ঢাকা ০৪:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গোপন সূচির রোমাঞ্চ নিয়ে বসছে ৫৩তম টেলুরাইড চলচ্চিত্র উৎসব ঠাকুরগাঁওয়ে হাফ ম্যারাথন: রাষ্ট্রপতিকে উৎসর্গ করে দৌড়বিদের মিলনমেলা ইন্টার মায়ামির নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন কিলি গঞ্জালেস প্রকৌশলী অধিকার দিবস উপলক্ষে বেরোবিতে মোমবাতি প্রজ্বলন ২০৩০ সালে মালয়েশিয়া-ভিয়েতনামকে ছাড়িয়ে ৩২তম অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ বিএনপি সরকার ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে: সারজিস আলম যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ৬ মাস: লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ ওয়াশিংটন, অনিশ্চিত মধ্যপ্রাচ্য ফুলবাড়ীয়ায় কাস্টমস সিপাহী হত্যা: ১৫ খণ্ড মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন ইকবাল সেন্টার ছেড়ে শান্তা পিনাকলে প্রিমিয়ার ব্যাংক, সাশ্রয় বছরে ৫৬ কোটি ভ্যাটিকানের রাস্তায় ‘অস্তিত্বহীন রাষ্ট্রের’ দূতাবাস নিয়ে রহস্য

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে জ্বালানির দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত ইরানের

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সরকার আবারও জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঠিক আগ মুহূর্তে কর্তৃপক্ষ জনগণকে এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করছে। বর্তমানে ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্য বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ করা সরকারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপে পরিণত হয়েছে। এর ওপর দেশটির সমুদ্রবন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং চলমান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬ সালে ইরানের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৫ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে।

তেলসমৃদ্ধ দেশটিতে অতীতে পেট্রলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ২০১৯ সালের দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারির আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কারণে সরকার এবার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এগোচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জ্বালানির দামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার সকালে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বক্তব্যে বলেন, দেশে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে সরকার অবগত এবং জনগণকে রক্ষা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, শত্রু দেশগুলো যেন সফল হতে না পারে, সেজন্য সব শক্তি দিয়ে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেন।

প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, ইরানের শোধনাগারগুলোতে প্রতি লিটার পেট্রল উৎপাদনে সরকারের খরচ হয় প্রায় ১৩ লাখ রিয়াল বা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৬৫ সেন্ট। অথচ সাধারণ জনগণের জন্য সর্বনিম্ন মূল্যের স্তরে পেট্রল বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার রিয়ালের নিচে, যা এক সেন্টেরও কম। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ৩০ হাজার এবং ৫০ হাজার রিয়ালের আরও দুটি মূল্যস্তর রয়েছে। আমদানি করা, ফ্রি-জোনের কিংবা নতুন নিবন্ধিত গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্যস্তর প্রযোজ্য হয়। জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফুয়েল কার্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং প্রতিটি স্তরের জন্য মাসিক কোটা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া পাম্প স্টেশনগুলোর নিজস্ব কার্ডের মাধ্যমে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার সুযোগ থাকলেও তেহরানে একবারে সর্বোচ্চ ২৫ লিটারের বেশি কেনা যায় না।

চলতি ইরানি বছরের শুরু থেকে জ্বালানি কোটা কমানোর প্রক্রিয়া চলছে। মার্চের শেষ দিকে দ্বিতীয় মূল্যস্তরের কোটা ১০০ লিটার থেকে কমিয়ে ৭০ লিটার করা হয়। পরবর্তীতে জুলাই মাসে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘাতের সময় তা আরও কমিয়ে ৫০ লিটারে নামিয়ে আনা হয়। বর্তমানে ইরানিরা প্রতিদিন প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ লিটার জ্বালানি ব্যবহার করছেন, যেখানে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ লিটার। এই ঘাটতি ও আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে সরকার শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে যুদ্ধের কারণে আমদানি বন্ধ থাকায় পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ব্যবহার এবং জ্বালানির মান পরিবর্তনের মতো বিকল্প পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে জ্বালানির দাম বাড়ানোর ইঙ্গিত ইরানের

