একীভূত হয়ে যাত্রা শুরু করল বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’
- আপডেট সময় : ০২:২৯:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

দেশের বিনিয়োগ পরিবেশকে আরও গতিশীল, সমন্বিত ও বিনিয়োগবান্ধব করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ)-কে একীভূত করে নতুন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’-এর আওতায় গেজেট প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীন এই সংস্থাটি তার প্রথম কর্মদিবসেই কার্যক্রম শুরু করে।
নতুন এই সংস্থাটি তার নতুন ব্র্যান্ড পরিচয়ও উন্মোচন করেছে, যা তিনটি পৃথক প্রতিষ্ঠানের সংমিশ্রণে একটি সমন্বিত জাতীয় বিনিয়োগ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলার বার্তা বহন করে। এই নতুন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিনিয়োগ সহায়তা, নীতি সমন্বয়, অর্থনৈতিক অঞ্চল উন্নয়ন এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের সক্ষমতাকে এক ছাতার নিচে আনা হয়েছে। ফলে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা দেশের যেকোনো প্রান্তের বিনিয়োগ সংক্রান্ত সব তথ্য ও সহায়তা এখন একটি জায়গা থেকেই পাবেন।
বিনিয়োগকারী এবং অংশীদারদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল বিনিয়োগ সেবা, প্রণোদনা ও নীতিগত বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কাজ করার জন্য একটি একক যোগাযোগ কেন্দ্র। ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, এটি কেবল তিনটি প্রতিষ্ঠানের একীভূতকরণ নয়, বরং বিনিয়োগকারীকে কেন্দ্রে রেখে সরকারি সেবা আরও কার্যকরভাবে সাজানোর একটি উদ্যোগ। তিনি আরও বলেন, সক্ষমতাগুলো একত্র হওয়ার ফলে বিনিয়োগ প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব ও জবাবদিহি আরও স্পষ্ট হবে এবং বিনিয়োগকারীরা আগের চেয়ে বেশি সমন্বিত সেবা পাবেন। পূর্বসূরি প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নতুন অধ্যায় শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে।
‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ একটি সমন্বিত জাতীয় বিনিয়োগ কাঠামোর ভিত্তি স্থাপন করেছে। এই আইনের আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, মুক্তবাণিজ্য অঞ্চল এবং অন্যান্য শিল্পাঞ্চলকে এক কাঠামোর অধীনে আনা হয়েছে। এছাড়া লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা, সরকারি সেবার সময়সীমা নির্ধারণ, পিপিপি প্রকল্পের অনুমোদন কাঠামো স্পষ্ট করা এবং অব্যবহৃত সরকারি জমি ও সম্পদ উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের ব্যবসার প্রবৃদ্ধিতে বাধা দূর করা, প্রস্তুতকৃত বিনিয়োগ স্থান খুঁজে দেওয়া এবং সব সেবা একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার কাজ করছে সংস্থাটি। এছাড়া ‘বাংলাবিজ’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ব্যবসায়িক লাইসেন্স ও অনুমতিপত্র অনলাইনে পাওয়ার ব্যবস্থাও অব্যাহত থাকবে। নতুন কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবসায়িক লাইসেন্সিং কাঠামো কার্যকর করার লক্ষ্যে কাজ করছে, যা সরকারের দ্রুত ও পূর্বানুমানযোগ্য ব্যবসা পরিবেশ গড়ার অঙ্গীকারের অংশ।

























