ঢাকা ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বাংলাদেশ-আফগানিস্তান টেস্টের সঙ্গে থাকছে চ্যাম্পিয়নস লিগের জমজমাট লড়াই ঢাকা-দিল্লি বাণিজ্য আলোচনা: অমীমাংসিত রয়ে গেল পুরনো সব বাধা শরীয়তপুরে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকার, ১৫ জেলে আটক অভিনেত্রী নাসিমা খান আর নেই: ‘বড় বোনকে হারালাম’ সুচন্দা সৌদিতে মৃত হানিফের মরদেহ ফেরাতে মায়ের আকুতি: ‘মোর মানিকেরে কোলে দাও’ সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের সঙ্গে যোগাযোগ, ৪ দিনের রিমান্ডে দুই সাবেক সেনা কর্মকর্তা ডেঙ্গুতে ৩০০ মৃত্যু: প্রশাসনিক ব্যর্থতা নাকি সুশাসনের ঘাটতি, প্রশ্ন আইনজীবীর সুনামগঞ্জে এমপির ডিও লেটারে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ সৌদি আরব কেন হুতিদের সামরিকভাবে পরাজিত করতে পারছে না মক্কা-মদিনার নিরাপত্তায় হুমকি এলে বাংলাদেশ পাশে থাকবে: শামা ওবায়েদ

দাবি আদায়ে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:২৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবারও শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা ঘোষণা দেন যে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন কর্মসূচি চলমান থাকবে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের ফলে শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। জানা গেছে, প্রশাসনিক ভবনে টানা ৩৫ ঘণ্টা বন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেও, মূল ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে তালা ঝুলিয়ে রাখায় তারা এখনো ক্যাম্পাস থেকে বের হতে পারছেন না।

প্রায় ২০ বছর আগে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি শুরু থেকেই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়ে আসছেন। তাদের মূল দাবি হলো, কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি সাস্ট’ হিসেবে রূপান্তর করা। শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৫ সালে শিক্ষা উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গত ২১শে জানুয়ারি কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ই ই ই বিভাগের তানভীর আহমদ এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফাহাদ ফয়সাল। তারা স্পষ্ট জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং মন্ত্রণালয়ের কোনো রদবদল বা আদেশ তারা মেনে নেবেন না। শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজটিকে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে, অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত তা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সোমবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী তিন মাসের মধ্যে কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু এবং বিজ্ঞানাগার ও খেলার মাঠের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। এছাড়া, শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামানের বদলির প্রজ্ঞাপন বাতিলেরও দাবি জানান, তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি প্রশাসন। কোনো সমঝোতা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। কলেজ অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান জানান, ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা এখনো কাটেনি এবং ফটকে তালা থাকায় কেউ বের হতে পারছেন না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

দাবি আদায়ে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের অনির্দিষ্টকালের আন্দোলন

আপডেট সময় : ০৭:২৭:২৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। মঙ্গলবারও শিক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা ঘোষণা দেন যে, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন কর্মসূচি চলমান থাকবে। শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের ফলে শিক্ষক ও কর্মকর্তারা ক্যাম্পাসের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন। জানা গেছে, প্রশাসনিক ভবনে টানা ৩৫ ঘণ্টা বন্দি থাকার পর মুক্তি পেলেও, মূল ফটকসহ বিভিন্ন স্থানে তালা ঝুলিয়ে রাখায় তারা এখনো ক্যাম্পাস থেকে বের হতে পারছেন না।

প্রায় ২০ বছর আগে সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই কলেজটি শুরু থেকেই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবস্থার পরিবর্তন চেয়ে আসছেন। তাদের মূল দাবি হলো, কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ‘ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি সাস্ট’ হিসেবে রূপান্তর করা। শিক্ষার্থীরা জানান, ২০২৫ সালে শিক্ষা উপদেষ্টার নেতৃত্বে গঠিত একটি কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী গত ২১শে জানুয়ারি কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ই ই ই বিভাগের তানভীর আহমদ এবং সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ফাহাদ ফয়সাল। তারা স্পষ্ট জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সকল একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এবং মন্ত্রণালয়ের কোনো রদবদল বা আদেশ তারা মেনে নেবেন না। শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজটিকে পৃথক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে হবে, অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত তা না হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন ও সিটি প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী সোমবার বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগামী তিন মাসের মধ্যে কলেজটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু এবং বিজ্ঞানাগার ও খেলার মাঠের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়। এছাড়া, শিক্ষার্থীরা কলেজের অধ্যক্ষের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. আসাদুজ্জামানের বদলির প্রজ্ঞাপন বাতিলেরও দাবি জানান, তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত দিতে পারেনি প্রশাসন। কোনো সমঝোতা না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। কলেজ অধ্যক্ষ মো. আসাদুজ্জামান জানান, ক্যাম্পাসের অচলাবস্থা এখনো কাটেনি এবং ফটকে তালা থাকায় কেউ বের হতে পারছেন না।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin