ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশ্ন ফাঁসে এনবিআর কর্মীসহ গ্রেপ্তার ৭ রাউজানে এক অপরাধী চক্র গ্রেপ্তারের পর মাথাচাড়া দিচ্ছে আলম-আজিজ বাহিনী জামায়াত, এনসিপি ও গণঅধিকার নেতাদের তীব্র রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি আরিফিন শুভর সঙ্গে ছবি পোস্ট করে বিয়ের রহস্য উসকে দিলেন চমক ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে যুক্তরাষ্ট্রের ‘মাদার অব অল বম্বস’ হামলার ছক মানুষের প্রকৃত পরিচয়: লালন সাঁইয়ের দর্শনে এক গভীর অনুসন্ধান মুসলিমবিরোধী স্লোগান দেওয়ায় স্পেনকে অর্থদণ্ড ও গ্যালারি নিষেধাজ্ঞা দিল ফিফা সন্ত্রাসবিরোধী আইনে ছাত্রলীগ নেত্রী প্রমা গ্রেপ্তার বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাজ্যের ৮৬ পৃষ্ঠার গাইডলাইন প্রকাশ ভারত থেকে বাংলাদেশে পৌঁছাল ১৮টি নতুন ব্রডগেজ রেলকোচ

বৃটেনের সহায়তা বাজেট হ্রাস: বিপাকে সুন্দরবনের ২০ হাজার মানুষ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৭:১৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বৈদেশিক সহায়তা বাজেট কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে বৃটেনের অর্থায়নে পরিচালিত সুন্দরবনভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রত্যাশিত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং ইতোমধ্যে শুরু হওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃটিশ উন্নয়ন সংস্থা ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন’ ২০২৩ সালে সুন্দরবন এলাকায় এই প্রকল্পটি চালু করে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলমান থাকার কথা থাকা এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ৫৭ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো। প্রকল্পটিতে সৌরবিদ্যুৎ, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, মাছ চাষের প্রযুক্তি এবং ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির আগাম সতর্কতাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে বাজেট সংকটের কারণে চলতি বছর সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমে মাত্র ৩৭ হাজারে নেমে এসেছে।

প্রকল্পটির জন্য ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড পাওয়ার কথা থাকলেও সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এর তুলনায় অনেক কম অর্থ পেয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে তাদের জুনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা পরে তদবিরের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনা বৃটেন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সহায়তা কমানোর বৃহত্তর সিদ্ধান্তের অংশ। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশে বৃটেনের দ্বিপক্ষীয় সহায়তা ৬৬.৭ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে ৩১ মিলিয়ন পাউন্ডে নেমে আসবে, যা অর্ধেকেরও বেশি। এছাড়া বৃটেনের সামগ্রিক বৈদেশিক সহায়তা বাজেট জিএনআইয়ের ০.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৩ শতাংশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ক প্রধান তামান্না রহমান জানিয়েছেন, আকস্মিকভাবে প্রকল্প বন্ধের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তৈরি হওয়া আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুফল টেকসই করার সুযোগ কমে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিনা মণ্ডল সৌর প্যানেল ব্যবহারের মাধ্যমে তার মাছ ধরার আয় মাসে ২-৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪-৫ হাজার টাকায় উন্নীত করেছিলেন। এছাড়া বাসন্তী মণ্ডলের মতো অনেকে সৌরচালিত ধান ভাঙানোর মেশিন পেয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৪০ জন উদ্যোক্তার বিশেষ একটি প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, যেখানে প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছিলেন। এখন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন জানিয়েছে, ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের কাছে নতুন অনুদান খোঁজার চেষ্টা চলছে, কিন্তু কয়েক মাসের নোটিশে প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্তে নতুন অর্থায়ন পাওয়ার সময় মেলেনি। বৃটিশ পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক কমিটির চেয়ার সারাহ চ্যাম্পিয়ন এই সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে বলেছেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিম্নআয়ের দেশগুলোর পাশে থাকার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং এতে লন্ডনের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে। অন্যদিকে, বৃটেনের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) জানিয়েছে, তারা উচ্চমাত্রার অনুদানভিত্তিক সহায়তা থেকে সরে এসে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্বের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

