মাদকের টাকার জন্য শিশুকন্যাকে বিক্রি, গাইবান্ধায় বাবা গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধায় মাদকের টাকা জোগাড় করতে নিজের ১৩ মাস বয়সী মেয়ে ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগে বাবা হামিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ঘটনার প্রায় দুই মাস পর অভিযান চালিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা হামিদুলসহ মোট চারজনকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন। গ্রেপ্তার হওয়া অন্য ব্যক্তিরা হলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের আব্দুল মজিদ সরকার (৩৬), ফুলছড়ি উপজেলার মদনেরপাড়া গ্রামের মোর্শেদা খাতুন (৪৫) ও একই গ্রামের জেসমিন আক্তার (২৮)।
পুলিশ জানায়, রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় ডিবি পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের শুরুতে সাদুল্লাপুরের সারবাজার এলাকা থেকে হামিদুল ইসলামকে আটক করা হয়। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ছোট ওমরপুর এলাকা থেকে বাসের হেলপার আব্দুল মজিদ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে ফুলছড়ির মদনেরপাড়া এলাকা থেকে মোর্শেদা খাতুন ও জেসমিন আক্তারকে আটক করা হয়। মোর্শেদার তথ্যের ভিত্তিতে ফুলছড়ির মদনেরপাড়া ছলের মোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে উদ্ধার করা হয়।
শিশুটির মা রুমানা খাতুনের অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে হামিদুল তার মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর বাবা ও সন্তান আর ফিরে আসেনি। রুমানার দাবি, ঘটনার দুই দিন পর হামিদুল ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ১০ হাজার টাকা দাবি করেন এবং টাকা দিতে না পারলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে টাকা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় হামিদুলের মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। রুমানা খাতুন শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০০ ধারায় আবেদন করেন। আদালত আবেদন আমলে নিয়ে গত ২৭ আগস্ট হামিদুলের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুল ও রুমানার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই মাদকের টাকা জোগাড় করতে হামিদুল স্ত্রীকে নির্যাতন করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্তান জন্মের পর পরিস্থিতির অবনতি হলে রুমানা মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান। পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটিকে বর্তমানে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


























