এআই প্রযুক্তির ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ তদারকি করলেন কিম জং উন
- আপডেট সময় : ০৫:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন তার মেয়ে জু আয়েকে সঙ্গে নিয়ে নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণ কার্যক্রম তদারকি করেছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই ক্ষেপণাস্ত্রটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা এর গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা নিশ্চিত করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, শনিবার ভোরে পূর্ব উপকূলীয় শহর ওয়ানসানের নিকটবর্তী এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। এটি ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ অতিক্রম করেছে। তবে এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়া বিস্তারিত আর কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
কিমের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং এর আগে দাবি করেছিলেন যে, এআই প্রযুক্তির কারণে ক্ষেপণাস্ত্রটি 'কম উচ্চতায় নিজের গতিপথ পরিবর্তন করতে সক্ষম'। এর ফলে এই হামলা ‘এড়ানোর কোনো উপায় নেই’ বলেও দাবি করেন তিনি। কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) কিম জং উনের বরাত দিয়ে জানায়, এই মহড়ার মাধ্যমে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের পেশাগত দক্ষতা ও পাল্টা হামলার প্রস্তুতি প্রদর্শন করেছে। কিম বলেন, "আমাদের কৌশলগত আক্রমণাত্মক সক্ষমতার নির্ভরযোগ্যতা ও প্রাণঘাতী ক্ষমতা সম্পর্কে শত্রুকে বারবার এবং ক্রমাগত উপলব্ধি করাতে আমাদের দায়িত্বশীল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।"
কেসিএনএ কর্তৃক প্রকাশিত ছবিতে কিম জং উনকে তার স্ত্রী রি সোল জু এবং মেয়ে জু আয়ের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা গেছে। ছবিতে রি সোল জুকে হাততালি দিতেও দেখা যায়। ২০২২ সালে জনসমক্ষে আসার পর থেকে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অনুষ্ঠানে জু আয়ের উপস্থিতি বাড়ায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাকে কিমের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচনা করছে।
কেসিএনএ জানিয়েছে, 'হাইপারসনিক কৌশলগত অস্ত্র ব্যবস্থা' পরিচালনাকারী সেনাদের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করা হয়।
এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটল যখন দক্ষিণ কোরিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চরমে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি অনুযায়ী, ডিমিলিটারাইজড জোনে (ডিএমজেড) একটি বিস্ফোরণে তাদের তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় পিয়ংইয়ংয়ের কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছিল সিউল। তবে উত্তর কোরিয়া গত মাসের ওই বিস্ফোরণের দায় অস্বীকার করেছে এবং শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়াকে ‘জঘন্য’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এর ফলে দক্ষিণ কোরিয়ার বেসামরিক নেতৃত্ব দুই দেশের মধ্যে আবারও সংলাপ শুরুর যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।



























