মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েনের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করলো যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০৪:২৩:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

পৃথিবীর কক্ষপথে মহাকাশ অস্ত্র মোতায়েন করার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে তাদের এই আক্রমণাত্মক সামরিক সক্ষমতা থাকার কথা জানালো। মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মিঙ্ক জানিয়েছেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো বৈরী তৎপরতা থেকে মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখার লক্ষ্যেই কক্ষপথে এই ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা জরুরি ছিল। সোমবার এক নিরাপত্তা সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, যেকোনো পরিবর্তনশীল হুমকির জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র সম্পূর্ণ প্রস্তুত। তবে এই অস্ত্রের ধরন বা এটি কবে কক্ষপথে পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পরপরই মহাকাশে অস্ত্রের প্রতিযোগিতা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে বেইজিং। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অবিলম্বে বিরত থাকা উচিত।
মার্কিন কর্মকর্তারা এই অস্ত্র পরিচালনার প্রযুক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রেখেছেন। দেশটির স্পেস ফোর্সের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক উভয় কৌশল ব্যবহার করা হতে পারে। এর মাধ্যমে শত্রুপক্ষের সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত বা নষ্ট করা, এমনকি প্রয়োজনে পুরোপুরি ধ্বংস করার সক্ষমতাও অন্তর্ভুক্ত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সামরিক কমান্ডের নির্দেশ অনুযায়ী আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক উভয় কাজেই এই সক্ষমতা ব্যবহার করা সম্ভব।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথের হুমকি ঠেকাতে তাদের প্রস্তাবিত গোল্ডেন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় মহাকাশভিত্তিক এ প্রযুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ২০১৯ সালে আমেরিকান স্যাটেলাইট ও মহাকাশ সম্পদ রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে স্পেস ফোর্স গঠন করা হয়েছিল। গত বছর প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প স্পেস ফোর্সকে কেবল সুরক্ষাই নয়, বরং আক্রমণাত্মক বাহিনী হিসেবে কাজ করারও নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক চুক্তি অনুযায়ী মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ। তবুও যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া এবং চীন দীর্ঘদিন ধরে শত্রুর স্যাটেলাইট বিকল বা নজরদারি করার প্রযুক্তি তৈরি করছে। চলতি বছরের শুরুতে জানা যায়, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার দুটি স্যাটেলাইট অন্তত এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের তথ্য গোপনে নজরদারি করেছে। এছাড়া ২০২৪ সালেও রাশিয়ার এমন একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নিয়ে সতর্ক করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মতে, চীন ও রাশিয়া মহাকাশকে ভবিষ্যতের যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে আধিপত্য বিস্তারে কাজ করছে।




























