ঢাকা ০৮:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নেপালের অবকাঠামো ধ্বংস কেন বারবার বিপর্যয়ের মুখে পড়ছে? হিমবাহধসের পর এবার ভূমিকম্পে কাঁপল তিব্বত তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে সাউথ ব্লকের চাপ ও অস্বস্তি বেসামরিক প্রশাসনে সামরিকীকরণ ও মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক সিলেটে ব্যবসায়ী শাহাবউদ্দিন হত্যায় রেস্টুরেন্ট কর্মচারী জালালের স্বীকারোক্তি বেসিস নির্বাচন: ২৬ সেপ্টেম্বর ভোট, চূড়ান্ত তালিকা ৫ সেপ্টেম্বর ব্রুকলিনে বাংলাদেশি ইউসুফ হত্যা: ঘাতকের ছবি প্রকাশ করল নিউইয়র্ক পুলিশ চারজনের খুনের রহস্য উন্মোচনে ব্যর্থতা সরকারের চরম ব্যর্থতা: গোলাম পরওয়ার নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগ পেলেন ইমদাদুল হুদা সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট: সংস্কার নিয়ে ক্ষোভ

শান্তি প্রতিষ্ঠায় সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছিলেন রাসুল (সা.)

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ১ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসলামের ইতিহাসে শান্তি ও সমঝোতার গুরুত্ব অপরিসীম। ষষ্ঠ হিজরিতে রাসুল (সা.) সাহাবিদের নিয়ে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় রওনা হয়েছিলেন। মক্কার অদূরে পৌত্তলিক কুরাইশদের বাধার মুখে পড়ে তিনি যুদ্ধের পরিবর্তে সন্ধি করার সিদ্ধান্ত নেন, যা ইতিহাসে 'হুদাইবিয়ার সন্ধি' নামে পরিচিত। বাহ্যত এটিকে পরাজয় মনে হলেও মহান আল্লাহ একে 'প্রকাশ্য বিজয়' বলে আখ্যায়িত করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়।' (সুরা ফাতহ : ১)। বাস্তবিক অর্থেই এই সন্ধি মক্কা বিজয়ের পথ সুগম করেছিল। রাসুল (সা.) সংঘাত পরিহার করে সমঝোতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

পবিত্র কোরআনে দাউদ (আ.) ও সুলাইমান (আ.)-এর বিচক্ষণতার একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, 'এবং স্মরণ করো দাউদ ও সুলাইমানের কথা, যখন তারা বিচার করছিল শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে; তাতে রাত্রিকালে প্রবেশ করেছিল কোনো সম্প্রদায়ের মেষ; আমি প্রত্যক্ষ করছিলাম তাদের বিচার। এবং আমি সুলাইমানকে এ বিষয়ের মীমাংসা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং তাদের প্রত্যেককে আমি দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান। আমি পর্বত ও বিহঙ্গকুলকে অধীন করে দিয়েছিলাম- তারা দাউদের সঙ্গে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত; আমিই ছিলাম এই সময়ের কর্তা।' (সুরা আম্বিয়া : ৭৮-৭৯)।

আয়াতে বর্ণিত বিষয়টি হলো, দু’জন ব্যক্তি দাউদ (আ.)-এর কাছে উপস্থিত হয়। তাদের একজন মেষের মালিক এবং অন্যজন শস্যক্ষেত্রের মালিক। শস্যক্ষেত্রের মালিক মেষের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল যে, মেষযূথ রাতে তার শস্য নষ্ট করে দিয়েছে। মেষযূথের মূল্য বিনষ্ট শস্যক্ষেত্রের সমান ছিল। দাউদ (আ.) রায় দিলেন যে মেষযূথের মালিক তার সব মেষ শস্যক্ষেত্রের মালিককে অর্পণ করবে। রায় নিয়ে বাদী ও বিবাদী দাউদ (আ.)-এর আদালত থেকে বের হলে দরজায় দাউদ (আ.)-এর পুত্র সুলাইমান (আ.)-এর সঙ্গে তাদের দেখা হয়। তিনি তাদের কাছ থেকে রায়ের আদ্যোপান্ত শোনেন। অতঃপর সুলাইমান (আ.) বলেন, 'আমি রায় দিলে এর চেয়ে উত্তম হতো এবং উভয় পক্ষ উপকৃত হতো।' তারপর তিনি পিতাকে বিষয়টি জানালেন, আপনি মেষযূথ শস্যক্ষেত্রের মালিককে দিয়ে দিন। সে এগুলোর দুধ ও পশম দ্বারা উপকৃত হোক। আর ক্ষেত মেষযূথের মালিককে দিয়ে দিন, সে তাতে চাষাবাদ করে ফসল উৎপাদন করুক। যখন শস্যক্ষেত্র মেষযূথের বিনষ্ট করার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে তখন শস্যক্ষেত্র ক্ষেতের মালিককে আর মেষযূথ মেষযূথের মালিককে ফেরত দিন। দাউদ (আ.) খুশি হয়ে উভয় পক্ষকে ডেকে তা কার্যকর করেন। এভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা হলো এবং সবাই খুশি হলো।

ইসলামের প্রথম যুগের মুসলমান সাহাবায়েকেরাম সব সময় সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতা করার পক্ষে ছিলেন। সাহল বিন সাদ (রা.) বলেন, কোবাবাসী বনু আমর বিন আওফ-এর মুসলমানরা পরস্পরে লড়াইয়ে লিপ্ত হলো। একপর্যায়ে তারা পরস্পরের প্রতি পাথর নিক্ষেপ শুরু করল। খবর পেয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) সবাইকে বললেন, 'তোমরা আমাদের সাথে চলো। আমরা তাদের মধ্যে সন্ধি করে দেব।' (বোখারি : ২৬৯৩)।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

শান্তি প্রতিষ্ঠায় সমঝোতার পথ বেছে নিয়েছিলেন রাসুল (সা.)

