২৪ ঘণ্টার পর আটকের তথ্য গোপন করলে গুমের অপরাধ: ট্রাইব্যুনাল
- আপডেট সময় : ০১:৫০:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের আওতায় কোনো ব্যক্তিকে আটকের ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার পরও যদি তার তথ্য গোপন রাখা হয়, তবে তা গুমের অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া আটকের স্থান পরিবারকে না জানানো কিংবা তাকে আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করাও এই অপরাধের অন্তর্ভুক্ত হবে। সোমবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
চিফ প্রসিকিউটর নতুন এই আইনকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ থাকলেও তার কার্যকর প্রয়োগ ছিল না। নতুন আইনে গুমের একটি সুস্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আইন অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। এই সময়সীমার পর আটকের বিষয়টি গোপন রাখা, আটকের স্থান না জানানো, আইনগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা বা স্বাধীনতা হরণ করা হলে, ২৪ ঘণ্টা পর থেকে যে সময় পর্যন্ত এসব করা হবে, সেটি গুমের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
তিনি আরও জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য গুমের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার পাশাপাশি সহযোগিতা বা প্ররোচনায় যুক্ত থাকলেও আইনের আওতায় আসবেন। এছাড়া ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া যাবে।
ট্রাইব্যুনালের সামনে থাকা পুরোনো অভিযোগগুলোর বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, এতদিন সুস্পষ্ট আইনের অভাবে এগুলো ঝুলে ছিল। এখন নতুন আইনের আলোকে অভিযোগগুলো পর্যায়ক্রমে পর্যালোচনা করা হবে। যেসব ঘটনা ব্যাপক বা পদ্ধতিগত হিসেবে প্রমাণিত হবে, সেগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতায় আসবে। আর যেসব ঘটনা ব্যাপক বা পদ্ধতিগত অপরাধের মধ্যে পড়বে না, সেগুলো স্বতন্ত্র গুমের অপরাধ হিসেবে সংশ্লিষ্ট আদালতে পাঠানো হবে। আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ রয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর সেগুলো আমরা নতুন আইনের পরিপ্রেক্ষিতে পর্যালোচনা করব এবং এরপর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।




























