ঢাকা ০৭:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালে হিমবাহধসে ভয়াবহ বন্যা: নিহত ৫৪৭, নিখোঁজ সহস্রাধিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে সহযোগিতা, হুঁশিয়ারি ইরানের জীবিত থাকতেই নিজের চল্লিশার আয়োজন, দাওয়াত ৬ হাজার মানুষকে নেপালে আকস্মিক বন্যায় ৩২০ ভারতীয় নাগরিক নিখোঁজ আবাসন সংকটে ২০তম এশিয়ান গেমস, বিপাকে আয়োজক জাপান নারীদের স্বাবলম্বী করতে পারলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বদলাবে: সমাজকল্যাণমন্ত্রী কুষ্টিয়ায় পদ্মা নদীতে ফুটবল খেলতে গিয়ে মাদ্রাসাছাত্র নিখোঁজ বীরগঞ্জে বিপুল সার জব্দ, ম্যানেজারকে ৩ মাসের কারাদণ্ড চেলসিতে যোগ দিচ্ছেন বিশ্বকাপজয়ী গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ আগামী সোমবার মন্ত্রিসভায় উঠতে পারে নতুন পে-স্কেল

ফুলবাড়ীয়ায় কাস্টমস সিপাহী হত্যা: ১৫ খণ্ড মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় চাঞ্চল্যকর আবু রায়হান তালুকদার (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। কাস্টমস সিপাহী আবু রায়হানকে হত্যার পর মরদেহ ১৫ খণ্ড করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আবু রায়হানের চার বছর ধরে কর্মরত বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার মোঃ রাজু মির্জা (২২) এবং তার সহযোগী মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)।

পুলিশ ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে ফুলবাড়ীয়া থানার কাহালগাঁও এলাকা থেকে আবু রায়হান নিখোঁজ হন। পরিবার ২৭ জুলাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। তদন্তের এক পর্যায়ে ২ আগস্ট নিখোঁজের বাড়ির মাত্র ৩০০ গজ দূরে পরিত্যক্ত একটি ডোবার ঝোপ থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে রাখা অবস্থায় ১৫ খণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পোশাক ও শরীরের অংশ দেখে পরিবার মরদেহটি শনাক্ত করে এবং ৪ আগস্ট ফুলবাড়ীয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

ফুলবাড়ীয়া থানার সাব-ইনস্পেক্টর শুভ্র সাহার নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে পুলিশ রাজু ও জিতুলের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। ঘটনার পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। ২৬ আগস্ট রাত ১টা ৫০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার রাতে রাজু কৌশলে আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। এরপর রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। আলামত গোপন করতে মরদেহ ১৫ খণ্ড করে ট্রাভেল ব্যাগে ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া ঘর ও বাথরুম পরিষ্কার করতে ডিটারজেন্ট পাউডার, হারপিক ও হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা হয়। ভিকটিমের নিখোঁজ থাকা অবস্থায় তার মোবাইল ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে টাকাও তুলেছিল তারা। আসামিদের দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রড, চাপাতি ও চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ফুলবাড়ীয়ায় কাস্টমস সিপাহী হত্যা: ১৫ খণ্ড মরদেহ উদ্ধারের রহস্য উদঘাটন

আপডেট সময় : ০৪:০০:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়ায় চাঞ্চল্যকর আবু রায়হান তালুকদার (৪২) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। কাস্টমস সিপাহী আবু রায়হানকে হত্যার পর মরদেহ ১৫ খণ্ড করে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন আবু রায়হানের চার বছর ধরে কর্মরত বিশ্বস্ত কেয়ারটেকার মোঃ রাজু মির্জা (২২) এবং তার সহযোগী মো. সোহেল মির্জা ওরফে জিতুল (২০)।

পুলিশ ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুলাই বিকাল ৫টার দিকে ফুলবাড়ীয়া থানার কাহালগাঁও এলাকা থেকে আবু রায়হান নিখোঁজ হন। পরিবার ২৭ জুলাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে। তদন্তের এক পর্যায়ে ২ আগস্ট নিখোঁজের বাড়ির মাত্র ৩০০ গজ দূরে পরিত্যক্ত একটি ডোবার ঝোপ থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে রাখা অবস্থায় ১৫ খণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পোশাক ও শরীরের অংশ দেখে পরিবার মরদেহটি শনাক্ত করে এবং ৪ আগস্ট ফুলবাড়ীয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

ফুলবাড়ীয়া থানার সাব-ইনস্পেক্টর শুভ্র সাহার নেতৃত্বে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে পুলিশ রাজু ও জিতুলের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হয়। ঘটনার পর তারা আত্মগোপনে চলে গেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। ২৬ আগস্ট রাত ১টা ৫০ মিনিটে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে স্থানীয় পুলিশের সহায়তায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছে। ঘটনার রাতে রাজু কৌশলে আবু রায়হানকে দুধের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে। এরপর রড দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। আলামত গোপন করতে মরদেহ ১৫ খণ্ড করে ট্রাভেল ব্যাগে ভরে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। এছাড়া ঘর ও বাথরুম পরিষ্কার করতে ডিটারজেন্ট পাউডার, হারপিক ও হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা হয়। ভিকটিমের নিখোঁজ থাকা অবস্থায় তার মোবাইল ও ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করে টাকাও তুলেছিল তারা। আসামিদের দেওয়া তথ্যে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রড, চাপাতি ও চাকু উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin