ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘ছোটদের সময় প্রকাশনী’র ৮ নতুন বইয়ের প্রকাশ কৃষকরাই দেশের শ্রেষ্ঠ মানুষ, তাদের উন্নয়নে বিশেষ উদ্যোগ: রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদপুরে জমি দখলের ঘটনায় গ্রেপ্তার দুই কর্ণফুলী ইপিজেডে ২০ বছরে বিনিয়োগ ৪১২ গুণ বৃদ্ধি নদীর সংখ্যা আছে, কিন্তু প্রাণ হারিয়েছে বাংলাদেশের নদ-নদী আলোকঝাড়ীর ইউপি চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের মৃত্যুতে হুইপের শোক চট্টগ্রাম আদালতে নারীকে টেনেহিঁচড়ে মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত: কূটনীতিই একমাত্র সমাধানের পথ, দাবি তেহরানের দখলবাজি ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা সরকারের জন্য অশনিসংকেত: টিআইবি সিগারেটের নতুন খুচরা মূল্য নির্ধারণ: ৬৫ থেকে ২১০ টাকা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপিত

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী যথাযোগ্য মর্যাদায় ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল ৯টায় শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পূজা, প্রার্থনা ও বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে একটি ধর্মালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রসাদ বিতরণ এবং বিকেলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন বাবর।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের রাধামদন গোপাল মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ বৈষ্ণবাচার্য অদ্বৈতবংশোদ্ভূত নন্দলাল গোস্বামী। এছাড়া বিশেষ আলোচক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার দাস এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের শ্রী গৌতম চন্দ্র সরকার অংশ নেন।

আলোচনা সভায় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রক্তের বিনিময়ে অর্জিত প্রতিষ্ঠান। ক্যাম্পাসে মাদকের বিস্তার ও বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। হযরত ওমর (রা.) এবং শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়। ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে প্রতিটি নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও আদর্শ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শুভ শক্তির জয়গান গাইতে শেখায়। মথুরায় মন্দির ও মসজিদের সহাবস্থান প্রমাণ করে মূল সৌন্দর্য ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতিতে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ একসাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা বজায় রাখবে।

সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা বলেন, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল সমাজে ন্যায়, সত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে। এই বর্ণাঢ্য আয়োজন অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উদযাপিত

আপডেট সময় : ১০:৪৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী যথাযোগ্য মর্যাদায় ও বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (০৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল ৯টায় শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ স্থাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর পূজা, প্রার্থনা ও বর্ণাঢ্য জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে একটি ধর্মালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে প্রসাদ বিতরণ এবং বিকেলে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার পাল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন বাবর।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জের রাধামদন গোপাল মন্দিরের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ বৈষ্ণবাচার্য অদ্বৈতবংশোদ্ভূত নন্দলাল গোস্বামী। এছাড়া বিশেষ আলোচক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গৌতম কুমার দাস এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পূজা উদযাপন পরিষদের শ্রী গৌতম চন্দ্র সরকার অংশ নেন।

আলোচনা সভায় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় রক্তের বিনিময়ে অর্জিত প্রতিষ্ঠান। ক্যাম্পাসে মাদকের বিস্তার ও বহিরাগতদের অনাকাঙ্ক্ষিত হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। হযরত ওমর (রা.) এবং শ্রীকৃষ্ণের আদর্শ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে শেখায়। ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ বলেন, অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল। ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার—এই নীতিতে প্রতিটি নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের স্বাধীনতা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন বলেন, শ্রীকৃষ্ণের জন্ম ও আদর্শ অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে শুভ শক্তির জয়গান গাইতে শেখায়। মথুরায় মন্দির ও মসজিদের সহাবস্থান প্রমাণ করে মূল সৌন্দর্য ভ্রাতৃত্ববোধ ও সম্প্রীতিতে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ একসাথে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিল। এই বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসন অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা বজায় রাখবে।

সভাপতি অধ্যাপক ড. অরবিন্দ সাহা বলেন, পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল সমাজে ন্যায়, সত্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার বার্তা নিয়ে। এই বর্ণাঢ্য আয়োজন অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও ভ্রাতৃত্ববোধের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে। আলোচনা সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin