মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে আমদানিনির্ভর দেশগুলো জ্বালানি সংকটে: প্রেসিডেন্ট
- আপডেট সময় : ০৪:০৮:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

বঙ্গভবনে বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত ড. জলিল রহিমি জাহানাবাদি। গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট জানান, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলো তীব্র জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এ সময় তিনি সংলাপ, সমঝোতা ও কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে যেকোনো বিরোধ নিষ্পত্তির পক্ষে বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রেসিডেন্টের প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে ইরানের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে ইরানের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে পাঠানো একটি অভিনন্দনপত্র হস্তান্তর করেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে বাংলাদেশের গঠনমূলক ভূমিকার প্রশংসা করেন। এছাড়া ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের অংশগ্রহণের বিষয়টি তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধে ইরানে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন। ইরানের সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে সে দেশের মাটিতে ইসরায়েলি হামলার তীব্র নিন্দা জানান তিনি। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মুসলিম উম্মাহর ঐক্যের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রেসিডেন্ট।
বাংলাদেশ ও ইরানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট বলেন, ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যকার নিবিড় যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করে এই সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, যাকে বাংলাদেশ অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। ফেরদৌসি, হাফিজ, শেখ সাদি ও জালাল উদ্দিন রুমির মতো প্রখ্যাত পারস্য কবি ও মনীষীদের সাহিত্যকর্ম এ অঞ্চলের মানুষের চিন্তা ও সংস্কৃতিতে গভীর প্রভাব ফেলেছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গানেও ইরানের মানুষের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ফুটে উঠেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রেসিডেন্ট ইরানি রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং আশা করেন যে, তার এই কার্যকাল দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে ভূমিকা রাখবে। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সচিববৃন্দ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ইরানি দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।