বৃটেনের সহায়তা বাজেট হ্রাস: বিপাকে সুন্দরবনের ২০ হাজার মানুষ

আপডেট সময় : ০৭:১৪:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

বৈদেশিক সহায়তা বাজেট কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে বাংলাদেশে বৃটেনের অর্থায়নে পরিচালিত সুন্দরবনভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু প্রকল্প নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রকল্পের আওতায় থাকা প্রায় ২০ হাজার মানুষ প্রত্যাশিত সহায়তা থেকে বঞ্চিত হবেন এবং ইতোমধ্যে শুরু হওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের অনলাইন প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃটিশ উন্নয়ন সংস্থা ‘প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন’ ২০২৩ সালে সুন্দরবন এলাকায় এই প্রকল্পটি চালু করে। ২০২৮ সাল পর্যন্ত চলমান থাকার কথা থাকা এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ৫৭ হাজার মানুষের কাছে পৌঁছানো। প্রকল্পটিতে সৌরবিদ্যুৎ, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি, মাছ চাষের প্রযুক্তি এবং ঘূর্ণিঝড় ও অতিবৃষ্টির আগাম সতর্কতাব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে বাজেট সংকটের কারণে চলতি বছর সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমে মাত্র ৩৭ হাজারে নেমে এসেছে।

প্রকল্পটির জন্য ২০২৬ সাল পর্যন্ত ২.২ মিলিয়ন পাউন্ড পাওয়ার কথা থাকলেও সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এর তুলনায় অনেক কম অর্থ পেয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিলে তাদের জুনের মধ্যে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, যা পরে তদবিরের মাধ্যমে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এই ঘটনা বৃটেন-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সহায়তা কমানোর বৃহত্তর সিদ্ধান্তের অংশ। ২০২৫-২৬ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে বাংলাদেশে বৃটেনের দ্বিপক্ষীয় সহায়তা ৬৬.৭ মিলিয়ন পাউন্ড থেকে ৩১ মিলিয়ন পাউন্ডে নেমে আসবে, যা অর্ধেকেরও বেশি। এছাড়া বৃটেনের সামগ্রিক বৈদেশিক সহায়তা বাজেট জিএনআইয়ের ০.৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.৩ শতাংশে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশনের জলবায়ু সহনশীলতা বিষয়ক প্রধান তামান্না রহমান জানিয়েছেন, আকস্মিকভাবে প্রকল্প বন্ধের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তৈরি হওয়া আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুফল টেকসই করার সুযোগ কমে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিনা মণ্ডল সৌর প্যানেল ব্যবহারের মাধ্যমে তার মাছ ধরার আয় মাসে ২-৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪-৫ হাজার টাকায় উন্নীত করেছিলেন। এছাড়া বাসন্তী মণ্ডলের মতো অনেকে সৌরচালিত ধান ভাঙানোর মেশিন পেয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৪০ জন উদ্যোক্তার বিশেষ একটি প্রকল্প নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে, যেখানে প্রত্যেকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান পেয়েছিলেন। এখন প্রকল্প বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন।

প্র্যাকটিক্যাল অ্যাকশন জানিয়েছে, ঘাটতি পূরণে বিভিন্ন ফাউন্ডেশনের কাছে নতুন অনুদান খোঁজার চেষ্টা চলছে, কিন্তু কয়েক মাসের নোটিশে প্রকল্প বন্ধের সিদ্ধান্তে নতুন অর্থায়ন পাওয়ার সময় মেলেনি। বৃটিশ পার্লামেন্টের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক কমিটির চেয়ার সারাহ চ্যাম্পিয়ন এই সিদ্ধান্তকে সমালোচনা করে বলেছেন, এটি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিম্নআয়ের দেশগুলোর পাশে থাকার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তোলে এবং এতে লন্ডনের আন্তর্জাতিক সুনাম ক্ষুণ্ন হতে পারে। অন্যদিকে, বৃটেনের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) জানিয়েছে, তারা উচ্চমাত্রার অনুদানভিত্তিক সহায়তা থেকে সরে এসে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্বের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin