ঢাকা ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়ে মানিকগঞ্জ যাত্রা বাতিল করলেন তানজিন তিশা দিল্লিতে আটক সিজেপির তিন নেতাকে মুক্তি দিল আদালত রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলা: ঢাকা থেকে ৫ ফ্লাইট বাতিল পুলিশি সতর্কতার পর মুক্তি পেলেন ভারতীয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি রিয়াদে হুতিদের হামলায় নিহত বাংলাদেশিদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে সরকার লোভ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কবলে বিপন্ন পরিযায়ী পাখির অস্তিত্ব হুথিদের অবরোধে তাইজের হাসপাতালগুলোতে চরম মানবিক বিপর্যয়ের শঙ্কা শীতলপাটির ঐতিহ্য রক্ষায় রাবির চার শিক্ষার্থীর স্যান্ডেল তৈরির উদ্যোগ নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচারের পরিকল্পনা নিয়ে তীব্র বিতর্ক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্পের পরা স্যুট ঘিরে আলোচনায় বাংলাদেশের অনন্ত গ্রুপ

নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা ৯৩৩ শ্রমিক, চলছে উদ্ধার অভিযান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬ ১৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯৩৩ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নিখোঁজ ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোই এখন উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গপথে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে আছে, যা উদ্ধার অভিযানের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে কাদা সরিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চলছে।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া গাইড আশিষ গুরুং জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কাদা এত বেশি গভীর যে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। রুসওয়ার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে পর্বতারোহীরা কাঠের তক্তা দিয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরি করেছেন এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দড়ি ব্যবহার করছেন। গুরুং বলেন, একপর্যায়ে কাদার গভীরতা তাদের বুক পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। প্রকল্পের মানচিত্র বিশ্লেষণ করে উদ্ধারকারীদের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরের কোনো নিরাপদ অংশে হয়তো কিছু মানুষ এখনো বেঁচে থাকতে পারেন।

গত বুধবার নেপালের বিভিন্ন উপত্যকায় বরফ, পাথর ও কাদার নজিরবিহীন স্রোত নেমে আসার পর এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সীমান্তের তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে নেপালে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং তিব্বতে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৫০০। রেড ক্রসের তথ্যমতে, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ড সত্ত্বেও প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী, বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত আছেন। নেপাল সরকার জানিয়েছে, সাধারণ উদ্ধার কাজের জন্য বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন না থাকলেও, সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধারের বিশেষ দক্ষতার জন্য ভারত ও চীনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালের অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯০০ জনেরও বেশি শ্রমিক আটকে পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের।

তিনি বলেন, কাদার মধ্যে হাঁটা খুবই কঠিন। একপর্যায়ে কাদা আমাদের বুক পর্যন্ত উঠে এসেছিল। আমরা প্রথম স্টেশনের প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে যেতে পেরেছিলাম। আরও ভেতরে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, সেখানে শুধু মরদেহই পড়ে আছে। ওই জলবিদ্যুৎ কোম্পানিটি উদ্ধারকারী দলকে প্রকল্পের একটি মানচিত্র দিয়েছে। সেই মানচিত্র দেখে উদ্ধারকারীদের ধারণা হয়েছে, সুড়ঙ্গের ভেতরের অবকাঠামোর কোনো নিরাপদ অংশে আশ্রয় নিয়ে কিছু মানুষ হয়তো বেঁচে থাকতে পারেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

নেপালে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকা ৯৩৩ শ্রমিক, চলছে উদ্ধার অভিযান

আপডেট সময় : ০৫:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯৩৩ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নিখোঁজ ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোই এখন উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গপথে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে আছে, যা উদ্ধার অভিযানের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে কাদা সরিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চলছে।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া গাইড আশিষ গুরুং জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কাদা এত বেশি গভীর যে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। রুসওয়ার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে পর্বতারোহীরা কাঠের তক্তা দিয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরি করেছেন এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দড়ি ব্যবহার করছেন। গুরুং বলেন, একপর্যায়ে কাদার গভীরতা তাদের বুক পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। প্রকল্পের মানচিত্র বিশ্লেষণ করে উদ্ধারকারীদের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরের কোনো নিরাপদ অংশে হয়তো কিছু মানুষ এখনো বেঁচে থাকতে পারেন।

গত বুধবার নেপালের বিভিন্ন উপত্যকায় বরফ, পাথর ও কাদার নজিরবিহীন স্রোত নেমে আসার পর এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সীমান্তের তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে নেপালে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং তিব্বতে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৫০০। রেড ক্রসের তথ্যমতে, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ড সত্ত্বেও প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী, বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত আছেন। নেপাল সরকার জানিয়েছে, সাধারণ উদ্ধার কাজের জন্য বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন না থাকলেও, সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধারের বিশেষ দক্ষতার জন্য ভারত ও চীনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।

ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালের অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯০০ জনেরও বেশি শ্রমিক আটকে পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের।

তিনি বলেন, কাদার মধ্যে হাঁটা খুবই কঠিন। একপর্যায়ে কাদা আমাদের বুক পর্যন্ত উঠে এসেছিল। আমরা প্রথম স্টেশনের প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে যেতে পেরেছিলাম। আরও ভেতরে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, সেখানে শুধু মরদেহই পড়ে আছে। ওই জলবিদ্যুৎ কোম্পানিটি উদ্ধারকারী দলকে প্রকল্পের একটি মানচিত্র দিয়েছে। সেই মানচিত্র দেখে উদ্ধারকারীদের ধারণা হয়েছে, সুড়ঙ্গের ভেতরের অবকাঠামোর কোনো নিরাপদ অংশে আশ্রয় নিয়ে কিছু মানুষ হয়তো বেঁচে থাকতে পারেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin