানার আলহাজ্বনগর দর্শনা গ্রামে আবদুল ওহাবের বাসার মূল ফটকের সামনে থেকে ৪০ বছর বয়সী গোলাম রব্বানীর একটি ১৫০ সিসির অ্যাপাচি মোটরসাইকেল চুরি হয়ে যায়। চুরির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি তাজহাট থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেন।
মামলার পর অভিযানে নামে পুলিশ। গত ১৯ অক্টোবর নগরীর মডার্ন মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে চোর চক্রের মূল সর্দার শাহিন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই আরও চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৩৫ বছর বয়সী শিমুল মন্ডল, রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কাজীরপাড়ার ৩৫ বছর বয়সী মিলন মিয়া, জাহাঙ্গীরাবাদ এলাকার ২৮ বছর বয়সী হাসান মিয়া এবং ভগবানপুরের ৩২ বছর বয়সী রাশেদ প্রধান। তাদের কাছ থেকে গোলাম রব্বানীর চুরি যাওয়া বাইকসহ মোট পাঁচটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা রংপুরে সক্রিয় এই চোর চক্রটির নেটওয়ার্ক ও কাজের ধরণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। সেই তথ্যের সূত্র ধরে রিমান্ডে থাকা আসামিদের সাথে নিয়ে রংপুরের মিঠাপুকুর ও পীরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
দ্বিতীয় দফার এই অভিযানে গত ২০ অক্টোবর রাত সাড়ে ১১টার দিকে পীরগঞ্জ থানার শানেরহাট বাজার এলাকা থেকে চক্রের আরেক সদস্য ২৬ বছর বয়সী মো. রাসেল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি শানেরহাট দামোদরপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরবর্তীতে রাসেলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তিনটি নিবন্ধনহীন চোরাই পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ফলে এই মামলায় মোট আটটি চোরাই বাইক উদ্ধার করতে সমর্থ হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই চোর চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে কৌশল খাটিয়ে মোটরসাইকেল চুরি করে আসছিল। চুরি করা বাইকগুলো একটি গোপন জায়গায় জমা রেখে কিছু দিন পর কম দামে বিক্রি করে দেওয়া হতো। গত দুই মাস ধরে টানা নজরদারি ও কাজ চালিয়ে চক্রটিকে চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, রংপুর অঞ্চলের মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেটের মূল হোতা শাহিন মিয়াসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রিমান্ড শেষে পাঁচ আসামিকে বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে এবং নতুন গ্রেপ্তার রাসেল মিয়াকেও আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া চক্রের অন্য সহযোগীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

























