নভেম্বরের নির্বাচনের পর ইরান যুদ্ধ শেষ হবে, দাবি ট্রাম্পের
- আপডেট সময় : ১১:০৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে শেষ হচ্ছে না। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) টেক্সাসের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই যুদ্ধের অবসান ঘটবে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, ততদিনে ইরান আর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় থাকবে না।
নিজ দল রিপাবলিকান পার্টির প্রথম সম্মেলনে যোগ দিতে টেক্সাসে যাওয়ার পথে ট্রাম্প এই মন্তব্য করেন। আগামী নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমছে বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
জ্বালানি তেলের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারে উঠে গেছে, যা গত জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। তিনি জানান, যুদ্ধ শেষ করতে নির্বাচনের সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ইরান মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্যমতে, তেহরান এমন একটি দুর্বল সরকার ক্ষমতায় আনতে চায়, যারা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সুযোগ দেবে। তবে ইরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ইরানের সঙ্গে নতুন করে আলোচনার বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা সম্ভব হলেও আপাতত এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না।
ট্রাম্পের প্রথম দিকের পূর্বাভাস ছিল, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে। কিন্তু সংঘাত এরই মধ্যে সপ্তম মাসে গড়িয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি, পণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে তাঁর জনপ্রিয়তা কমেছে। এছাড়া সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিভিন্ন তেল স্থাপনায় হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রভাব ফেলছে।
বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি তেলবাহী জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে দুটি মার্কিন নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ার ও আটটি তেলবাহী জাহাজে তারা হামলা চালিয়েছে এবং এতে জাহাজগুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর আগের দিন ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুথিরা সৌদি আরবের কয়েকটি তেল স্থাপনায় ধারাবাহিক হামলা চালালে সেখানে আগুন ধরে যায়।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ার পর নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।


























