
নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার কবলে পড়ে অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯৩৩ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই নিখোঁজ ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছানোই এখন উদ্ধারকারী দলগুলোর প্রধান লক্ষ্য। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র রাজা রাম বাসনেট জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গপথে বিপুল পরিমাণ ধ্বংসাবশেষ জমে আছে, যা উদ্ধার অভিযানের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতির সাহায্যে কাদা সরিয়ে সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ দিয়ে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চলছে।
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া গাইড আশিষ গুরুং জানান, সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। কাদা এত বেশি গভীর যে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব। রুসওয়ার চিলিমে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধারকাজ চালাতে গিয়ে পর্বতারোহীরা কাঠের তক্তা দিয়ে অস্থায়ী সেতু তৈরি করেছেন এবং নিজেদের নিরাপত্তার জন্য দড়ি ব্যবহার করছেন। গুরুং বলেন, একপর্যায়ে কাদার গভীরতা তাদের বুক পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল। প্রকল্পের মানচিত্র বিশ্লেষণ করে উদ্ধারকারীদের ধারণা, সুড়ঙ্গের ভেতরের কোনো নিরাপদ অংশে হয়তো কিছু মানুষ এখনো বেঁচে থাকতে পারেন।
গত বুধবার নেপালের বিভিন্ন উপত্যকায় বরফ, পাথর ও কাদার নজিরবিহীন স্রোত নেমে আসার পর এখন পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া সীমান্তের তিব্বত অংশে ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে নেপালে ৪ হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন এবং তিব্বতে নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৫০০। রেড ক্রসের তথ্যমতে, এই দুর্যোগে ৯০ হাজারের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ এই পরিস্থিতিকে নজিরবিহীন ও ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূখণ্ড সত্ত্বেও প্রায় ২১ হাজার নিরাপত্তাকর্মী, বেসামরিক কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত আছেন। নেপাল সরকার জানিয়েছে, সাধারণ উদ্ধার কাজের জন্য বিদেশি সহায়তার প্রয়োজন না থাকলেও, সুড়ঙ্গ থেকে মানুষ উদ্ধারের বিশেষ দক্ষতার জন্য ভারত ও চীনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে।
ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার পর নেপালের অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ ও ভূগর্ভস্থ এলাকায় ৯০০ জনেরও বেশি শ্রমিক আটকে পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল। সোমবার (৩১ আগস্ট) দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর গার্ডিয়ানের।
তিনি বলেন, কাদার মধ্যে হাঁটা খুবই কঠিন। একপর্যায়ে কাদা আমাদের বুক পর্যন্ত উঠে এসেছিল। আমরা প্রথম স্টেশনের প্রায় ১৩০ মিটার ভেতরে যেতে পেরেছিলাম। আরও ভেতরে তাকিয়ে মনে হচ্ছিল, সেখানে শুধু মরদেহই পড়ে আছে। ওই জলবিদ্যুৎ কোম্পানিটি উদ্ধারকারী দলকে প্রকল্পের একটি মানচিত্র দিয়েছে। সেই মানচিত্র দেখে উদ্ধারকারীদের ধারণা হয়েছে, সুড়ঙ্গের ভেতরের অবকাঠামোর কোনো নিরাপদ অংশে আশ্রয় নিয়ে কিছু মানুষ হয়তো বেঁচে থাকতে পারেন।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মাহের আহমেদ, প্রধান সম্পাদক: মোঃ মোত্তালিব সরকার। প্রকাশক কর্তৃক ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত। সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয় (ঢাকা) : ৫৫০বি, হজ্জ ক্যাম্প রোড, আশকোনা, দক্ষিণখান, ঢাকা-১২৩০, বাংলাদেশ। আঞ্চলিক কার্যালয় (বগুড়া): টোলারগেট, শেরপুর–৫৮৪০, শেরপুর, বগুড়া। অফিস: ০১৭৭৬-১৩৬০৫০ (হোয়াটসঅ্যাপ), বিজ্ঞাপন: ০৯৬৯৭-৫৪৪৮২৭। ই-মেইল: dailyjokhonsomoy@gmail.com।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রনালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত ©সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © দৈনিক যখন সময় ২০২২