আপডেট সময় : ০৭:০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামের ইতিহাসে শান্তি ও সমঝোতার গুরুত্ব অপরিসীম। ষষ্ঠ হিজরিতে রাসুল (সা.) সাহাবিদের নিয়ে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় রওনা হয়েছিলেন। মক্কার অদূরে পৌত্তলিক কুরাইশদের বাধার মুখে পড়ে তিনি যুদ্ধের পরিবর্তে সন্ধি করার সিদ্ধান্ত নেন, যা ইতিহাসে 'হুদাইবিয়ার সন্ধি' নামে পরিচিত। বাহ্যত এটিকে পরাজয় মনে হলেও মহান আল্লাহ একে 'প্রকাশ্য বিজয়' বলে আখ্যায়িত করেছেন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয়ই আমি তোমাকে দিয়েছি সুস্পষ্ট বিজয়।' (সুরা ফাতহ : ১)। বাস্তবিক অর্থেই এই সন্ধি মক্কা বিজয়ের পথ সুগম করেছিল। রাসুল (সা.) সংঘাত পরিহার করে সমঝোতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

পবিত্র কোরআনে দাউদ (আ.) ও সুলাইমান (আ.)-এর বিচক্ষণতার একটি ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহ বলেন, 'এবং স্মরণ করো দাউদ ও সুলাইমানের কথা, যখন তারা বিচার করছিল শস্যক্ষেত্র সম্পর্কে; তাতে রাত্রিকালে প্রবেশ করেছিল কোনো সম্প্রদায়ের মেষ; আমি প্রত্যক্ষ করছিলাম তাদের বিচার। এবং আমি সুলাইমানকে এ বিষয়ের মীমাংসা বুঝিয়ে দিয়েছিলাম এবং তাদের প্রত্যেককে আমি দিয়েছিলাম প্রজ্ঞা ও জ্ঞান। আমি পর্বত ও বিহঙ্গকুলকে অধীন করে দিয়েছিলাম- তারা দাউদের সঙ্গে আমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করত; আমিই ছিলাম এই সময়ের কর্তা।' (সুরা আম্বিয়া : ৭৮-৭৯)।

আয়াতে বর্ণিত বিষয়টি হলো, দু’জন ব্যক্তি দাউদ (আ.)-এর কাছে উপস্থিত হয়। তাদের একজন মেষের মালিক এবং অন্যজন শস্যক্ষেত্রের মালিক। শস্যক্ষেত্রের মালিক মেষের মালিকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করল যে, মেষযূথ রাতে তার শস্য নষ্ট করে দিয়েছে। মেষযূথের মূল্য বিনষ্ট শস্যক্ষেত্রের সমান ছিল। দাউদ (আ.) রায় দিলেন যে মেষযূথের মালিক তার সব মেষ শস্যক্ষেত্রের মালিককে অর্পণ করবে। রায় নিয়ে বাদী ও বিবাদী দাউদ (আ.)-এর আদালত থেকে বের হলে দরজায় দাউদ (আ.)-এর পুত্র সুলাইমান (আ.)-এর সঙ্গে তাদের দেখা হয়। তিনি তাদের কাছ থেকে রায়ের আদ্যোপান্ত শোনেন। অতঃপর সুলাইমান (আ.) বলেন, 'আমি রায় দিলে এর চেয়ে উত্তম হতো এবং উভয় পক্ষ উপকৃত হতো।' তারপর তিনি পিতাকে বিষয়টি জানালেন, আপনি মেষযূথ শস্যক্ষেত্রের মালিককে দিয়ে দিন। সে এগুলোর দুধ ও পশম দ্বারা উপকৃত হোক। আর ক্ষেত মেষযূথের মালিককে দিয়ে দিন, সে তাতে চাষাবাদ করে ফসল উৎপাদন করুক। যখন শস্যক্ষেত্র মেষযূথের বিনষ্ট করার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে তখন শস্যক্ষেত্র ক্ষেতের মালিককে আর মেষযূথ মেষযূথের মালিককে ফেরত দিন। দাউদ (আ.) খুশি হয়ে উভয় পক্ষকে ডেকে তা কার্যকর করেন। এভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা হলো এবং সবাই খুশি হলো।

ইসলামের প্রথম যুগের মুসলমান সাহাবায়েকেরাম সব সময় সংঘাত এড়িয়ে সমঝোতা করার পক্ষে ছিলেন। সাহল বিন সাদ (রা.) বলেন, কোবাবাসী বনু আমর বিন আওফ-এর মুসলমানরা পরস্পরে লড়াইয়ে লিপ্ত হলো। একপর্যায়ে তারা পরস্পরের প্রতি পাথর নিক্ষেপ শুরু করল। খবর পেয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) সবাইকে বললেন, 'তোমরা আমাদের সাথে চলো। আমরা তাদের মধ্যে সন্ধি করে দেব।' (বোখারি : ২৬৯৩)।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh