কুমিল্লায় অপহৃত কিশোর অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার, আটক ৩
- আপডেট সময় : ০২:৪৪:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ১৩ বছর বয়সী এই কিশোর শুক্রবার দুপুরে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লার কোটবাড়ি-সানন্দা এলাকার একটি নির্জন পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত অপ্রতিম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান ছিলেন। পরিবারটি কোটবাড়ি-গন্ধমতী এলাকায় বসবাস করতো। ছেলের মরদেহ উদ্ধারের পর মা ড. নাহিদা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমি কোনো বিচার চাই না, আমাকে এর উত্তর দিতে হবে। আমার ছোট্ট একটা ছেলে, সে কী অন্যায় করেছে?” স্থানীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
এ ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তুহিন নামের একজনকে আটক করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহিম আহমেদ ও আনাস নামে আরও দুইজনকে আটক করা হয়েছে। তুহিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি রকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, তারা অনেকটা নিশ্চিত যে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম জানান, সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিন নামের এক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন যে, প্রকৃত হত্যাকারীদের না ধরা পর্যন্ত তাদের একাধিক টিম কাজ চালিয়ে যাবে।
এদিকে, ঘটনার প্রতিবাদে ও দ্রুত বিচারের দাবিতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছেন। তারা অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে ১২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, দাবি পূরণ না হলে বিশ্ববিদ্যালয় অচল করে দেওয়া হবে। অপ্রতিমের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।





