আপডেট সময় : ০৯:১১:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরান সরকার আবারও জ্বালানির দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঠিক আগ মুহূর্তে কর্তৃপক্ষ জনগণকে এই সম্ভাব্য মূল্যবৃদ্ধির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করছে। বর্তমানে ৯ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্য বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ করা সরকারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপে পরিণত হয়েছে। এর ওপর দেশটির সমুদ্রবন্দরগুলো ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ এবং চলমান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পূর্বাভাস দিয়েছে যে, ২০২৬ সালে ইরানের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৫ দশমিক ৪ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে।

তেলসমৃদ্ধ দেশটিতে অতীতে পেট্রলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত বড় ধরনের সামাজিক অস্থিরতা ও বিক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। ২০১৯ সালের দেশজুড়ে বিক্ষোভ এবং ২০২৬ সালের জানুয়ারির আন্দোলনের অভিজ্ঞতার কারণে সরকার এবার অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এগোচ্ছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই জ্বালানির দামের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রোববার সকালে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এক বক্তব্যে বলেন, দেশে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে সরকার অবগত এবং জনগণকে রক্ষা করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। তবে তিনি উল্লেখ করেন, শত্রু দেশগুলো যেন সফল হতে না পারে, সেজন্য সব শক্তি দিয়ে প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। তিনি ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এ মন্তব্য করেন।

প্রেসিডেন্টের ভাষ্যমতে, ইরানের শোধনাগারগুলোতে প্রতি লিটার পেট্রল উৎপাদনে সরকারের খরচ হয় প্রায় ১৩ লাখ রিয়াল বা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ৬৫ সেন্ট। অথচ সাধারণ জনগণের জন্য সর্বনিম্ন মূল্যের স্তরে পেট্রল বিক্রি হচ্ছে ১৫ হাজার রিয়ালের নিচে, যা এক সেন্টেরও কম। ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য ৩০ হাজার এবং ৫০ হাজার রিয়ালের আরও দুটি মূল্যস্তর রয়েছে। আমদানি করা, ফ্রি-জোনের কিংবা নতুন নিবন্ধিত গাড়ির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্যস্তর প্রযোজ্য হয়। জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফুয়েল কার্ড ব্যবহার বাধ্যতামূলক এবং প্রতিটি স্তরের জন্য মাসিক কোটা নির্ধারিত রয়েছে। এছাড়া পাম্প স্টেশনগুলোর নিজস্ব কার্ডের মাধ্যমে অতিরিক্ত জ্বালানি কেনার সুযোগ থাকলেও তেহরানে একবারে সর্বোচ্চ ২৫ লিটারের বেশি কেনা যায় না।

চলতি ইরানি বছরের শুরু থেকে জ্বালানি কোটা কমানোর প্রক্রিয়া চলছে। মার্চের শেষ দিকে দ্বিতীয় মূল্যস্তরের কোটা ১০০ লিটার থেকে কমিয়ে ৭০ লিটার করা হয়। পরবর্তীতে জুলাই মাসে হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা ও সংঘাতের সময় তা আরও কমিয়ে ৫০ লিটারে নামিয়ে আনা হয়। বর্তমানে ইরানিরা প্রতিদিন প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ লিটার জ্বালানি ব্যবহার করছেন, যেখানে উৎপাদন হচ্ছে প্রায় ১২ কোটি ১০ লাখ লিটার। এই ঘাটতি ও আর্থিক ক্ষতি সামাল দিতে সরকার শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। একইসঙ্গে যুদ্ধের কারণে আমদানি বন্ধ থাকায় পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ব্যবহার এবং জ্বালানির মান পরিবর্তনের মতো বিকল্প পদক্ষেপও নেয়া হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin