সাইবার আইনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় হুমকি দেখছে লা ফুনেত্র দ্য পারিস
- আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশের প্রস্তাবিত সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশোধনী এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের নতুন কাঠামো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ‘লা ফুনেত্র দ্য পারিস’। ২০২৬ সালের খসড়া সাইবার আইনের বিভিন্ন ধারা বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই আইনের অস্পষ্ট ধারা, বিচারিক তদারকি ছাড়া কনটেন্ট বন্ধের ক্ষমতা এবং পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের বিধান স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
প্যারিসভিত্তিক এই সংগঠনটি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেছে, খসড়া কাঠামোয় জামিন অযোগ্য অপরাধের কঠোর বিধান বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ‘গুজব’ ও ‘ভুল তথ্যের’ মতো অস্পষ্ট শব্দকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিষয়টিও উদ্বেগজনক। সংস্থাটির মতে, কনটেন্ট বন্ধের ক্ষেত্রে আগাম বিচারিক তদারকি বাতিল এবং কর্তৃপক্ষকে পরোয়ানা ছাড়া ব্যাপক ক্ষমতা প্রদানের ফলে সাইবার জগতে অনিয়ন্ত্রিত নজরদারি ও নিপীড়নের ঝুঁকি তৈরি হবে। এতে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলো স্ব-আরোপিত সেন্সরশিপে বাধ্য হতে পারে এবং সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট ও মানবাধিকারকর্মীদের নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
সংস্থাটি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে মুক্ত গণমাধ্যম রক্ষায় তাদের আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। তারা সর্বজনীন মানবাধিকার ঘোষণাপত্রের ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদ এবং নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে জানায়, যেকোনো বিধিনিষেধ অবশ্যই স্পষ্ট আইনের ভিত্তিতে হতে হবে, যার পেছনে বৈধ উদ্দেশ্য থাকবে এবং তা প্রয়োজনীয় ও আনুপাতিক হতে হবে। রাজনৈতিক সমালোচনা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে সাইবার অপরাধের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার মতো অস্পষ্ট আইনি বিধান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করে না বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সম্পাদক পরিষদ ও সুশীল সমাজের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে সংস্থাটি সরকারের প্রতি সাইবার আইনকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আগে বিচারিক অনুমোদনের ব্যবস্থা পুনর্বহাল, সাইবার অপরাধের স্পষ্ট আইনি সংজ্ঞা নির্ধারণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক সমালোচনার সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি।



























