ঢাকা ০১:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা: আবেগঘন বিদায় রংপুরে বাইক চোর চক্রের মূল হোতাসহ গ্রেপ্তার ৬, ৮টি বাইক উদ্ধার প্রশান্ত মহাসাগরে রেকর্ড তাপমাত্রা বৃদ্ধির শঙ্কা, সতর্ক করল জাতিসংঘ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা-বাগেরহাট সফর আগামীকাল: মোংলা বন্দর ও বেজা ইকোনমিক জোন পরিদর্শন এবার শীতের তীব্রতা ও স্থায়িত্ব কম হতে পারে: অধিদপ্তর হুতি হামলার মুখে সৌদি আরবে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ ভাড়া ও বিমার খরচ ৫০% বাড়ল দৌলতখানে স্বেচ্ছাসেবক দলের লিফলেট বিতরণ, অতিরিক্ত মুনাফা বন্ধের আহ্বান পীরগঞ্জে পঞ্চগড় এক্সপ্রেসের ধাক্কায় বৃদ্ধের মৃত্যু ভোটার তালিকায় ‘মৃত’ কামতা প্রসাদ, নাম ফেরাতে লড়ছেন দিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কখনো আত্মসমর্পণ করবে না ইরান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা: আবেগঘন বিদায়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:১০:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ১৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা ও উৎসব শেষে বুধবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। এ সময় বিসর্জনস্থলগুলোতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রাজধানীর পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দুপুর থেকেই ঢাকঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্য ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা। পরে নৌকায় নদীর মাঝখানে নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়। দেবীর কাছে মঙ্গল কামনার পাশাপাশি অনেক ভক্তকে নদীর পানি নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের শরীরে ছিটিয়ে নিতে দেখা যায়।

বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। শোভাযাত্রা ও বিসর্জনস্থলে সোয়াট, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলও সার্বক্ষণিক নিয়োজিত ছিল।

এদিকে, চট্টগ্রাম নগরেও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে মূল আয়োজন শুরু হয়। এছাড়াও অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমণি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জিত ট্রাকে প্রতিমা নিয়ে পতেঙ্গা সৈকতে আসেন ভক্তরা। দেবীকে বিদায় জানানোর আগে তারা প্রতিমায় তেল, সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিবেদন করেন। ঢাকের তালে নাচ-গান ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে বিসর্জনস্থল। বিদায়ের মুহূর্তে অনেক ভক্তের চোখে ছিল অশ্রু। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সুশৃঙ্খলভাবে বিসর্জন সম্পন্ন করতে নির্ধারিত ঘাটগুলোতে পৃথক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পতেঙ্গা সৈকত ও আশপাশের সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়।

উল্লেখ্য, হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি ৩ দিন বাড়িয়েছিল। ফলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিনের ছুটি উপভোগ করা গেছে। দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষকেও একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রতিমা বিসর্জনে শেষ হলো শারদীয় দুর্গাপূজা: আবেগঘন বিদায়

আপডেট সময় : ১২:১০:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী পূজা-অর্চনা ও উৎসব শেষে বুধবার রাজধানী ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। এ সময় বিসর্জনস্থলগুলোতে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

রাজধানীর পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাটে বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। দুপুর থেকেই ঢাকঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্য ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা নিয়ে বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে প্রতিমা নিয়ে আসেন ভক্তরা। পরে নৌকায় নদীর মাঝখানে নিয়ে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করা হয়। দেবীর কাছে মঙ্গল কামনার পাশাপাশি অনেক ভক্তকে নদীর পানি নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের শরীরে ছিটিয়ে নিতে দেখা যায়।

বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীতে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। শোভাযাত্রা ও বিসর্জনস্থলে সোয়াট, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলও সার্বক্ষণিক নিয়োজিত ছিল।

এদিকে, চট্টগ্রাম নগরেও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। বিকেল ৩টা থেকে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে মূল আয়োজন শুরু হয়। এছাড়াও অভয়মিত্র ঘাট, কালুরঘাট ও উত্তর কাট্টলীর রানী রাসমণি ঘাটে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে আলোকসজ্জিত ট্রাকে প্রতিমা নিয়ে পতেঙ্গা সৈকতে আসেন ভক্তরা। দেবীকে বিদায় জানানোর আগে তারা প্রতিমায় তেল, সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিবেদন করেন। ঢাকের তালে নাচ-গান ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে বিসর্জনস্থল। বিদায়ের মুহূর্তে অনেক ভক্তের চোখে ছিল অশ্রু। চট্টগ্রামসহ সারাদেশে সুশৃঙ্খলভাবে বিসর্জন সম্পন্ন করতে নির্ধারিত ঘাটগুলোতে পৃথক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পতেঙ্গা সৈকত ও আশপাশের সড়কে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়।

উল্লেখ্য, হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার এ বছর নির্বাহী আদেশে দুর্গাপূজার ছুটি ৩ দিন বাড়িয়েছিল। ফলে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যোগ হয়ে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা ৫ দিনের ছুটি উপভোগ করা গেছে। দুর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবই নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসব হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অন্য ধর্মের মানুষকেও একত্রিত করে, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহ্যকে তুলে ধরে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin