জামাতে নামাজ আদায়ের ফজিলত ও অশেষ সওয়াব
- আপডেট সময় : ০৭:৪২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ৪৩ নম্বর আয়াতে নির্দেশ দিয়েছেন, 'তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত আদায় করো এবং রুকুকারীদের সঙ্গে রুকু করো।' এই আয়াতের শেষাংশে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। নিয়মিত জামাতে নামাজ আদায় মুমিন ব্যক্তিকে পার্থিব ও পরকালীন অফুরন্ত নেয়ামত ও কল্যাণের অংশীদার করে তোলে। এটি মানুষের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ, সুশৃঙ্খল জীবন এবং অন্যায়-অশ্লীলতা থেকে দূরে থাকার প্রেরণা জোগায়।
জামাতে নামাজ আদায়ের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। এক হাদিসে তিনি বলেন, 'যার হাতে আমার প্রাণ, তাঁর শপথ! আমার ইচ্ছা হয়, জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে আদেশ দিই, অতঃপর নামাজ আদায়ের আদেশ দিই, তারপর নামাজের আজান দেওয়া হলে এক ব্যক্তিকে লোকদের ইমামতি করার নির্দেশ দিই। অতঃপর আমি ওই লোকদের কাছে যাই এবং তাদের (যারা নামাজে শামিল হয়নি) ঘর জ্বালিয়ে দিই।' (মুসলিম : ৬৫১)।
জামাতে নামাজ আদায়ের সওয়াব একাকী নামাজের চেয়ে বহুগুণ বেশি। রাসুল (সা.) বলেছেন, 'একাকী নামাজ আদায়ের চেয়ে ইমামের সঙ্গে জামাতে নামাজ আদায়ের ফজিলত পঁচিশ গুণ বেশি।' (বোখারি : ৬৪৬)। অন্য এক হাদিসে এর ফজিলত সাতাশ গুণ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে (মুসলিম : ৬৫০)। এছাড়া নামাজের প্রথম সারিতে দাঁড়ানোর গুরুত্ব সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, 'লোকেরা যদি জানত, আজান দেওয়া ও নামাজের প্রথম সারিতে দাঁড়ানোর কী মাহাত্ম্য আছে, তা হলে তাতে অংশগ্রহণের জন্য যদি লটারি ছাড়া অন্য কোনো উপায় না পেত, তবে তারা অবশ্যই সে ক্ষেত্রে লটারির সাহায্য নিত' (বোখারি : ৬১৫)।
নামাজের মধ্যে আল্লাহতায়ালা বান্দার অতীত গুনাহ মাফ, সওয়াব অর্জন এবং মর্যাদা বৃদ্ধির অবারিত সুযোগ রেখেছেন। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, 'আমি কি তোমাদের এমন বস্তুর সন্ধান দেব না, যা দ্বারা আল্লাহ তায়ালা গুনাহগুলো ক্ষমা এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করবেন? তা হলো- কষ্টকর অবস্থায়ও পূর্ণরূপে ওজু করা, মসজিদের দিকে অধিক পদচারণা এবং এক নামাজের পর অন্য নামাজের অপেক্ষা করা। এটিই রিবাত (এতে ইসলামি রাষ্ট্রের সীমানা পাহারা দেওয়ার ন্যায় সওয়াব রয়েছে)।' তিনি এ কথা তিনবার বলেন। (মুসলিম : ২৫১)।
মসজিদের সঙ্গে অন্তরের সম্পর্ক স্থাপনকারী ব্যক্তিদের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত অন্য কোনো ছায়া থাকবে না, তখন সাত শ্রেণির মানুষকে আল্লাহ নিজ ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো সেই ব্যক্তি, যার অন্তরের সম্পর্ক সর্বদা মসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে। এমন ব্যক্তিরা আজান হলে সব ব্যস্ততা ত্যাগ করে মসজিদে ছুটে আসেন এবং জামাতে নামাজ আদায় করেন।
সাধারণত মসজিদে ইমামের পেছনে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায়ের কারণে মসজিদের সঙ্গে ব্যক্তির আলাদা একটা সম্পর্ক গড়ে ওঠে, এক নামাজ শেষে পরবর্তী আজান-নামাজের অপেক্ষায় থাকে; আজান হলে শত ব্যস্ততা ফেলে কালবিলম্ব না করে মসজিদে এসে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করে। এমন ব্যক্তি সম্পর্কে নবীজি বলেছেন, 'যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতীত কোনো ছায়া থাকবে না, সেদিন আল্লাহ তায়ালা সাত শ্রেণির মানুষকে সেই ছায়ায় আশ্রয় দেবেন। তন্মধ্যে একশ্রেণি হচ্ছে, যাদের অন্তরের সম্পর্ক সর্বদা মসজিদের সঙ্গে লেগে থাকে।' (বোখারি : ১৪২৩)।




























