এভারেস্টের হিমবাহ গলাচ্ছে পর্বতারোহীদের প্রস্রাব ও জ্বালানির তাপ
- আপডেট সময় : ০৭:৪১:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

মাউন্ট এভারেস্টের বেস ক্যাম্পে পর্বতারোহীদের কার্যক্রমের ফলে প্রতিবছর প্রায় ২ হাজার ৫০০ টন বরফ ও তুষার গলে যাচ্ছে। রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাম্পের জ্বালানি পোড়ানো এবং মানুষের প্রস্রাব থেকে উৎপন্ন তাপ এই বরফ গলার জন্য দায়ী।
বসন্তের পর্বতারোহণ মৌসুমে এভারেস্টের বেস ক্যাম্পটি একটি ব্যস্ত পর্যটন গ্রামের রূপ নেয়। ২০২৩ সালের ৫০ দিনের বসন্ত মৌসুমে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি তাঁবু সচল রাখতে ৮২৪টি এলপিজি সিলিন্ডার, ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন এবং ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রল ব্যবহার করা হয়েছে। এসব জ্বালানি রান্না, তাঁবুর তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, জ্বালানি ও প্রস্রাব থেকে মোট ৮ লাখ ৪৯ হাজার ১৭৪ মেগাজুল তাপ উৎপন্ন হয়েছে, যা আনুমানিক ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ গলিয়ে ফেলতে সক্ষম। এই হিসাবের সীমা ১ হাজার ৯৬৪ থেকে ৩ হাজার ২০ টন পর্যন্ত হতে পারে। এই পরিমাণ গলে যাওয়া বরফের পানি দিয়ে একটি অলিম্পিক মাপের সুইমিং পুল, ৮৩টি পানির ট্যাংকার কিংবা ১৬ হাজার ৭০০টি সাধারণ বাথটাব পূর্ণ করা সম্ভব।
গবেষণায় প্রস্রাবের প্রভাবকে আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। উচ্চতায় পানিশূন্যতা এড়াতে পর্বতারোহী ও গাইডরা প্রচুর পানি পান করেন, যার ফলে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার লিটার প্রস্রাব তৈরি হয়। কঠিন বর্জ্য নিচে নামিয়ে নেওয়া হলেও বেশিরভাগ প্রস্রাব সরাসরি হিমবাহের ওপর ফেলা হয়। গবেষকদের মতে, শুধু প্রস্রাবের তাপেই একটি মৌসুমে প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলে যেতে পারে।
১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ল্যান্ডস্যাট স্যাটেলাইটের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বেস ক্যাম্প এলাকায় ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বছরে গড়ে ০ দশমিক ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বাড়ছে, যা আশপাশের খুম্বু হিমবাহের তুলনায় দ্বিগুণ। গবেষকরা জানিয়েছেন, এই হিসাবে হেলিকপ্টার চলাচল, মানুষের শরীরের তাপ এবং ইয়াকের শরীরের তাপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। যদিও এভারেস্টের হিমবাহ গলে যাওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনই প্রধান কারণ, তবে দ্রুত গলে যাওয়া হিমবাহের ওপর হাজার হাজার মানুষের এই ঘনবসতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই নয়। তাই বেস ক্যাম্পটি সরিয়ে কাছাকাছি কোনো স্থিতিশীল এলাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকরা।
প্রকাশ : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৩২আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৩৬























