মাহবুব উদ্দিন খোকনের আচরণ সঠিক ছিল না, সংসদে বললেন আইনমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১০:০৪:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এবং বিচারপতির এজলাস ত্যাগের বিষয়টি জাতীয় সংসদে আলোচিত হয়েছে। এ নিয়ে বিরোধী দলের এক সংসদ সদস্য বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুললে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ব্যারিস্টার খোকনের ওই আচরণ সঠিক ছিল না। তবে এই ঘটনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের তিন বিভাগের ক্ষমতার পৃথকীকরণ বা 'সেপারেশন অব পাওয়ার' তত্ত্বটি খাটবে না। তিনি মন্তব্য করেন, বার ও বেঞ্চের সম্পর্কটি একটু ভিন্ন রকমের।
বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান। সে সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এর জের ধরে প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের সব বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন এবং সেদিন আর আদালতে ফিরে আসেননি। একজন আইনজীবী সত্য গোপন করে রিট করায় তাকে জরিমানা করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।
ব্যারিস্টার খোকনকে সরকারি দলের একজন প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে নাজিবুর রহমান বলেন, এ ধরনের ঘটনা জনগণের কাছে কী বার্তা পৌঁছাচ্ছে, তা ভাবা প্রয়োজন। বিগত ফ্যাসিবাদী আমলে প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছিল। ফলে সাধারণ মানুষের মনে আশঙ্কা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি রাষ্ট্রের তিন প্রধান অঙ্গ—আইন, বিচার ও শাসন বিভাগের একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার না করার বিষয়ে আইনমন্ত্রীর কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য দাবি করেন।
ডেপুটি স্পিকারের আমন্ত্রণে বক্তব্য দিতে উঠে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদ সদস্য যে সেপারেশন অব পাওয়ার বা ক্ষমতার পৃথকীকরণের তত্ত্ব দিয়েছেন, তা এই ঘটনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ ব্যারিস্টার খোকন সেখানে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বার অ্যাসোসিয়েশন রাষ্ট্রের প্রধান তিনটি অঙ্গের কোনোটিরই অংশ নয়, এটি একটি অনানুষ্ঠানিক বা ইনফরমাল বডি। তারা মূলত জনগণের অংশ এবং তিনি সেই জনগণের অংশ হিসেবেই সেখানে ছিলেন। তবে আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, তিনি ওই আইনজীবীর কাজকে কোনোভাবেই জাস্টিফাই বা সমর্থন করছেন না।
বার ও বেঞ্চের সম্পর্কের গভীরতা বোঝাতে গিয়ে আইনমন্ত্রী প্রবীণ আইনজীবীদের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ এবং ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের মতো জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের মধ্যেও আদালতে তুমুল বিতর্ক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে দেখা গেছে। কিন্তু এজলাস থেকে বের হয়েই তারা আবার একসঙ্গে চা পান করতেন। এটিই বার ও বেঞ্চের চিরন্তন সম্পর্কের রূপ।
বর্তমান পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধান বিচারপতি যেভাবে কোর্ট থেকে উঠে গিয়েছিলেন, তাতে স্পষ্টই মনে হয়েছে ওই আইনজীবীর আচরণ সঠিক ছিল না। মনে হয়েছিল আদালত অবমাননার প্রক্রিয়া (কনটেম্পট প্রসিডিংস) শুরু হবে। তবে আজ সকাল ৯টায় প্রধান বিচারপতি যথারীতি এজলাসে বসে কাজ শুরু করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবীও স্বাভাবিকভাবে তার আদালতে মামলা পরিচালনা করেছেন। ভবিষ্যতে কোনো দায়িত্বশীল নাগরিক এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন না বলে আশা প্রকাশ করেন আইনমন্ত্রী।

























