কানাডায় মার্কিন পণ্য ও ভ্রমণ বয়কটের হিড়িক বাড়ছে
- আপডেট সময় : ০৭:৫৪:৩০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

দুই রাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে ফাটল ধরেছে। বাণিজ্য বিরোধ, মার্কিন শুল্কনীতি এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে কানাডার নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, কানাডার বিভিন্ন শহরে এখন মার্কিন পণ্য বয়কটের হিড়িক পড়েছে।
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক কানাডিয়ান ভোক্তা এখন মার্কিন পণ্যের পরিবর্তে দেশে উৎপাদিত পণ্য কেনার দিকে ঝুঁকছেন। একই সঙ্গে অনেক কানাডীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও মার্কিন সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কানাডীয় কিংবা অন্যান্য দেশের বিকল্প উৎস খুঁজে বের করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এই বয়কটের প্রভাব কেবল পণ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং ভ্রমণের ক্ষেত্রেও কানাডিয়ানদের মধ্যে নতুন প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অনেক কানাডিয়ান এখন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ কমিয়ে দেশের ভেতরেই ভ্রমণ করছেন অথবা ইউরোপসহ বিশ্বের অন্যান্য গন্তব্য বেছে নিচ্ছেন।
রাজনৈতিকভাবেও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমানোর দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে। অ্যাঙ্গাস রিড ইনস্টিটিউটের সাম্প্রতিক এক জরিপ অনুযায়ী, ৭৬ শতাংশ কানাডিয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা থেকে সরকারের সরে আসার সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন। একই জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ৪৫ শতাংশ কানাডিয়ান মার্কিন জনগণের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, যেখানে ৪৮ শতাংশের মনোভাব নেতিবাচক। এছাড়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি কানাডিয়ানদের নেতিবাচক মনোভাবের হার অনেক বেশি; জরিপে ৭৯ শতাংশ মানুষ তার প্রতি বিরূপ মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কানাডার বিভিন্ন পণ্যের ওপর উচ্চহারে শুল্ক আরোপের জবাবে কানাডাও পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। এই অর্থনৈতিক নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাজার ও বাণিজ্যিক অংশীদার খোঁজার ওপর জোর দিচ্ছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই বৈরিতা কেবল সাময়িক রাজনৈতিক বিরোধে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি বাণিজ্য, ভ্রমণ ও দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক সম্পর্কে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। ফলে কয়েক দশকের ঘনিষ্ঠ কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এখন নতুন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হচ্ছে।




























